মুম্বই: ওয়াংখেড়েতে মুম্বই-কলকাতা (KKR) ম্যাচ শুধু ক্রিকেট নয়, তার থেকেও বেশি। ২০০৮-এ আইপিএল শুরু হয়েছে। তখন থেকেই গরমাগরম যুদ্ধ। লড়াই খেলার মাঠ ছাড়িয়ে ছুটেছে বহুদূর।
ওয়াংখেড়ের মেন গেটের নাম ভিনু মানকড়ের নামে। বাঁদিকে কিছুটা এগোলেই মেরিন ড্রাইভ। নরিম্যান পয়েন্ট থেকে বাঁহাতে আরব সাগরকে রেখে রাস্তাটা সোজা উঠে গিয়েছে মালাবার হিলসে। তারই মাঝখানে একসময় চোখে পড়বে ওয়াংখেড়ের উঁচু বাতিস্তম্ভ। ডানদিকে ঘুরলে ভিনু মানকড় গেট। একটু এগোলে হকি সংস্থার মাঠ। আর কয়েক পা দূরে চার্চগেট স্টেশন।
সন্ধ্যায় মেরিন ড্রাইভে বেশ মনোরম পরিবেশ হয়। রাস্তার ধারে পরপর বাতিস্তম্ভ সোজা ঘুরে উঠে গিয়েছে মালাবার হিলসে। লোকের চোখে এটা কুইন্স নেকলেস। সন্ধ্যায় সমুদ্রর ঢেউয়ের সঙ্গে যে ঠান্ডা ঝুড়ো বাতাস ওড়ে, সেটা গায়ে মেখে দিনভর ব্যস্ত থাকা মুম্বইয়ের প্রাণ জুড়ায়। কিন্তু কেকেআর ম্যাচ এলেই ছবিটা কেমন বদলে যায়। তখন করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে তেজ হাওয়ায় ভাসে। আজ সন্ধ্যায় সেরকমই হয়তো গনগনে উত্তাপ ওয়াংখেড়ে থেকে ছড়াবে। যা আরব সাগরের জোলো বাতাস প্রশমিত করতে পারবে না। অতীত অভিজ্ঞতা তাই বলছে।
অজিঙ্ক রাহানে বলেছেন, এটা আমার মাঠ। এই মাঠে খেলে বড় হয়েছি। এখানকার প্রতিটি ঘাস চিনি। হয়তো আর এক মুম্বইকর চন্দ্রকান্ত পন্ডিতও তাই বলবেন। কিন্তু যতই ওঁরা এখন আমচি মুম্বই বলে দাবি করুন না কেন, আপাতত ওঁরা অতিথি। লোকজন বলবে, ভাই রাহানে, বেগুনি জামাটা আগে ছেড়ে এসো, তারপর তুমি আবার আমাদের রঞ্জি অধিনায়ক।
এসবের মধ্যেও নাইটদের (KKR) জন্য স্বস্তি সুনীল নারিনের মাঠে ফেরা। ২০২০-র পর একমাত্র গুয়াহাটি ম্যাচে তিনি খেলেননি। সুতরাং তাঁর খেলতে না পারাটা বেশ বড় খবর ছিল। কিন্তু মুম্বই ম্যাচের আগে নারিনের এই প্রত্যাবর্তন সুখের সমস্যা পন্ডিতদের জন্য। যেহেতু মঈন আলি প্রাপ্ত সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন। চাইলেও চার বিদেশির বেশি খেলানোর উপায় নেই। তাছাড়া মুম্বইয়ে বল এত ঘুরবে না যে বাড়তি স্পিনার খেলানো যাবে। স্পেনসার জনসনের সঙ্গে মইন নয়, লড়াই হতে পরে শুধু নরখিয়ার।
কুইন্টন ডি’কক বহুদিন মুম্বইয়ের হয়ে খেলেছেন। হার্দিকের দলের খুঁটিনাটি জানেন। তাই ওয়াংখেড়েতে শুরুতে যে বল মুভ করে সেটা জানেন। পরের দিকে শিশির পড়লে উইকেট স্লো হয়ে যায়, সেটাও জানেন। নাইটদের জন্য তাঁর রান পাওয়া খুব জরুরি। তবে নারিন খেললে ডি’কক ধরবেন, এটাই স্বাভাবিক। গুয়াহাটিতে যেমন ডি’ককই মারতে শুরু করেছিলেন। রাহানে একটা দিক সামলেছেন।
আরও পড়ুন-অদ্য ইদ্যোৎসব আনন্দের উৎসব
ইডেনে কেকেআরের ব্যাটিং ব্যর্থ হয়েছে। গুয়াহাটিতে মিডল অর্ডারের পরীক্ষাই হয়নি। ফলে মুম্বইয়ের শক্ত বোলিং লাইন আপের সামনে নাইট ব্যাটাররা কী করেন নজর থাকবে। ২৩.৭৫ কোটির ভেঙ্কটেশ আইয়ারের যেমন পরীক্ষাই হয়নি। তবে অঙ্গকৃষ কিন্তু ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসাবে নেমে বেশ ভাল ব্যাট করছেন।
মুম্বইয়ের জন্য রোহিতের রান পাওয়া খুব জরুরি। পরপর দুটো ম্যাচ হেরে হার্দিকরা বেশ চাপে আছেন। তাদের ব্যাটিং একদম দাঁড়াচ্ছে না। সূর্য আর তিলক ভাল শুরু করেও রান টেনে নিয়ে যেতে পারছেন না। পাওয়ার প্লে-তে ব্যাটিং বা বোলিং কিছুই ভাল হচ্ছে না হার্দিকের দলের। হার্দিক নিজেও গুজরাট ম্যাচে নেমে দাগ কাটতে পারেননি। দেখেশুনে মনে হচ্ছে দলটা বুমরার অভাবে ভুগছে। কিন্তু এনসিএ থেকে কবে তিনি খেলার সবুজ সংকেত পাবেন কেউ জানে না।
ঘরের মাঠে মুম্বইয়ের আরেক চাপের কারণ কেকেআরের বোলিং। বরুণ সব ম্যাচেই বিপজ্জনক চেহারা নিচ্ছেন। সোমবার হয়তো নারিন ফিরবেন। অর্থাৎ সেই বরুণ-নারিন জুটি। হর্ষিত ও বৈভব নতুন বলে খারাপ করছেন না। তারপর বরুনরা এসে যাচ্ছেন। মুম্বইকে শুরু থেকে চাপে রাখতে পাওয়ার প্লে-তে বরুণকে দরকার। কেকেআর আগে বল করলে প্রথমদিকে উইকেটে যে আর্দ্রতা থাকবে সেটা তিনি কাজে লাগাতে পারবেন। বরুণের বল বেশি ঘোরার বদলে যেহেতু স্কিড করে বেশি।
এই ম্যাচ আর একজনের জন্যও মহা ম্যাচ। তিনি শাহরুখ খান। আগে বলতেন, তোমরা আমার জন্য এই ম্যাচ জেতো। এখন আর সেভাবে বলেন না। ১৭ পার করে এটা ১৮তম আইপিএল। কত বলবেন। পরিসংখ্যানও মুম্বইয়ের দিকে। তবু আইপিএল তো! হয়তো মনে মনে বলছেন, বাত তো শুনাই হোগা। রাহানে কি আর এক মুম্বইকরের মুখে আজ হাসি ফোটাতে পারবেন?