প্রতিবেদন : কমিশনের সার-শুনানিতে (SIR_Election Commission) এখনও হেনস্থা-হয়রানি অব্যাহত। কমিশনের নির্দেশিকা সত্ত্বেও মঙ্গলবার নৈহাটিতে এসআইআরের শুনানিতে হাজিরা দিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক বৃদ্ধার। এদিকে আবার ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি’র নামে প্রায় এক কোটি মানুষকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে, কিন্তু এত মানুষের শুনানি শেষ করার সময় কোথায়? ডেডলাইন পয়লা ফেব্রুয়ারি, শুনানি শেষ হবে তো? প্রশ্ন তুলে ফের কমিশনের কাছে চারদফা দাবি জানাল তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে ডেপুটেশন দিল তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। এদিন সন্ধ্যায় তৃণমূলের ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল সিইও-র সঙ্গে দেখা করে ৪ দফা দাবি-সহ সহ ডেপুটেশন তুলে দেয়। সিইও-সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য সাংসদ পার্থ ভৌমিক জানিয়েছেন, আমরা দু-তিন অপেক্ষা করব। নির্বাচন কমিশনের তরফে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় কিনা দেখব। লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি নিয়ে কোনও সদুত্তর না পেলে বাংলার মানুষের জন্য দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে পদক্ষেপ নেব।
আরও পড়ুন-আউট্রাম ঘাটে আজ মুখ্যমন্ত্রী
তৃণমূলের দাবি, লজিক্যাল ডিসক্রেপ্যান্সি নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য-তালিকা কারও কাছে নেই। বিপুল সংখ্যক মানুষকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। একেকটা বিধানসভায় যদি ৪০ হাজার মানুষকে শুনানিতে ডাকা হয়, তাহলে ১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে হিয়ারিং শেষ করা সম্ভব? কমিশনের (SIR_Election Commission) কাছে লোক আছে ২০ জন। একেকজন ১০০ জনের শুনানি করলেও দিনে ২ হাজার! বাদবাকি কী হবে? কমিশন আগে বলেছিল, যাদের ছোটখাটো ভুলত্রুটি আছে, তাঁদের আসতে হবে না। এখন দেখা যাচ্ছে, সবাইকেই ডাকা হচ্ছে! এর শেষ কোথায়? ডেপুটেশনে তৃণমূলের আরও বক্তব্য, যাঁরা দীর্ঘদিন বাংলায় থাকেন অথচ কোনও কাগজপত্র নেই, তাঁরাও যাতে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন— তা নিয়ে কমিশন কী ভেবেছে জানতে চেয়েছে প্রতিনিধি দল। শুধুমাত্র ঠিকঠাক কাগজ না থাকায় যাতে দীর্ঘদিনের বৈধ ভোটাররা বাদ না পড়েন, তার জন্য কমিশনেরই তদারকিতে কোনও বিকল্প ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার নৈহাটিতে সার-শুনানিতে গিয়ে মৃত অবসরপ্রাপ্ত রেলকর্মী রত্না চক্রবর্তীর নাম, ছবি-সহ প্ল্যাকার্ড গলায় ঝুলিয়ে এদিন সন্ধ্যায় সিইও দফতরে হাজির হয় তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। সাংসদ পার্থ ভৌমিক ছাড়াও ছিলেন রাজ্যের চার মন্ত্রী ডাঃ শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শিউলি সাহা ও পুলক রায়। সিইও-র হাতে ডেপুটেশন তুলে দিয়ে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সাংসদ পার্থ ভৌমিক জানান, আমরা বলেছিলাম অসুস্থ কিংবা বয়স্কদের বাড়িতে গিয়ে শুনানি হোক। কমিশন অর্ডার দিয়েছে, কিন্তু বিএলও স্তরে সেই নির্দেশ বাস্তবায়িত হচ্ছে না। যার ফলে মৃত্যু বাড়ছে। ওঁরা আশ্বাস দিয়েছেন, বিএলওদের পুনরায় নির্দেশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি, রেডিও-টিভিতেও প্রচার করা হবে। পাশাপাশি, পরিযায়ী শ্রমিক কিংবা পড়ুয়াদের ভার্চুয়াল শুনানির দাবিতেও মৌখিক আশ্বাস দিয়েছেন সিইও। জানিয়েছেন, বিবেচনা করে দেখা হচ্ছে!

