জাতীয়

ছক ছিল সিরিয়াল বিস্ফোরণের, দিল্লিকাণ্ডের তদন্তে জইশের ‘হোয়াইট-কলার’ জঙ্গি মডিউলের তথ্যফাঁস

নয়াদিল্লি: দিল্লি বিস্ফোরণ (Delhi Blast) মামলার তদন্তে জইশ-সম্পর্কিত ‍‘হোয়াইট-কলার’ জঙ্গি মডিউলের একটি মারাত্মক ষড়যন্ত্রের তথ্য ফাঁস হয়েছে। এই মডিউলটি ভারতের একাধিক শহরে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা করেছিল। তদন্তকারী সংস্থাগুলির সূত্রে উন্মোচিত হচ্ছে ১০/১১ বিস্ফোরণের নেপথ্যের একাধিক ষড়যন্ত্র। ইতিমধ্যেই এক অভিযুক্ত স্বীকার করেছে যে, ২০২৩ সালেই এই হামলার ছক কষা হয়েছিল।

লালকেল্লার কাছে আই-২০ গাড়িতে ঘটা বিস্ফোরণে (Delhi Blast) প্রায় ১৫ জন প্রাণ হারান। তদন্তকারীদের মতে, বৃহত্তর ষড়যন্ত্রটি ছিল একাধিক বিস্ফোরণের, তবে লালকেল্লা সংলগ্ন বিস্ফোরণটি ছিল একটি আকস্মিক বিস্ফোরণ। আগে থেকে পরিকল্পনা না করে গ্রেফতারির আতঙ্কে তড়িঘড়ি ঘটানো। এই ঘটনায় আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী উমর মহম্মদের সহযোগী ডাঃ মুজাম্মিল শাকিল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন যে, তিনি দুই বছর ধরে বিস্ফোরণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এই দুই বছরে তিনি বিস্ফোরক, রিমোট এবং অন্যান্য বোমা তৈরির সামগ্রী সংগ্রহ করছিলেন। সূত্র জানিয়েছে, মুজাম্মিলকে ইউরিয়া এবং অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট কেনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যা অন্যান্য উদ্বায়ী পদার্থের সঙ্গে মিশিয়ে বাইরে থেকে বিস্ফোরণ ঘটানো যায়। মুজাম্মিল হরিয়ানার গুরগাঁও এবং নুহ থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা দিয়ে ২৬ কুইন্টাল এনপিকে সার কিনেছিলেন। অন্যান্য বিস্ফোরক সামগ্রী নুহ থেকে এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ ফরিদাবাদের দুটি ভিন্ন বাজার থেকে কেনা হয়েছিল। রাসায়নিকগুলিকে স্থিতিশীল পরিবেশে সংরক্ষণের জন্য ওই ডাক্তার একটি ডিপ ফ্রিজারও কিনেছিলেন। উমর ও তার সহযোগী বিস্ফোরকগুলিতে ব্যবহারের জন্য সার প্রক্রিয়াকরণ এবং রাসায়নিক ও অন্যান্য উপাদান সংগ্রহের দায়িত্বে ছিল। ইউরিয়া গুঁড়ো করে রাসায়নিক প্রস্তুত করার জন্য মুজাম্মিল যে ময়দার কলটি ব্যবহার করেছিলেন, সেটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন-কৈলাসের প্রচেষ্টায়-অভিষেকের হস্তক্ষেপে তৈরি হবে বালির ৭৬টি রাস্তা

দিল্লি বিস্ফোরণের ষড়যন্ত্রের জন্য অর্থায়ন স্বয়ং অভিযুক্তরাই করেছিল বলে জানা গেছে। জঙ্গি মডিউলের সদস্যরা বিস্ফোরক সামগ্রী কেনার জন্য ২৬ লাখ টাকা নগদ সংগ্রহ করেছিল। এই অর্থ উমর-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী নিজেই ২ লাখ টাকা দিয়েছিল। মুজাম্মিল আরও ৫ লাখ টাকা দেন এবং মডিউলের অন্য সদস্য আদিল রাথার ও মুজাফফর রাথার যথাক্রমে ৮ লাখ এবং ৬ লাখ টাকা দিয়েছিল। এছাড়া, লখনউ থেকে শাহিন সাইদ ৫ লাখ টাকা জোগান দেন। সূত্র আরও নিশ্চিত করেছে যে আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে টাকা নিয়ে উমর এবং মুজাম্মিলের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। এরপর উমর মুজাম্মিলকে তার রেড ইকোস্পোর্ট গাড়িটি দেয়, যা পরে ফরিদাবাদ থেকে উদ্ধার করা হয়। উমর বিস্ফোরণের সময় নিজেকে উড়িয়ে দিলেও, অন্যান্য অভিযুক্তরা হেফাজতে আছে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারা সবাই ফরিদাবাদ-ভিত্তিক আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করত, যা বর্তমানে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তদন্তের আওতায় রয়েছে।

তদন্তকারীদের বিশ্বাস, নানা তথ্য থেকে প্রমাণিত হয় যে এটি ছিল বহু-স্থান জুড়ে বিস্ফোরণ ঘটানোর একটি সুসংগঠিত ষড়যন্ত্র। অভিযুক্তরা বিভিন্ন স্থানে একই সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা করেছিল। একাধিক বিদেশি যোগসূত্র এবং দেশিয় মডিউল সামনে আসার পর এই ষড়যন্ত্র এখন তদন্তকারী সংস্থাগুলির নিবিড় নজরদারিতে রয়েছে।

Jago Bangla

Recent Posts

স্মৃতিদের পাঁচে পাঁচ

বরোদা, ১৯ জানুয়ারি : ডব্লুপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর স্বপ্নের দৌড় অব্যাহত। সোমবার গুজরাট জায়ান্টসকে ৬১…

31 minutes ago

দিনের কবিতা

‘জাগোবাংলা’য় (Jago Bangla) শুরু হয়েছে নতুন সিরিজ— ‘দিনের কবিতা’ (poem of the day)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের…

39 minutes ago

মঙ্গলবার ডায়মন্ড হারবারে সেবাশ্রয়-২ পরিদর্শনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

মানুষের ছোট ছোট অসুবিধাগুলিকে দূর করে তাদের জীবন সহজ করা। সেবার মধ্যে দিয়ে কঠিন বাধা…

1 hour ago

সত্যিই আসন্ন মোদির বিদায়বেলা? বয়স নিয়ে খোঁচা গড়করির

নাগপুর : এবারে কি সত্যিই ঘনিয়ে এল মোদির বিদায়বেলা? দলের অন্দর থেকেই সুস্পষ্ট বার্তা, অনেক…

11 hours ago

জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াই, কিশতওয়ারে শহিদ জওয়ান

শ্রীনগর : সেনাবাহিনীর (Indian Army) সঙ্গে কিশতওয়ারের জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের গুলির লড়াই শুরু হয়েছিল…

11 hours ago

ট্রাম্পের শুল্কতোপের মুখেও অনড় ইউরোপের ঐক্য, পাল্টা পরিকল্পনা

ওয়াশিংটন: ইউরোপের দেশগুলির উপর শুল্কের ভার চাপিয়ে গ্রিনল্যান্ড (Greenland_America) দখল করার কৌশল নিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট…

11 hours ago