প্রতিবেদন : রাত পোহালেই দলের মেগা সাংগঠনিক সভা। এই সভায় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী দিকনির্দেশ করবেন, তা শুনতে ইতিমধ্যে জেলা থেকে শহরে এসে পৌঁছেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে নেত্রী যা বলবেন সেই নির্দেশকে পাথেয় করেই আগামী দিনে পথ চলবে তৃণমূল কংগ্রেস। নিশ্চিতভাবে মা-মাটি-মানুষের সরকারের নিবিড় উন্নয়ন ও সেই উন্নয়নযজ্ঞে আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে সঙ্গে নেওয়া এবং তাদের কাছে উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার থাকবে। বিজেপি-কংগ্রেস ও সিপিএম মিলিতভাবে টানা কুৎসা-অপপ্রচার ও ব্যক্তি-আক্রমণের মধ্যে দিয়ে একটা ন্যারেটিভ তৈরি করার চেষ্টা করছে, নিবিড় জনসংযোগের মাধ্যমে তাকে প্রতিহত করতে হবে। বাংলার প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার দীর্ঘদিন ধরেই বিমাতৃসুলভ আচরণ করছে, বঞ্চনা করছে। বাংলার প্রাপ্য টাকা গায়ের জোরে আটকে রেখেছে। তার বিরুদ্ধে নেত্রীর লড়াই চলছে-চলবে। এর সঙ্গে জুড়েছে, বিজেপি কেন্দ্রে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মূলত কেন্দ্রীয় এজেন্সি এবং নির্বাচন কমিশন একটা সেটিং করে এখানে অনলাইনে ভুয়ো ভোটারের নাম ঢুকিয়ে দেওয়া দিচ্ছে কোনও ‘ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশন’ ছাড়াই। যা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার অভিযোগ করেছেন। দিল্লি, মহারাষ্ট্রে একই কাজ করেছে বিজেপি। বাংলায় সাধারণ মানুষের ভোটে বিজেপি জিততে পারছে না, তাই ভিন রাজ্যের ভোটারদের নাম ঢোকানো হচ্ছে। এখানকার নাম বাদ দিচ্ছে। এটা একটা নতুন ধরনের চক্রান্ত শুরু হয়েছে বাংলায়। কিন্তু দিল্লি, মহারাষ্ট্রে যা হয়েছে এখানে তা সম্ভব হবে না। এই চক্রান্তকে কীভাবে প্রতিহত করতে হবে নেত্রী সভা থেকে তার দিকনির্দেশ দেবেন। আগামী কালের সভার প্রস্তুতি সারা। এখন চলছে শেষমুহূর্তের খুঁটিনাটি দেখে নেওয়া। বুধবার দফায় দফায় নেতাজি ইনডোর ঘুরে দেখেছেন রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, ফিরহাদ হাকিম, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ, স্বরূপ বিশ্বাস-সহ অন্যরা। যেহেতু মুখ্যমন্ত্রী-সহ অনেক মন্ত্রী ও নেতা থাকবেন তাই ইনডোরের নিরাপত্তার দিকটিও বিশেষ নজরে রাখা হয়েছে। এদিন তৃণমূল ভবনেও প্রস্তুতি চলেছে সমানতালে। সেখানে জেলা থেকে আসা নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, ডেলিগেট কার্ড বিলি করেছেন দলীয় নেতৃত্ব। কাল বেলা ১১টায় সভার কাজ শুরু হবে। যাঁরা নেতাজি ইনডোরে ঢুকতে পারবেন না, নেত্রীর বক্তব্য শোনার জন্য তাঁদের জন্য নেতাজি ইনডোরের বাইরে, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র-সহ বিভিন্ন জায়গায় জায়ান্ট এলইডি স্ক্রিন বসানো হবে। এছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়াতে লক্ষ-কোটি মানুষ যাতে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণ শুনতে পান, সে-ব্যবস্থাও থাকবে। সব মিলিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের মেগা সভা ঘিরে উত্তেজনায় ফুটছেন দলীয় নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা।
আরও পড়ুন-ফের নয়া পালক কেন্দ্রের রিপোর্টে, বাংলা সর্বাপেক্ষা কর্মক্ষম রাজ্য