সুদেষ্ণা ঘোষাল, দিল্লি: বিরোধীদের প্রশ্নের মুখে নিরুত্তর কেন্দ্র। ভারতীয় নাগরিকদের অপমানের ইস্যুতে প্রবল উত্তপ্ত হয়ে উঠল বিদেশমন্ত্রকের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক৷ বিরোধীদের তোপের মুখে কার্যত নিরুত্তর থাকলেন বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি৷ হাতে হাতকড়া, পায়ে শেকল পরিয়ে ক্রীতদাসের মতো কেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে পাঠানো হল এদেশের নাগরিকদের? সূত্রের দাবি, বুধবার বিদেশমন্ত্রকের অধীনস্থ সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই প্রশ্ন তুলে বিদেশসচিব মিশ্রিকে চেপে ধরেন বিরোধী শিবিরের সাংসদরা৷ সূত্রের দাবি, তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ, এআইএমআইএম সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েসি, শিবসেনা সাংসদ অরবিন্দ সাওয়ান্ত, কংগ্রেস সাংসদ দীপেন্দর হুডা সহ বিরোধী শিবিরের সাংসদদের তোপের মুখে কোনও জুতসই জবাব খুঁজে না পেয়ে মুখরক্ষায় বিদেশসচিব দাবি করেন, যাঁদের দেশে ফেরানো হয়েছে তাঁরা সবাই অবৈধভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাস করছিলেন৷ সেদেশের নিয়ম মেনেই তাঁদের ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে৷ মার্কিন মুলুক থেকে হাতে হাতকড়া, পায়ে শেকল বেঁধে ভারতীয়দের বিমানে দেশে ফেরানো হলেও এদেশের মাটিতে নামার সঙ্গে সঙ্গেই ভারতীয় নাগরিকদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে৷
আরও পড়ুন-ভিক্ষা নয়, চাই প্রাপ্য টাকা কেন্দ্রকে তোপ তামিলনাড়ুর
বিদেশসচিবের এই সাফাইকে আদৌ যুক্তিযুক্ত বলে মনে করেনি বিরোধী শিবির৷ তাদের দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বলে বারবার দাবি জানানো হয়েছে ভারত সরকারের তরফে৷ তাহলে প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজে এই অমানবিক মার্কিন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কেন প্রতিবাদ জানালেন না? কেন ভারতীয় নাগরিকদের অপমানের ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জবাব তলব করা হল না? এই প্রশ্নের কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি বিদেশসচিব নিজে৷ সময়াভাবে এদিন বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির ইস্যু নিয়ে কোনও আলোচনা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান শশী থারুর৷ তাঁর কথায়, কোনও প্রসঙ্গই এদিনের বৈঠকে বাদ যায়নি৷ ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়েও এদিনের বৈঠকে বিদেশসচিবকে প্রশ্ন করা হয়েছিল৷