প্রতিবেদন : চুরিবিদ্যা মহাবিদ্যা, যদি না পড়ো ধরা! কিন্তু চুঁচুড়ার বিজেপি নেতা ‘চুরি’ করেছেন এবং ধরাও পড়েছেন হাতেনাতে! আসলে বিজেপি মানেই ‘চুরি ছাড়া কাজ নেই’। দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতারা বাংলার মানুষকে ভাতে মারার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, আর বঙ্গ-বিজেপির চুনোপুঁটি নেতারা মন দিয়েছেন চৌর্যবৃত্তিতে! কিন্তু তাই বলে ট্রেনের চাদর! চুঁচুড়ার বিজেপি নেতা সেই চাদরই ‘চুরি’ করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন হাতেনাতে। তাই নিয়ে বিজেপিকে তীব্র কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছে তৃণমূল। অভিযুক্ত চুঁচুড়ার নেতাকে ‘বিজেপির সম্পদ’ বলে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।
হুগলি বিজেপির লিগাল সেলের নেতা পেশায় আইনজীবী মৃন্ময় মজুমদার রাজ্যের বিরোধী দলনেতা গদ্দার অধিকারীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। জানা গিয়েছে, ট্রেনে করে সিউড়ি যাওয়ার পথে তাঁর বিরুদ্ধে চাদর চুরির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরালও হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে এসি কোচের দায়িত্বে থাকা অ্যাটেনডেন্ট বিজেপি নেতার উদ্দেশে বলছেন, আপনি টিকিট কেটেছেন মানে এই নয় যে চাদরটা ব্যাগে ভরে নিতে পারেন! এরপরেই মৃন্ময় মজুমদারকে ‘সরি সরি’ বলতে শোনা গিয়েছে।
আরও পড়ুন-ঘোষণার ২০ ঘণ্টার মধ্যে মামলা, সুপ্রিম-লড়াইয়ে তৃণমূল
এই ঘটনা নিয়ে বিজেপিকে তীব্র কটাক্ষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ লিখেছেন, চুঁচুড়ার নেতা মৃন্ময় মজুমদার বিজেপির সম্পদ। ট্রেনের চাদরটা ঝাড়তেও বাদ রাখছে না। বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে সমাজমাধ্যমে তৃণমূলের বক্তব্য, একদিকে মোদি আর গদ্দারের সঙ্গে ছবি, অন্যদিকে চুরি! এটাই বিজেপির রাজনীতি। ভিভিআইপি সেলফি থেকে কম্বল চুরি, এটাই বিজেপির আসল চরিত্র। যারা চোর-মুক্ত ভারতের কথা বলে তারাই চুরি করছে! মিথ্যা কথা, ঔদ্ধত্য আর চুরিতে গা ভাসিয়েছে তারা।
তৃণমূল মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর কটাক্ষ, খুব শিগগিরই ওই বিজেপি নেতা বড় প্রোমোশন পাবেন। কারণ, যে যত বড় চোর, বিজেপিতে তার তত বড় প্রোমোশন! বিজেপিই একসময় যাদের চোর বলেছে, তাদের কাউকে বিরোধী দলনেতা বানিয়েছে, কাউকে কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বানিয়েছে, কাউকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বানিয়েছে। আমি নিশ্চিত, বিজেপির এই চাদর-চুরি-করা নেতা আগামীতে হয়তো বিধানসভার টিকিটও পেয়ে যাবেন। এই দক্ষতার জন্যই হয়তো টিকিট দেওয়া হবে যাতে উনি আরও বড় চুরি করতে পারেন!

