প্রতিবেদন : অক্সফোর্ডে বিশৃঙ্খলায় ছ’পিস রাম-বামের চক্রান্তের পর্দাফাঁস হয়ে গিয়েছে। রাম-বাম মিলে পরিকল্পনা করে যে সেদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তৃতা মঞ্চে অস্যভতা করতে গিয়েছিল, তা আজ জলের মতো পরিষ্কার। মুখ্যমন্ত্রীর সভা তো বানচাল করতে পারলই না, ধরা পড়ে উপস্থিত দর্শক ও শ্রোতাদের হাতে কানমলা খেয়ে লেজ গুটিয়ে পালায় ছ’পিস চক্রান্তকারী। এখন আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় রাম-বাম শকুনের লড়াই শুরু করেছে, কারা বেশি বাঁদরামি-অসভ্যতা করেছে সেদিন! গন্ডগোল পাকানোয় কারা বেশি সফল! ধিক্কার এই বাম-রামের অশুভ আঁতাতকে।
আরও পড়ুন-ফাঁস হয়ে গেল আর এক বিজেপি ডাক্তারের ‘কীর্তি’
দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে গিয়েছেন একজন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর সভা বানচাল করতে বিদেশের মাটিতেও ষড়যন্ত্র করতে হাজির রাম-বাম! এ-প্রসঙ্গে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, বাম-রাম পরিকল্পনা করে গন্ডগোল পাকাতে গিয়েছিল। উপস্থিত দর্শকরাই তাদের উচিত শিক্ষা দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সভায় কোনও বিঘ্ন ঘটেনি, মুখ্যমন্ত্রী গর্বের সঙ্গে ঐতিহাসিক বক্তৃতা দিয়ে সকলের মন জয় করে এসেছেন। এই ছ’পিস প্রশ্নোত্তরের জন্য অপেক্ষা করেনি, ওদের বাধা দেওয়া, বিশৃঙ্খলা তৈরি করাই ছিল উদ্দেশ্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সৌজন্য দেখিয়ে বলেছেন, ওদের পুলিশ দিয়ে বের করবেন না, এটা গণতন্ত্র। ওরা যদি পোস্টার দেখাতে চায়, ওদের দেখাতে দিন।
তবে সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে বেশিক্ষণ যায়নি চক্রান্তকারীদের পরিচয় সামনে আনতে। কুৎসাকারীরা কয়েকজন যে সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের সমর্থক, তা অচিরেই প্রকাশ হয়ে যায়। ঘটনার দায়ও স্বীকার করে নেয় স্টুডেন্ট ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ার ইউকে শাখা। এবার সামনে এসে পড়ল অক্সফোর্ডে বিশৃঙ্খলায় বাম-রাম যোগ। সেদিন কেলগ কলেজে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তৃতার মাঝে বারবার চিৎকার করে বাধা দেওয়া ব্যক্তিটি যে বিজেপির গোঁড়া সমর্থক, সেটা তাঁর ফেসবুক প্রোফাইল থেকে পরিষ্কার। নাম সুশীল ডোকওয়াল আক্কা। বিজেপির উত্তরীয় গলায় তাঁকে দেখা গিয়েছে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে। বাকিংহাম গেটের তাজ হোটেলে তিনি উত্তরীয় গলায় বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলেন। আর আগেই কুৎসা-চক্রান্তকারীদের মধ্যে সুচিন্তন দাস-সহ তিনজন সক্রিয় এসএফআই সমর্থকের পরিচয় সামনে আসে। প্রকাশিত রজতশুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায় নামে আরও এক বিজেপি কর্মীর পরিচয়। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি জানান, বিজেপির উচ্চ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেই তাঁরা কেলগ কলেজে ‘কর্মসূচি’ আয়োজন করেছিলেন।
সেদিন জোট বেঁধে গন্ডগোল পাকানোর পর সিপিএম আর বিজেপি এখন আবার শকুনের লড়াই শুরু করেছে। এসএফআই ইউকে বলে একটা ইউনিট তৈরি হয়েছে। এসএফআই বলছে, বিক্ষোভটা আমাদের। আবার বিজেপি বলছে, বিক্ষোভটা আমাদের। কুণাল বলেন, ছবিতে দেখা যাচ্ছে যে লোকটা হিন্দু হিন্দু বলে চেঁচাচ্ছিল, তাঁর নাম সুশীল ডোকওয়াল, গলায় বিজেপির উত্তরীয়। একে তো ছ’পিস। তাদের মধ্যে আবার লড়াই। এরা বলছে আমরা বেশি অসভ্য, ওরা বলছে আমরা বেশি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব অসভ্যতা ছক্কা মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর আরও প্রশ্ন, সিপিএমের দম হয় না কেন, বিজেপির নেতারা বাইরে গেলে সেখানে বিক্ষোভ করতে। আবার সিপিএমের নেতারা বাইরে গেলে বিজেপির দম হয় না কেন? এদের কাছে বাংলা বড় নয়, দেশ বড় নয়। এরপরই তাঁর চ্যালেঞ্জ, যাঁরা বাঁদরামি করেছেন, তাঁদের বলছি— যদি বুকের পাটা থাকে, তাহলে কলকাতায় আসার আগে ফেসবুক পোস্ট করে তারপর বিমানে উঠবেন। আমরা আলোচনা করে জানতে চাইব ওই বাঁদরামিটা আপনারা করলেন কেন? আর ফুলের তোড়া, বাংলার মিষ্টি নিয়ে সেদিন হাজির থাকব এয়ারপোর্টে।
আরও পড়ুন-বিজেপি জোটের প্রধানের দুর্নীতি, নালিশ তৃণমূলের
পৃথিবীর ইতিহাসে যা ঘটেনি, এরা সেই নির্লজ্জ কাজটাই করেছে। দেশের সম্মান বিকিয়ে অসভ্যতার চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করে গিয়েছে রাম-বামেরা। নানা উসকানিমূলক পোস্ট, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, চক্রান্ত, রক্তগঙ্গা বইয়ে দেওয়ার হুঙ্কার! তাই এবার সময় এসেছে, ওদের নতুন করে শিক্ষা দেওয়ার। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ও সিপিএমকে উচিত শিক্ষা দিয়ে বাংলা থেকে গণতান্ত্রিকভাবে ছুঁড়ে ফেলে দেবে মানুষ। শূন্য থেকে মহাশূন্যে যাওয়ার রাস্তা নিজেরাই তৈরি করে ফেলল বর্বর সিপিএম। আর এই কাজে তাদের দোসর দেশবিরোধী, বাংলাবিরোধী বিজেপি।