প্রতিবেদন : বিজেপির অপশাসনে দেশের বিবেক আজ ঘুমিয়ে পড়েছে। নামেই বেটি বাঁচাও, মহিলারা নীরবে রক্ত ঝরাচ্ছে আর তিলে তিলে ঢলে পড়ছে মৃত্যুর কোলে। বিজেপি শাসিত মণিপুরে অপহরণ আর গণধর্ষণের শিকার হওয়া কুকি-জো তরুণীটি হার মেনেছেন জীবন-যুদ্ধে। এই মৃত্যুর দায় নিতে হবে মোদি-শাহদেরই। মণিপুরবাসীর রক্তের দাগ তাঁদের হাতে লেগে গিয়েছে। পুরো দেশ আজ জানতে চায়— আর কত মেয়ের বলি হলে এই নিষ্ঠুরতা থামবে?
আরও পড়ুন-ভিনরাজ্যে নিহত শ্রমিকের বাড়িতে সাংসদ ইউসুফ
বিজেপি রাজ্যে নির্যাতনের শিকার হয়ে শরীর আগেই ক্ষতবিক্ষত হয়েছিল। অসহ্য মানসিক যন্ত্রণা আর পচা-গলা বিচার ব্যবস্থার অবহেলার সঙ্গে লড়াই করে এতদিন জীবন প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু ২০ বছর তরুণীটি আর পারলেন না। অসম লড়াইয়ে হেরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন কুকি-কন্যা।
পরিবারের কথায়, সেই ভয়াবহ রাতের পর তরুণীটি আর কখনও আগের মতো হাসেননি। শরীরের চোট হয়তো ধরা পড়ছিল, কিন্তু তাঁর আত্মা বয়ে বেড়াচ্ছিল বিশাল পাথরের নীরবতা। ক্ষমতার দাপট আর সরকারের চরম উদাসীনতায় বিজেপির আসল চেহারা প্রকট হয়ে গেল।
এটাই কি বিজেপির আসল ‘আইন-শৃঙ্খলা’? মণিপুর জ্বলেছে, প্রকাশ্য রাস্তায় মেয়েদের নগ্ন করে ঘোরানো হয়েছে, হাজার হাজার জীবন তছনছ হয়ে গিয়েছে। অথচ মোদি সরকার ন্যায়ের বদলে বেছে নিয়েছে লোকদেখানো প্রচার, কাজের বদলে ভাষণ, আর দায়িত্ব নেওয়ার বদলে নীরবতা। তাই তো বিচার পেলেন না মণিপুরের নির্যাতিতা। ৩২ মাস পর মৃত্যুকেই বরণ করে নিতে হল তাঁকে। এই ৩২ মাসে একবারও তাঁর খোঁজ নেননি দেশের প্রধানমন্ত্রী। বিরোধীদের প্রবল চাপে নামকে-ওয়াস্তে একবার অশান্ত মণিপুরে পা রেখেছেন। কিন্তু শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার।
২০২৩ সালের ৪ মে ভয়ঙ্কর অত্যাচারের সাক্ষী ছিলেন মৃত তরুণী। তিনি ও তাঁর পরিবার ইম্ফলের নিউ চেকন কলোনির বাসিন্দা ছিলেন। সেখানে মেইতি গোষ্ঠীর হামলার জেরে তাঁর পরিবারের এক সদস্যকে তাঁদের সামনে খুন করা হয়। এক পুরুষ সদস্য, নির্যাতিতা ও তাঁর মাকে নগ্ন করে রাস্তায় ঘোরানো হয়। পরে দু’জনকেই গণধর্ষণ করা হয়। এখন পর্যন্ত কুকি, মেইতি-সহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের ২৬০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
কমিটি অন ট্রাইবাল ইউনিটি (কোটু) তরুণীর মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করে জানিয়েছে, এটি শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, প্রশাসনিক ব্যবস্থার নির্লজ্জ ব্যর্থতা।

