রঙ্কিণী ভবন
বিষ দেওয়া হয়েছে যূথিকাকে। যূথিকা সুপ্রাচীন এক জমিদার বাড়ির গৃহবধূ। তাঁকে মেরে ফেলার চক্রান্ত হয়েছে। নববধূ সে। মিষ্টিমুখের মেয়ে। কী তার অপরাধ? শ্বশুরবাড়িতে কেন দেখা দিয়েছে তার প্রাণ সংশয়? প্রশ্ন ছড়ায় গোড়া থেকেই। বিয়ের পর যূথিকা নতুন বাড়িতে পা দিতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন পরিবারের এক প্রৌঢ়। নববধূর আগমনের কারণেই কি এই মৃত্যুর ঘটনা, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনও রহস্য? যূথিকার উপস্থিতি কি অশুভ মনে করে পরিবারটি? খোঁজা চলে উত্তর। এই বাড়ির ইতিহাস যেন এক অন্ধকার গহ্বর, যেখানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জমে আছে ভয়, গোপন রীতি আর অশরীরী-আতঙ্ক। যূথিকার চোখ দিয়েই দর্শক আবিষ্কার করবেন এক অজানা, রহস্যময় জগৎ। ধীরে ধীরে উন্মোচিত হবে গভীর রহস্যের জাল। একটু একটু করে মুছতে থাকবে ঘন কুয়াশা। ফুটতে থাকবে আলো। সামনে আসবে সত্য। চলার পথে বারবার অঙ্ক ভুল হতে থাকে। শেষপর্যন্ত মিলবে না হিসেবনিকেশ। সমস্ত ‘মনে হওয়া’ উড়ে যাবে ঝড়ের হাওয়ায়। যে সত্য সামনে আসবে, তার জন্য থাকবে না মানসিক প্রস্তুতি। কিন্তু বাস্তবকে যে মানতেই হবে। এইসব নিয়েই জমে উঠেছে জি ফাইভ বাংলার অরিজিনাল সিরিজ ‘রঙ্কিণী ভবন’। এক নিঃসঙ্গ, প্রাচীন জমিদার বাড়িকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এক সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। মুক্তি পেয়েছে ২৫ ডিসেম্বর। এই মুহূর্তে দর্শকদের কৌতূহলের কেন্দ্রে।
পরিচালক অভ্রজিৎ সেন নয়ের দশকের বাংলার শহরতলির গ্রামাঞ্চলের পরিবেশগত পটভূমিতে বুনেছেন এই মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার (thriller)। কুসংস্কার, ধর্মীয় ভয় এবং প্রজন্মের গোপন রহস্যে পরিপূর্ণ সিরিজটি দর্শকদের রঙ্কিণী দেবীর ভূতুড়ে জগতে নিয়ে যায়। একজন রহস্যময় স্থানীয় দেবী, যাঁর কথা খুব কমই বলা হয়, কিন্তু বিশ্বাস করা হয় যে, তিনি ভেঙে পড়া জমিদারির জীবনের উপর গভীর প্রভাব বিস্তার করেন।
যূথিকা চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেছেন শ্যামপ্তি মুদলি। তাঁর স্বামী আদিত্যনাথ চরিত্রে গৌরব রায় চৌধুরীর অভিনয়ও মনে রাখার মতো। দুজনেই প্রথমবার জুটি বাঁধলেন। এই সিরিজের মাধ্যমে তাঁরা পা রাখলেন ওটিটি-তে। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন বিদীপ্তা চক্রবর্তী। পদ্মাবতী চরিত্রে তাঁর অভিনয়ে রঙ্কিণী পরিবারের আবেগের স্তরগুলোকে আরও গভীরতা দিয়েছে। পুলিশ অফিসার মানস মাহাতোর চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন সুহোত্র মুখোপাধ্যায়। এ-ছাড়াও রয়েছেন আভেরি সিংহ রায়, সিদ্ধার্থ ঘোষ, অনিরুদ্ধ গুপ্ত, ঈশানী সেনগুপ্ত। এই শক্তিশালী অভিনেতা ও অভিনেত্রীদের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে গভীর রহস্যে মোড়া, আবেগে ভরপুর এক আলোকালো জগৎ। সিরিজটি দেখার মতো।
আরও পড়ুন- নিজেকে খুঁজে নিন
কাটাকুটি ২
রাজা চন্দ পরিচালিত ওয়েব সিরিজ ‘কাটাকুটি’। সাড়া জাগিয়েছিল। জনপ্রিয়তা পেয়েছিল যথেষ্ট। আর সেই জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখেই তৈরি হচ্ছে ওয়েব সিরিজের দ্বিতীয় অধ্যায় ‘কাটাকুটি ২’। এই মুহূর্তে জোরকদমে চলছে শ্যুটিং। জানা গেছে, একটি মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার নিয়ে এগিয়ে যাবে গল্প। প্রযোজনা করছে রাজা চন্দ ফিল্মস। মূল গল্প রম্বাসের। চিত্রনাট্যের দায়িত্বে রয়েছেন রুদ্রদীপ চন্দ।
শুরুতে দেখানো হবে সমীর মণ্ডলের জেলমুক্তি। তিনি তাঁর ছাত্রী নন্দিনী গুপ্তকে খুনের অভিযোগে দীর্ঘ সাত বছর বন্দি ছিলেন। আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে তাঁকে মুক্তি দিলেও, সমাজ এবং তাঁর নিজের পরিবার তাঁকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে যে, সমীরের স্ত্রী সুষমা এখন সমীরেরই বন্ধু অশোকের বিবাহিতা স্ত্রী। সমীরের মেয়ে তুলি অশোককেই নিজের বাবা বলে জানে।
অন্যদিকে, সাংবাদিক রাকা ও তাঁর সহকর্মী টিনটিন মনে করেন, সমীর মণ্ডল নির্দোষ। তাঁরা ওই ব্যক্তিকে নির্দোষ প্রমাণ করতে নিজেদের মতো করে একটি তদন্ত শুরু করেন। তদন্তে নেমে খোঁজ পান সুন্দরবনের হাজিডিঙ্গা গ্রামের বিন্তি নামক এক কিশোরীর পুরনো খুনের মামলার। এই বিন্তির খুনের মামলার সঙ্গে রয়েছে নন্দিনী খুনের অদ্ভুত মিল। দুজনেই ছিলেন বাঁ-হাতি শিল্পী। তাঁরা পায়ে রুপোর নুপূর পরতেন।
তদন্তের সূত্র ধরে উঠে আসে ধ্রুবজ্যোতি মিত্র ওরফে রঙিন-এর নাম। ধ্রুবজ্যোতি একজন আর্ট টিচার। তাঁর শৈশব কেটেছে বুল্টি নামক এক মহিলার হাতে চরম নির্যাতনের মধ্যে। সেই পুরনো ট্রমা থেকেই ধ্রুবজ্যোতি সেইসব তরুণী শিল্পীকে টার্গেট করেন, যাদের মধ্যে তিনি বুল্টির ছায়া দেখতে পান। শেষপর্যন্ত কী হবে, জানতে হলে চোখ রাখতে হবে ওয়েব সিরিজে। গল্প আপাতদৃষ্টিতে জলের মতো মনে হয়। তবে এর জাল ছড়ানো রয়েছে সুদূরে।
‘কাটাকুটি’র প্রথম সিজনে অভিনয় করেছিলেন সৌরভ দাস, মানসী সেনগুপ্ত, দেবতনু, পিয়ান সরকার, অভিজিৎ গুহ প্রমুখ। এই সিজনে বদলে যাচ্ছে আগের সিজনের মুখেরা। দেখা যাবে একেবারে নতুন অভিনেতা-অভিনেত্রীদের। সমীর মণ্ডলের চরিত্রে অভিনয় করছেন সুব্রত দত্ত। সাংবাদিক রাকার চরিত্র ফুটিয়ে তুলছেন অমৃতা চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সহকারী, টিনটিনের চরিত্রে থাকছেন পূষান দাশগুপ্ত। এছাড়াও আছেন শাওন চক্রবর্তী, শুভ্রজিত দত্ত, শ্রীজা ভট্টাচার্য, রানা বসু ঠাকুর, জয়তী চক্রবর্তী, আলকারিয়া হাশমি ও অলকনন্দা রায় প্রমুখ। সিরিজটি দেখা যাবে ক্লিক ওটিটি প্ল্যাটফর্মে।

