ওয়াশিংটন : গ্রিনল্যান্ড (Donald Trump_Greenland) কিনে নেওয়ার পথে কাঁটা বিছিয়ে দেওয়ায় ডেনমার্ক, ফ্রান্স, ব্রিটেন-সহ একাধিক ইউরোপিয়ান দেশের উপরে দারুন চটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের সদর্প ঘোষণা, ইউরোপের ৮ দেশের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক চাপাচ্ছেন তিনি। এই আট দেশ হল – ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, ডেনমার্ক, নরওয়ে, নেদারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই শুল্ক লাগু হবে। কিন্তু স্বশাসিত দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড দখল করার সাধ কীভাবে পূরণ হওয়া সম্ভব? এর বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে এই দেশগুলো। দখলদারি নিয়ে মার্কিন আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে অবশেষে এক জোট হয়েছিল ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের দেশগুলি। আর তাতেই ট্রাম্পের শুল্কের হুমকি। এরপরই ফের একবার প্রশ্নের মুখে গ্রিনল্যান্ডের স্বাধীনতা। শুল্কের ভয়ে ইউরোপের বৃহৎ দেশগুলি কি গ্রিনল্যান্ডের পাশ থেকে সরে দাঁড়াবে, সেই প্রশ্ন উঠতেই ফের সরব ফ্রান্স। ট্রাম্পের এই ধরনের হুমকির পরে এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দাবি করেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন যৌথভাবে শুল্কের হুমকির জবাব দেবে। গ্রিনল্যান্ডের (Donald Trump_Greenland) সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার রক্ষায় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাহায্য দাবি করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী ফ্রেডেরিক নিয়েলসেন। ডেনমার্ক নিজেদের অধিকার নিয়েই গ্রিনল্যান্ডের পাশে দাঁড়িয়েছিল। তবে নিজের দেশের নিরাপত্তা ও প্রতিবেশী হিসাব রাশিয়া ও চিনকে চান না বলে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণই করে নিতে চেয়েছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই পরিস্থিতিতে আমেরিকার সঙ্গে যাওয়ার প্রস্তাব উড়িয়ে দিয়ে ডেনমার্ককে বেছে নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নিয়েলসেন। এরপরই গ্রিনল্যান্ডকে হুঁশিয়ারি দিতে শুরু করেন ট্রাম্প। শনিবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার, ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গ্রিনল্যান্ডের রক্ষার্থে ডেনমার্কের পাশে দাঁড়ানো ও সবরকম সহযোগিতার বার্তা দেন। ইউরোপের শক্তিধর দেশগুলির এই প্রতিক্রিয়ায় চুপ করে যে ডোনাল্ড ট্রাম্প থাকবেন না তা প্রত্যাশিতই ছিল। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মার্কিন বিরোধিতা সম্পর্কে সতর্ক করে আগেই শুল্কের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। সেই আশঙ্কাকে সত্যি করে ডোনল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন ইউরোপের ৮ দেশের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক চাপাচ্ছেন তিনি। আমেরিকার গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রতিবাদ যারা করেছে, তাঁদের উপরই শুল্ক চাপানো হচ্ছে। স্পষ্ট জানিয়ে দেন ট্রাম্প। সেই সঙ্গে এই হুমকি যে তাঁর ফাঁকা আওয়াজ নয়, তা বোঝাতে আরও জানান, এই দেশগুলির উপর ১ জুন থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানো হবে। আর এই শুল্ক ততদিন পর্যন্ত লাগু থাকবে, যতদিন না গ্রিনল্যান্ড সম্পূর্ণভাবে কিনে নিতে সফল হচ্ছে আমেরিকা।
তবে শনিবারই বিবৃতি দিয়ে ম্যাক্রোঁ জানিয়ে দেন, শুল্ক নিয়ে চাপ দেওয়া কোনও নৈতিক কাজ নয়। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন যৌথভাবে এর উত্তর দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে ন্যাটো-র সহযোগী দেশ হিসাবে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন আগ্রাসনের বিরোধিতায় সরব কানাডার প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন-ভিড়ে অসুস্থ মহিলাকে নিজের গাড়িতে বসিয়ে নিজের বোতলের জল দিলেন অভিষেক

