ওয়াকফ : নেপথ্যে কেন্দ্রের বিভেদকামী ভাবনা, গর্জে উঠলেন কল্যাণ

Must read

প্রতিবেদন : ওয়াকফ সংশোধনী বিল (waqf bill) সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক। এই বিল আনার পিছনে রয়েছে মোদি সরকারের বিভেদকামী মানসিকতা। বিজেপি তথা মোদি সরকার হিন্দু-মুসলিম বিভেদ তৈরি করার জন্যই এই বিল নিয়ে এসেছে। ওয়াকফ বিলের তীব্র বিরোধিতা করে বুধবার লোকসভায় গর্জে উঠলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখ্য সচেতক সুপ্রিম কোর্টের বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন লোকসভায় দাঁড়িয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ওয়াকফ বিলের (waqf bill) সার্বিক বিরোধিতা করছে তৃণমূল কংগ্রেস। সবার প্রথমে মনে রাখতে হবে তু হিন্দু বনেগা, না মুসলমান বনেগা— ইনসান কি অওলাদ হ্যায়, ইনসান বনেগা। এর পরেই তাঁর সংযোজন, এই ওয়াকফ বিল দেশের আইনের বিরোধী। এই বিল স্বেচ্ছাচারিতার নামান্তর৷ ৭৫ বছর ধরে দেশে ওয়াকফ আইন বহাল আছে। তা সংশোধনের কোনও প্রয়োজন ছিল না। এই আইনের মাধ্যমে মুসলিমদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার প্রদান করা হয়েছে, সরকার তা কেড়ে নিতে পারে না। সুপ্রিম কোর্টের রায়কে পাল্টে ফেলতে পারে না কেন্দ্রীয় সরকার। সংবিধানের ২৫ এবং ২৬ ধারায় প্রদত্ত সংখ্যালঘুদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার এই প্রচেষ্টা ধর্মের জন্য ভাল বিষয় নয়। স্বশাসিত সংস্থার সম্পত্তি কীভাবে কেড়ে নেওয়ার কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার? এই সম্পত্তির উপরে তাদের কোনও অধিকার নেই। দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোকে ভেঙে চুরমার করে দেবে এই বিল। এইভাবে সংখ্যালঘুদের অধিকারের উপরে আঘাত হানা যায় না। ইন্ডিয়ামে হিন্দু-মুসলিম লাগা দো, এটাই ওদের অভিপ্রায়।

আরও পড়ুন- জীবনদায়ী ওষুধের বর্ধিত দাম প্রত্যাহারের জন্য কেন্দ্রের কাছে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর, ঘোষণা বিক্ষোভ কর্মসূচির

তাঁর কথায়, আমি ধর্মীয় আচার পালন করতে পারি, নাও পারি। তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মৌলিক অধিকারের কোনও সম্পর্ক নেই। ইচ্ছে থাকলে আমি সম্পত্তি দান করতে পারি। হিন্দু মন্দিরে দান করতে পারি, মসজিদে পারি, গির্জায় পারি— যে কোনও জায়গায় দান করতে পারি৷ কেউ আমাকে নিয়ন্ত্রণ করবে কী করে? রাজ্যের আইন ও কেন্দ্রের আইনের মধ্যে কোনও বিভেদ থাকতে পারে না। আইন মানে আইন-সংবিধান কী বলছে সেটা দেখতে হবে৷ এটা গণতন্ত্রের প্রশ্ন৷ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এটা কেন বলছেন না যে, এবার থেকে সংখ্যালঘু-বিষয়ক মন্ত্রী যেটা ভাল মনে করবেন, সেটাই করা হবে, তিনিই সুপ্রিম ক্ষমতার অধিকারী হবেন— তাহলেই তো সব চুকেবুকে যায়!

Latest article