লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে বিজেপি নেতার তালিবানি ফতোয়া! জবাব দেবেন মহিলারাই, একহাত তৃণমূলের

Must read

বিজেপি নেতা কালীপদ সেনগুপ্তের তালিবানি ফতোয়ার জবাব দেবেন বাংলার মহিলারাই। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar) পাওয়া মহিলাদের নাকি ঘরে বন্দি করে রাখতে হবে! এমনই নিদান দিয়েছেন এই বিজপি নেতা। এটাই বিজেপির আসল নারী-বিদ্বেষী রূপ। যারা মুখে ‘নারী শক্তি’র কথা বলে, তারাই বাংলার মহিলাদের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করতে চায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতায়নকে ভয় পেয়ে বিজেপি এখন নারীদের ঘরবন্দি করার জঘন্য নিদান দিচ্ছে। এর জবাব গণতান্ত্রিক উপায়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা।

রবিবার সাংবাদিক সম্মেলনে আরও একবার বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন শশী পাঁজা। বলেছেন, “নারী বিরোধী বিজেপি। মহিলাদের ভালো হোক তা চায় না। পশ্চিম মেদিনীপুরে দাসপুরে দাঁড়িয়ে বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য কালীপদ সেনগুপ্ত বলছেন, যে মহিলারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার এখনও পাচ্ছেন, তাঁরা ভোট দিতে যাবেন জোড়া ফুলে। তাঁদের স্বামীরা তাঁদের ঘরে বন্দি করে রাখুন। ভোটটা জোড়াফুলে নয়, পদ্মফুলে পড়া চাই। এর আগেও কোচবিহারের এক বিজেপি নেত্রী বলেছিলেন বাংলায় মহিলাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar) বন্ধ হয়ে যাক। কালীপদ সেনগুপ্ত একধাপ এগিয়ে গিয়েছেন। রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া পার্টি বিজেপি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে বিব্রত।”

আরও পড়ুন- পরিষেবায় একই ‘ভুল’! শাহর সাংসদক্ষেত্র গান্ধীনগরে জল খেয়ে হাসপাতালে শতাধিক

শশী পাঁজার আরও সংযোজন,”আমরা এতদিন দেখেছি বেটি বাঁচাও বেটি পড়াওয়ের মধ্য দিয়ে বেটি বলৎকারীদের বাঁচানো হচ্ছিল। উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ যেখানে বিজেপির সরকার আছে সেখানকার মহিলারা ঈর্ষান্বিত, বাংলায় মহিলাদের পক্ষে কাজ হয়, কিন্তু বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে মহিলাদের উপর অত্যাচার হয়, তাঁদের বঞ্চিত করা হয়। বিহারেও প্রকল্পর নামে বিজেপি প্রতারণা করেছে। বিজেপির নেতার বারবার বলেছেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার যারা পাচ্ছেন তাঁরা নাকি ভিক্ষা পাচ্ছেন। তাঁরা এইভাবে চিরকাল মহিলাদের অপমান করেছেন। মহিলারা বিভিন্ন নির্বাচনগুলিতে যখন জবাব দিচ্ছেন গণতান্ত্রিক উপায়ে তখন বিজেপি বলছে গণতন্ত্রের পথটাই বন্ধ করতে হবে। এতে বাংলার মহিলারা বিন্দুমাত্র ভয় পায়নি। ভয় পেয়েছে বিজেপি।”

রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বিজেপিকে একহাত নিয়ে বলেন,”আগে বিজেপি নেতৃত্ব বলেছিলেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নেবেন না, এখন বলছেন নিলে বন্দি করে রাখুন স্ত্রীকে ঘরে। এঁরা মহিলা বিরোধী। এঁরা ঘৃণ্য। ধিক্কার জানাই। বাংলার লক্ষ্মীরা এর জবাব দেবে। গণতন্ত্রের মধ্য দিয়ে এর জবাব দেওয়ার জন্য তৈরি হয়ে আছে।”

তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ বলেন,”বিজেপি মহিলাদের নিরাপত্তা-সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ। এর আগেও আমরা দেখেছি বিজেপির নেতারা ধর্ষকদের গলায় মালা পরিয়ে বরণ করে নিচ্ছেন। আপনারা চেষ্টা করতেই পারেন কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দরুন যে ক্ষমতায়ন বাংলার মহিলাদের হয়েছে যে কোনও দরজা কীভাবে ভাঙতে হয় তা তাঁরা জানেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথা দিয়ে কথা রাখেন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দেবেন বলেছিলেন। তাঁরা দিয়েছেন। আগামিদিনেও বাংলার মহিলাদের পাশে থাকবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলে দলে বেঁধে জোট মা বোনেরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেবেন ভোট।”

Latest article