কোথায়? জিনাতের (Tigress Zeenat) চিন্তায় ঘুম ছুটেছে বনকর্মীদের। খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা বাঘিনী জিনাতকে। তাকে ধরতে বনকর্মীদের একাধিক ফাঁদ। কিন্তু কোথায় সে! ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফাঁদ পেতে রাখা হয়েছে, সঙ্গে ৮টি ট্র্যাপ ক্যামেরা, ঘুমপাড়ানি গুলি করা দুই শুটারও তৈরি কিন্তু বাঘিনীর দেখা নেই! বুধবার সকাল থেকে বাঘিনীকে বন্দি করার অনেক চেষ্টা করা হয় সেই রাত পর্যন্ত কিন্তু এবারও তাকে বন্দি করা যায়নি। বৃহস্পতিবার বান্দোয়ান দফতরের অতিথি আবাসে সিমলিপাল ব্যাঘ্র প্রকল্প কর্তৃপক্ষর সঙ্গে রাজ্যের বন বিভাগ বৈঠকে বসে জিনাতকে পাকড়াও করতে নয়া ফন্দি ঠিক করা হতে পারে। পাতা হতে পারে নতুন ফাঁদ। তবে প্রশ্ন সেই ফাঁদে কি পা দেবে জিনাত?
তিন বছরের বাঘিনী (Tigress Zeenat) কয়েকদিন ধরে বেলপাহাড়ি জঙ্গল ঘুরে রবিবার সকালে ঝাড়গ্রাম পেরিয়ে পুরুলিয়ায় বান্দোয়ান ঢুকে পড়ে। বনদফতরের তথ্য অনুসারে তার যে অবস্থান লক্ষ্য করা যায় সেটা হল কংসাবতী দক্ষিণ বন বিভাগের বান্দোয়ানের রাইকা পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে জিনাত। মহারাষ্ট্রের তাডবা জঙ্গল থেকে যমুনা এবং জিনাত নামে দু’টি বাঘিনীকে ওড়িশার সিমলিপাল ব্যাঘ্রপ্রকল্পে আনা হয়েছিল। এদের কোয়ারেন্টাইন রাখা হয়েছিল। তাদের ধীরে ধীরে ছাড়ার পালা চলছিল। ব্যাঘ্র প্রকল্পে তাদের গতিবিধি লক্ষ্য করা হচ্ছিল বহুদিন ধরে। কিন্তু হঠাৎই রাজ্যের সীমানা পেরিয়ে অন্য রাজ্যে ঢুকে পড়ে তারা। তবে দুজনেরই রেডিও কলার রয়েছে। অ্যান্টেনা রয়েছে ওড়িশার বনকর্মীদের হাতে। তবে রাজ্যের বনদফতর জানিয়ে দিয়েছে যে, রেডিও কলারের তথ্য অনুসারে আপাতত যমুনা ওড়িশার বালা শহরের জঙ্গলে রয়েছে।
আরও পড়ুন- ফের পুলিশের জালে ১৭ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী
জিনাতকে ধরার জন্য বনকর্মীরা খাবার দিয়ে ফাঁদ পেতেছে। বাঘিনীর ডিনারে ছাগল, গরু-সহ অনেক কিছুই রাখা হয়েছে, যাতে এগুলিকে খেতে এসে বনকর্মীদের হাতে ধরা পড়ে। বান্দোয়ান, কংসাবতী সাব ডিভিশনের অন্তর্গত তিনটি রেঞ্জ- বান্দোয়ান ১, বান্দোয়ান ২ এবং যমুনা রেঞ্জের আধিকারিকরা জিনাতের খোজে নেমেছেন। এছাড়া পুরুলিয়ার বড়বাজার এবং মানবাজার ২ রেঞ্জের আধিকারিক ও টিমকেও নামানো হয়েছে। জিনাতে লোকেশন ট্র্যাক করার জন্য কেশরার জঙ্গলে আনা হয়েছে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। বান্দোয়ানে পৌঁছেছেন সিমলিপালের টাইগার রিজার্ভ থেকে ট্রাঙ্কুলাইজার বিশেষজ্ঞরা, রয়েছেন পুরুলিয়ার ডিএফও অঞ্জন গুহ।
রবিবার থেকে রাইকা পাহাড়ে ৪ দিন পার হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে ওই ব্যাঘ্র প্রকল্প কর্তৃপক্ষ সহ অরণ্য ভবনের। এদিকে গতকাল সন্ধে ছ’টার পর থেকেই ঝিরঝিরে বৃষ্টি শুরু হয়। যা জিনাতের পক্ষে আরও অনুকূল হয়ে বাঘবন্দি অভিযানে প্রতিকূলতার মুখে পড়ে সিমলিপাল ও সুন্দরবন প্রকল্প কর্তৃপক্ষের আধিকারিকরা।