প্রতিবেদন : কু-কথার জন্য তিনি কুখ্যাত ছিলেনই। এবার দেখা যাচ্ছে বাংলো জবরদখলেও এগিয়ে দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। তিনি খড়গপুরে একটি আস্ত বাংলো (নং ৬৭৭) দখল করে রেখেছেন। তবে একে শুধু দখল না বলে জবরদখল বলাই ভাল। বাংলোটি ২০১৯ সালে রেলের প্যাসেঞ্জার সার্ভিস কমিটির প্রাক্তন সদস্য তুষারকান্তি ঘোষের নামে অ্যালট (অর্ডার নং – W/Bunglow/Gaz) করা হয়েছিল। অ্যালটমেন্টের মেয়াদ শেষ হয়েছিল ৩১/০৩/২০২০-তে। খড়গপুর টাউনের দেবাশিস চৌধুরী দক্ষিণ-পূর্ব রেলের বাংলোটির মালিকানা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। তাতেই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয় রেল। আরটিআই থেকে জানা গিয়েছে, ২০২০ সালের পর থেকে বাংলোটি নতুন করে আর কাউকে অ্যালট করা হয়নি। এই ঘটনা সামনে এনেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এক্স হ্যান্ডেলে কুণাল রেলের কাছে করা আরটিআই-এর পেপার তুলে তুলে ধরে এই জবরদখলের বিষয়টি সামনে এনেছেন। যা নিয়ে রীতিমতো নিন্দার ঝড় সর্বত্র।
আরও পড়ুন-রামনবমীতে কলকাতায় ৬০টি মিছিলে পরিকল্পিত অশান্তি রুখতে তৈরি লালবাজার
এখন প্রশ্ন উঠেছে, কোন কৌশলে বিজেপির দিলীপ ঘোষ কী করে ৫ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলোটি দখল করে রাখলেন? আর কত নির্লজ্জ বেহায়াপনার নজির গড়বেন দিলীপ? সর্বক্ষণ নিজের অস্তিত্ব বাঁচানোর তাগিদে টিভি ক্যামেরার সামনে কথা বলে বাজার গরম করে রাখেন। বিজেপি নেতারা নীতিকথার পাঠ শেখাবেন, আর নিজেরা গায়ের জোরে, পার্টির জোরে রেলের বাংলো জবরদখল করে রাখবেন— এই দ্বিচারিতা আর কতদিন চলবে? অথচ নীরবে একটি সরকারি বাংলো বিনা অ্যালটমেন্টে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে জবরদখল করে রেখেছেন তিনি। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ সাংবাদিক বৈঠকে এইসব তথ্য তুলে ধরে দিলীপকে কটাক্ষ করে বলেছেন, দিলীপ ঘোষের সবই রামের ইচ্ছেয়। রাজ্য সভাপতির পদ থেকে ওঁকে সরিয়ে দিয়েছে রামের ইচ্ছেতে। সর্বভারতীয় স্তরে সহ-সভাপতি পদ থেকে সরানো হয়েছে রামের ইচ্ছায়। সাংসদ থেকে সরিয়ে পার্টি ওকে দুর্গাপুরে লড়তে পাঠিয়ে কার্যত হারিয়ে দিয়েছে। তারপরও চুপিচুপি একটি বাংলোকে জবরদখল করে রেখেছেন দিলীপ ঘোষ। আগে ওই বাংলো ছাড়ুন, তারপর বাকি কথা বলবেন।