ওয়াকফ বিলের তীব্র বিরোধিতার রণকৌশল চূড়ান্ত, তৃণমূলের নেতৃত্বে আজ সংসদে মোদি সরকারকে কঠিন চ্যালেঞ্জ

এবার গায়ের জোরে ওয়াকফ বিল পাশ করাতে চাইছে সরকার৷ এদের মূল লক্ষ্য হল, যেনতেন প্রকারেণ নিজেদের রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা পূরণ করা৷

Must read

প্রতিবেদন : ওয়াকফ সংশোধনী বিলের বিরোধিতা করে বুধবার মোদি সরকারকে সংসদে রীতিমতো কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেবে তৃণমূল। গোটা বিরোধী শিবির এ-ব্যাপারে জোট বেঁধেছে তৃণমূলের নেতৃত্বে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিরোধীরা এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়ে ওয়াকফ সংশোধনী বিল নিয়ে রণকৌশল স্থির করেন৷ এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যসভার দলের মুখ্য সচেতক সাংসদ নাদিমূল হক। দুই প্রবীণ সাংসদের প্রস্তাবে সিলমোহর দিয়ে বিরোধী শিবির ওয়াকফ বিলের বিরুদ্ধে সংসদীয় যুদ্ধে ‘অল আউট’ আক্রমণে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷
এদিকে বিজনেস অ্যাডভাইসারি কমিটিতে বিরোধীদের মতামত খোলাখুলিভাবে জানানোর সুযোগ না দেওয়ার প্রতিবাদে এদিন বৈঠক থেকে ওয়াকআউট করেন তৃণমূল-সহ অন্যান্য বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা। মোদি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে তৃণমূলের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, সংসদকে একটা তামাশাতে পরিণত করেছে মোদি সরকার। নিজেদের স্বার্থে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে। বিরোধীদের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলতেই দেওয়া হচ্ছে না। বলতে দেওয়া হচ্ছে না বিরোধীদের। আজ আমরা ওয়াকআউট করেছি। সংসদে যদি আমরা বলতে না পারি তাহলে বলব কোথায়? এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আমাদের দলে আলোচনা করে অন্য সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিএ কমিটিতে যাওয়ার দরকার আছে কিনা ভেবে দেখব। ওয়াকফ নিয়ে আলোচনার ব্যাপারে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ওরা ৪ ঘণ্টা আলোচনা চেয়েছিল, আমরা চেয়েছিলাম ১২ ঘণ্টার আলোচনা। এখন বলছে ৮ ঘণ্টা। দেখা যাক কী হয়।
বুধবার লোকসভায় এই বিলটি পাশ করানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে মোদি সরকার৷ অগণতান্ত্রিক এবং অসাংবিধানিক এই বিলটি পাশ করানোর অপচেষ্টার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে তৃণমূল এবং অন্যান্য বিরোধীরা। বুধবার মোদি সরকারের তরফে লোকসভায় বিলটি পেশ করা মাত্রই প্রতিবাদে সোচ্চার হবেন তৃণমূল কংগ্রেসের দুই সাংসদ মুখ্য সচেতক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আবু তাহের খান৷ কীভাবে সংখ্যালঘুদের মৌলিক অধিকার খর্ব করতে উদ্যত হচ্ছে মোদি সরকার, আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে সেই তথ্য তুলে ধরে মোদি সরকারের মুখোশ খুলে দেবেন এই দুই সাংসদ৷ এর পরে লোকসভায় যদি ভোটাভুটি হয়, তাহলে তৃণমূল সাংসদরা বিলের বিরুদ্ধেই ভোটদান করবেন, জানানো হয়েছে দলের তরফে৷ ইতিমধ্যেই দলের তরফে হুইপ জারি করে বুধবার সব সাংসদের লোকসভায় উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে৷ তৃণমূলের দেখানো পথে হেঁটেই লোকসভায় বিলটির বিরুদ্ধে সোচ্চার হবেন বিরোধী শিবিরের অন্যান্য সাংসদরাও৷ মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও ব্রায়ান বলেন, ওয়াকফ সাংবিধানিক বিষয়, কিন্তু ওয়াকফ সংশোধনী বিলটি পুরোপুরি অসাংবিধানিক৷ আমরা এই বিলটির তীব্র বিরোধিতা করব৷

আরও পড়ুন-এনআইএ নয় কেন, প্রশ্ন তৃণমূলের, গুজরাতে বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, মৃত ১৭

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুদিন দেশের বাইরে থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী৷ ব্যাঙ্ককের বিমস্টেক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা তাঁর৷ প্রধানমন্ত্রীর দেশ ছাড়ার আগেই বুধবার লোকসভায় ওয়াকফ সংশোধনী বিল পাশ করিয়ে নিতে মরিয়া শাসক শিবির৷ এর জন্য অগণতান্ত্রিক পদ্ধতি গ্রহণ করতেও পিছপা হচ্ছে না শাসক শিবির৷ এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে তৃণমূল-সহ গোটা বিরোধী শিবির৷ মঙ্গলবার লোকসভার বিষয় উপদেষ্টা কমিটি বা বিএসির বৈঠকেও শাসক-বিরোধী সংঘাত দেখা দিয়েছে, যেখানে শাসক শিবিরের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বৈঠক থেকে ওয়াক আউট করেছে তৃণমূল-সহ গোটা বিরোধী শিবির৷ সরকারকে নিশানা করে তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান সাংসদ, লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এদিন বিএসি বৈঠক থেকে ওয়াক আউট করতে বাধ্য হয়েছি আমরা৷ আমাদের রাজ্যের বকেয়া নিয়ে মোদি সরকার কোনও আলোচনা চায় না, এপিক কার্ড নিয়ে আলোচনাও করা হয়নি৷ এবার গায়ের জোরে ওয়াকফ বিল পাশ করাতে চাইছে সরকার৷ এদের মূল লক্ষ্য হল, যেনতেন প্রকারেণ নিজেদের রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা পূরণ করা৷

Latest article