ওয়াশিংটন: মাদুরোর বিরুদ্ধে আমেরিকায় মাদক পাচারের যে অভিযোগ তুলেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সত্যতা মেলেনি খোদ আমেরিকার রিপোর্টেই। কারাকাসে আক্রমণ চালিয়ে ভেনেজুয়েলার নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে অপহরণ ও বন্দি করার যুক্তি হিসাবে বিপুল মাদক পাচারের অভিযোগ তুলেছিলেন ট্রাম্প। অথচ মার্কিন প্রেসিডেন্টের সেই দাবি খারিজ করে দিয়েছে খোদ সরকারি রিপোর্টই। আমেরিকায় মাদক ব্যবহার এবং স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমীক্ষার ২০২৪ সালের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, ভেনেজুয়েলা নয়, বরং মেক্সিকো ও কলম্বিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে মাদক ঢোকে আমেরিকায়। মার্কিন সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, অবৈধ মাদক সেবনকারীর সংখ্যার বিচারে বাকি সব দেশের চেয়ে এগিয়ে আমেরিকা। তবে এক্ষেত্রে ভেনেজুয়েলা আদৌ আমেরিকায় পাচার হওয়া অবৈধ মাদকের উৎস নয়। দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশ থেকে কিছু পরিমাণ কোকেন যায় পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলিতে। তাহলে কেন মাদক-অজুহাতকে খাড়া করে ভেনেজুয়েলার নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে টার্গেট করলেন ট্রাম্প? কূটনীতিকদের মতে, ভেনেজুয়েলার বিপুল তেলভাণ্ডার কবজা করাই ট্রাম্পের মূল উদ্দেশ্য। এই কৌশল বাস্তবায়িত করতে মাদক-অজুহাত খাড়া করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
আরও পড়ুন-মধ্যপ্রদেশে পানীয় জলের এক তৃতীয়াংশই বিপজ্জনক
ভেনেজুয়ালার তেলের ভাণ্ডার দখল করাই যে মূল লক্ষ্য ছিল, এবার তা সাফ জানিয়েও দিয়েছে হোয়াইট হাউস। তেল তুলবে ভেনেজুয়েলা আর তা বাজারে বিক্রি করবে আমেরিকা, ঘোষণা হোয়াইট হাউসের। আমেরিকার মূল উদ্দেশ্য আগেই বুঝেছিল রাশিয়া। নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করার পরই ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছিলেন ভেনেজুয়েলা থেকে এশিয়াগামী যে তেলের জাহাজগুলি আটকে রয়েছে, সেগুলি দ্রুত ছেড়ে দেওয়া হোক। কান দেননি ট্রাম্প। এবার সেই জাহাজগুলি গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে কিনা তা নিয়ে আশঙ্কা। হোয়াইট হাউসের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে ঘোষণা করা হয়েছে, ভেনেজুয়েলা যে খনিজ তেল তুলবে তার থেকে ৩০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল প্রতিদিন আমেরিকাকে দেবে। মার্কিন জাহাজ সোজা সেই তেল আমেরিকার বন্দরে এসে তৈল শোধনাগারের জন্য আনলোড করবে। মার্কিন তেল বাণিজ্য সংস্থাগুলি তেল নেওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে রয়েছে। অর্থাৎ ভেনেজুয়েলা থেকে যে তেল উঠবে তা বিক্রি করে মুনাফা লুটবে আমেরিকা। এদিকে ভেনেজুয়েলার পর গ্রিনল্যান্ড দখলের বার্তা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি তাঁর নজরে পশ্চিম এশিয়ার ইরানও রয়েছে। যদি তা হয়, তাহলে ভেনেজুয়েলার চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করেছেন মার্কিন অর্থনীতিবিদ জেফ্রি স্যাক্স।

