সংবাদদাতা, বীরভূম : ঐতিহ্যবাহী কবি জয়দেবের পুণ্যভূমিতে আজ থেকে শুরু হল জয়দেব মেলা। মকরস্নানের দিন থেকেই শুরু হয়ে যায় গানবাজনা, মেলা, উৎসব। কেন্দুলি গীতগোবিন্দ রচয়িতা লক্ষ্মণসেনের সভাকবি জয়দেবের জন্মস্থান। লক্ষ্মণসেনই এখানে রাধামাধব মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। বীরভূম-বর্ধমান জেলার সীমান্ত বরাবর বয়ে চলা অজয় নদের ধারে কেন্দুলি গ্রাম। এগুলো থাকলেও কেন্দুলির সব চেয়ে বড় পরিচয় পৌষ সংক্রান্তির মেলা।
আরও পড়ুন-তৃণমূলের চাপে নত মোদি সরকার জল জীবনের বকেয়া অর্থ মেটাবে দিল্লি
প্রাচীনত্ব ও জনপ্রিয়তায় এ মেলা আজ দেশের অন্যতম প্রধান মেলা। সমাগম হয় লক্ষাধিক মানুষের। অজয়ে মকরস্নান উপলক্ষেই এই মেলার সূচনা হয়েছে সুদূর অতীতে। পরে তার সঙ্গে জয়দেবীয় ঐতিহ্যধারা যুক্ত হয়ে হয়েছে জয়দেবের মেলা। অজয় নদে সংক্রান্তির দিনে পুণ্যার্থীরা স্নান করেন। এই সময় নদীতে জল কম থাকে বলে প্রশাসন বালি তুলে জল জমানোর ব্যবস্থা করে। পুরুষ ও মহিলাদের আলাদা আলাদা ঘাট বানানো হয়। জয়দেব মেলা মানেই বাউল গানের আসর এবং কীর্তন। মেলায় প্রায় ৩০০টি আখড়া থাকে। পাশের রামপুর ফুটবলমাঠেও চলে মেলা। দেশ-বিদেশ থেকে বাউল ও ফকিররা আসেন গান শোনাতে। মেলায় বিভিন্ন ধরনের লোকশিল্প, হস্তশিল্প ও মাটির তৈরি জিনিসের সম্ভার থাকে। এই ঐতিহ্যবাহী মেলার উদ্বোধন করেন রাজ্য গ্রামীণ উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান অনুব্রত মণ্ডল, বীরভূম জেলা পরিষদ সভাধিপতি কাজল শেখ, জেলাশাসক ধবল জৈন। পুলিশ সুপার শ্রী আমনদীপ জানিয়েছেন, মেলায় আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে সবরকমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাদা পোশাকের পুলিশ ও ৩০০টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

