সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি ও কোচবিহার : এসআইআর-আতঙ্কে বাড়ছে মৃত্যুমিছিল। শুনানির নোটিশ পেয়ে একইদিনে এল তিন মৃত্যুর খবর। ঘটনাস্থল শিলিগুড়ি-সংলগ্ন ফুলবাড়ি ডাবগ্রাম, কোচবিহারের হলদিবাড়ি এবং দিনহাটার। মঙ্গলবার সকালে ডাবগ্রামের বাড়ি থেকেই ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় মহম্মদ খাদেমের। পরিবারের অভিযোগ, তালিকায় নাম ছিল না। শুনানির নোটিশ পাওয়ার পর থেকেই মানসিক চাপে ছিলেন খাদেম। ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্কে ভুগছিলেন। অবশেষে আত্মহত্যা। খবর পাওয়ামাত্রই এদিন মৃতের বাড়িতে যান শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব। শোকার্ত পরিজনদের পাশে থাকার কথা দেন। এদিকে, এসআইআর-আতঙ্কে আত্মহত্যা করেন কোচবিহারের হলদিবাড়ির সুভাষ বর্মন (৪৫)। বাড়ির পিছনে বাঁশঝাড় থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পেশায় গৃহশিক্ষক ছিলেন সুভাষ। তাঁর বাবা শশীকান্ত বর্মনের অভিযোগ, ছেলের স্ত্রীর এসআইআর নথিতে বাবার নামের জায়গায় দাদার নাম থাকায় ছেলে কিছুদিন থেকে উদ্বিগ্ন ছিল। এই চিন্তা থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পরিবারের। বিএলও মৌসুমি পারভিন এ-ব্যাপারে জানান, সুভাষ বর্মনের নিজের নামে কোনও সমস্যা ছিল না। সমস্যা ছিল তাঁর স্ত্রী পরিচয়ের ক্ষেত্রে। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায়, বাবার নামের জায়গায় দাদার নাম ছিল। তিনি বিষয়টি সমাধানযোগ্য বলে আশ্বস্ত করলেও ওই গৃহশিক্ষক এই বিষয় নিয়ে গভীর মানসিক চাপে ছিলেন। কোচবিহারের সাংসদ জগদীশচন্দ্র বর্মা বসুনিয়া ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান। একই আতঙ্কে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় হলদিবাড়ির মলিন রায়ের। পরপর এই মৃত্যুর খবরে কমিশনের অমানবিকতা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
আরও পড়ুন- বীরভূমে ১১তে ১১ টার্গেট: রামপুরহাটে দাঁড়িয়ে বিজেপি নেতাদের কীর্তি ফাঁস অভিষেকের

