ট্রাম্পেরই নোবেল পাওয়া উচিত ছিল : মাচাদো

তবে নিজের দেশের রাজধানীতে মার্কিন আগ্রাসনকে যেভাবে ঢালাও সমর্থন করলেন শান্তির নোবেলজয়ী, তা বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ।

Must read

অসলো : নিজের দেশ ভেনেজুয়েলায় আমেরিকার আগ্রাসন এবং নজিরবিহীনভাবে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক অপহরণ ও বন্দি করার ঘটনাকে প্রকাশ্যে সমর্থন করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসা করলেন শান্তির নোবেলজয়ী তথা ভেনেজুয়েলার নেত্রী মারিও মাচাদো। এর আগেও নানা ইস্যুতে নিজের দেশ ভেনেজুয়েলা নিয়ে ট্রাম্পের সমস্ত পদক্ষেপকে সমর্থন করে এসেছেন মাচাদো। ভেনেজুয়েলায় কমিউনিস্ট শাসনের অবসান ঘটাতে সামরিক হস্তক্ষেপেরও আহ্বান জানান ট্রাম্পপন্থী এই নেত্রী।

আরও পড়ুন-২৪ ঘণ্টাতেই বাংলাদেশে খুন ২ সংখ্যালঘু যুবক

তবে নিজের দেশের রাজধানীতে মার্কিন আগ্রাসনকে যেভাবে ঢালাও সমর্থন করলেন শান্তির নোবেলজয়ী, তা বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষত, মার্কিন মুলুকে ট্রাম্পের আগ্রাসনের প্রতিবাদ এবং বিশ্বের বহু দেশ মাদুরোকে মুক্তির পক্ষে সওয়াল করলেও খোদ ভেনেজুয়েলার নেত্রী যেভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রাসনের পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন তাতে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রতি পদক্ষেপে মার্কিন হস্তক্ষেপের আশঙ্কাই বাড়াচ্ছে। মাচাদোর মতো নেত্রী যদি ভবিষ্যতে ভেনেজুয়েলার শীর্ষপদে আসেন তাহলে আমেরিকার পুতুল সরকার গঠন এবং সে-দেশের তেলভাণ্ডারকে পুরোপুরি গ্রাস করা আরও সহজ হবে।

আরও পড়ুন-তারাপীঠের মন্দিরে গিয়ে পুজো দিলেন অভিষেক

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আমেরিকা অপহরণ করে বন্দি করার পর থেকেই আরও একবার আলোচনা শুরু হয়েছে লাতিন আমেরিকার দেশটির বিরোধী দলনেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে নিয়ে। ২০২৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন ‘ট্রাম্পপন্থী’ এই নেত্রী। প্রথমে অনেকেই মনে করেছিলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার ক্ষমতার রাশ যেতে চলেছে মাচাদোর হাতে। কিন্তু তেমন হয়নি। ট্রাম্প জানান, নিজের দেশেই মাচাদোর পক্ষে যথেষ্ট জনসমর্থন নেই। তবে এবার অসলোয় বসে মাচাদো জানালেন, অক্টোবরের পর থেকে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা হয়নি তাঁর। এর পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার অস্থিরতার আবহে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মাচাদো জানালেন, এই শান্তি পুরস্কার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পেরই পাওয়া উচিত ছিল। ঘটনাচক্রে, অতীতে ভেনেজ়ুয়েলা নিয়ে ট্রাম্পের সমস্ত পদক্ষেপকে সমর্থন করে এসেছেন মাচাদো।

আরও পড়ুন-গদ্দার-ঘনিষ্ঠ নেতা রেলের চাদর চোর

ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, আমি গত ১০ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছিলাম, যেদিন নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। কিন্তু তার পর থেকে ওঁর সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ হয়নি। মাদুরোর আমলে ভেনেজুয়েলায় এক বছরেরও বেশি আত্মগোপন করে থাকার পর গত মাসে নরওয়েতে নোবেল শান্তি পুরস্কার সংগ্রহ করতে যান মাচাদো। এই মুহূর্তে তিনি রয়েছেন নরওয়ের অসলোতে। মাচাদো জানিয়েছেন, দ্রুত দেশে ফিরবেন তিনি। তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, আমেরিকার পদক্ষেপ মানবতা, স্বাধীনতা এবং মানবিক মর্যাদার জন্য কার্যকরী হবে। মাচাদোর কথায়, কারাকাসে ঢুকে হামলা এবং মাদুরোকে বন্দি করার জন্য ৩ জানুয়ারি দিনটি শুধু ভেনেজুয়েলার জন্যই নয়, বরং মানবতার জন্যও একটি মাইলফলক হিসাবে ইতিহাসে লেখা থাকবে।

Latest article