বেছে বেছে মুসলিম ভোটারকে (Muslim voters) টার্গেট করে তাঁদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য বুথ লেভেল অফিসারকে (BLO) চাপ দেওয়ার অভিযোগ ডবল ইঞ্জিন রাজ্য রাজস্থানে। কালেক্টর অফিসে গিয়ে আত্মহত্যা করতে চান বলে জানিয়েছেন জয়পুরের হাওয়া মহল বিধানসভা কেন্দ্রের বুথ লেভেল অফিসার কীর্তি কুমার। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিও (সত্যতা যাচাই করেনি জাগোবাংলা ডিজিটাল)।
রাজস্থানের এক সরকারি স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক কীর্তি কুমার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পরে প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা আপডেট করছেন। তাঁর অভিযোগ জোর করে মুসলিম ভোটারদের (Muslim voters) নাম বাদ দিতে ভারতীয় জনতা পার্টির তরফে ক্রমাগত চাপ দেওয়া হচ্ছে তাঁকে। তিনি বলেন এই কাজের জন্য তাকে ক্ষমতার বাইরে যেতেও বলা হচ্ছে। কুমার জানিয়েছেন একটি বুথে ৪৭০ জন ভোটারের মধ্যে ৪০ শতাংশ মুসলিম ভোটারের নাম বাদ দেয়ার জন্য লাগাতার তার উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে ডবল ইঞ্জিন প্রশাসনের তরফ। আর সহ্য করতে না পেরে এবার কালেক্টর অফিসে গিয়ে আত্মহত্যা করার কথা বলতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে। এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোদির দল যে যে আসলে সংখ্যালঘুদের নাম বাদ তাঁদের দিয়ে নাগরিকত্ব মুছে ফেলতে চাইছে এই ঘটনায় তা ফের প্রমাণিত হল।
আরও পড়ুন- SIR-এর নামে বাংলায় অশান্তি! বিজেপি-কমিশনকে একযোগে আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রীর, শান্তিবজায় রাখার আবেদন
হাওয়া মহল একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ নির্বাচনী এলাকা যেখানে বিজেপি বিধায়ক বালমুকুন্দ আচার্য (স্থানীয়ভাবে “মহারাজ” নামে পরিচিত) ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মাত্র ৯৭৪ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। জয়পুরের দক্ষিণমুখীজি বালাজি মন্দিরের প্রধান পুরোহিত আচার্য সেই সময় থেকেই মুসলিমদের টার্গেট করে বিতর্কিত মন্তব্য করে আসছেন। আগামী নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কায় তাই মুসলিম ভোটারদের বাদ দেওয়ার জন্য বিএলওদের উপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে। এটাই বিজেপির আসল রূপ। অপরিকল্পিতভাবে SIR পরিচালনার পদ্ধতি, অ্যাপের ত্রুটি থেকে শুরু করে অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ আর অত্যাধিক কাজের চাপের অভিযোগে রাজস্থানে কমপক্ষে তিনজন BLO-এর মৃত্যু হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ভিডিওতে, কুমারকে ফোনে বিজেপি কাউন্সিলর সুরেশ সাইনিকে বলতে শোনা যাচ্ছে: “হয়তো আমার পুরো বস্তি থেকে ভোটারদের সরিয়ে দেওয়া উচিত, এতে আপনি এবং মহারাজ আরামে নির্বাচনে জিততে পারবেন।”
সরকারি স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক কীর্তি বলেন, SIR-এর কাজের চাপ ইতিমধ্যেই তাঁর ছাত্রদের উপর প্রভাব ফেলেছে। এখন ঊর্ধ্বতন নির্বাচন কর্মকর্তারা তাকে মাত্র দুদিনের মধ্যে৪৭০টি ফর্ম প্রক্রিয়া করতে বলেছেন। বিয়েরও জানিয়েছেন এই কাজ করতে কম করে ৭৮ ঘণ্টা সময় লাগবে। কিন্তু সময় দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৪৮ ঘণ্টা। এভাবে কাজ করা অসম্ভব। কীর্তির অভিযোগ, “বিজেপি রাজনীতিবিদরা আমাদের হুমকি দিচ্ছেন যে তাঁরা আমাদের সাসপেন্ড করবে। আমি ওনাদের রাজনীতি খুব ভালো করেই জানি। আমার সিনিয়রদের জানিয়েছি যে এটা করতে পারব না। প্রয়োজনে আত্মহত্যা করব।” সোশ্যাল মিডিয়ায় কীর্তির কথা ছড়িয়ে পড়তেই বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছেন বিরোধীরা। ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে যেভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে, রাজনৈতিক স্বার্থে এসআইআর ও কমিশনকে পরিচালনা করছে ভারতীয় জনতা পার্টি, আগামী দিনের দেশের মানুষ তার জবাব দেবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

