মেদিনীপুরের জুনিয়র ডাক্তারদের সাসপেনশন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী, ৮ ঘণ্টা সরকারি পরিষেবার আবেদন

ভবিষ্যতের কথা ভেবে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ কাণ্ডে জুনিয়র ডাক্তারদের থেকে সাসপেনশন তুলে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

Must read

ভবিষ্যতের কথা ভেবে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ কাণ্ডে জুনিয়র ডাক্তারদের থেকে সাসপেনশন তুলে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সোমবার ধনধান্যে চিকিৎসকের সঙ্গে বৈঠকে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, “গাফিলতি অবশ্যই ছিল। সেটা তদন্ত হচ্ছে। জুনিয়র ডাক্তারদের (Junior Doctors) কয়েকজনকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। তাঁদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমি সাসপেনশন তুলে নিচ্ছি।“ একই সঙ্গে সিনিয়র ডাক্তারদের কাছে তাঁর আবেদন, “৮ ঘণ্টা সরকারি পরিষেবা দিন। তারপর প্রাইভেট প্র্যাক্টিস করুন, আমার আপত্তি নেই।“

আরও পড়ুন-হলুদ ধাতুর ফাঁসে এখন অর্থনীতি

মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় ১২ জন চিকিৎসককে সাসপেন্ড করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। রাজ্যের রিপোর্টে অনুযায়ী, ঘটনার দিন আরএমও এবং কল ডিউটিতে যে সিনিয়র ডাক্তাররা ছিলেন তাঁরা ওটিতে যাননি। অপারেশন করা হয়েছিল জুনিয়র ডাক্তারদের নিয়ে। এমনকী, অ্যানাস্থেসিয়াও সিনিয়র ডাক্তার নয়, পিজিটিকে দিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যন্ত্রী। তার পরেই সাসপেন্ড করা হয়েছিল- দিলীপকুমার পাল, অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিমাদ্রী নায়েক, মহম্মদ আলাউদ্দিন, জয়ন্তকুমার রাউত (এমএসভিপি), ডক্টর পল্লবী বন্দ্যোপাধ্যায় (সিনিয়র আরএমও), মৌমিতা মণ্ডল (পিজিটি), ভাগ্যশ্রী কুণ্ডু (পিজিটি), জাগৃতি ঘোষ (সেকেন্ড ইয়ার পিজিটি), পূজা সাহা (ফার্স্ট ইয়ার পিজিটি), সুশান্ত মণ্ডল (ফার্স্ট ইয়ার পিজিটি), মনীশকুমার (ফার্স্ট ইয়ার পিজিটি)-কে।

এদিন চিকিৎসক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, “গাফিলতি অবশ্যই ছিল। সেটা তদন্ত হচ্ছে। জুনিয়র ডাক্তারদের কয়েকজনকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। তাদের রিপোর্টও পুলিশ পেয়েছে। এটাও ঠিক, তাঁরা এখনও পাকাপোক্ত হয়নি। তাদের ওপর ছেড়ে দিয়ে যাওয়াটাও ঠিক হয়নি একতরফা ভাবে। তাই তাঁদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমি সাসপেনশন তুলে নিচ্ছি।“

আরও পড়ুন-চলতি আর্থিক বছরের প্রথম ১০ মাসে আয় ৩৮, ৪০০ কোটি টাকা

একই সঙ্গে সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাক্টিস নিয়মও অনেকটা শিথিল করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে, সিনিয়র ডাক্তারদের কাছে তাঁর আবেদন, “৮ ঘণ্টা সরকারি পরিষেবা দিন। তারপর প্রাইভেট প্র্যাক্টিস করুন, আমার আপত্তি নেই। আমি ২০ কিলোমিটারটা ৩০ কিমি করে দিচ্ছি। কিন্তু ৮ ঘণ্টা সরকারি পরিষেবার সময় দয়া করে চলে যাবেন না। এটা করলে আপনাদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ থাকব।“

আরও পড়ুন-তিন সমবায়ে বিপুল জয় তৃণমূলের

বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যে সকল জুনিয়র চিকিৎসকরা এই ঘটনার জন্য সাসপেন্ড হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে।“ তাঁর কথায়, “চিকিৎসকরা নিজেদের সীমিত সুযোগের মধ্যে কাজ করেন, এবং তাঁদের উপর পূর্ণ দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া সঠিক নয়।” চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, “আপনারা আমাদের পরিবারের সদস্যদের মতো। আপনাদের জন্য সরকার সবসময় সহানুভূতির সঙ্গে পাশে থাকবে। তবে, ভুল হতে পারে, সেই ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।” পরিষেবা উন্নয়নে সমস্ত চিকিৎসকদের পূর্ণ সহযোগিতা দরকার বলে মন্তব্য করেন মমতা।

Latest article