বঙ্গ

বাংলার বিভিন্ন জগদ্ধাত্রী মন্দির

তালদহের জগদ্ধাত্রী মন্দির

তালদহের জগদ্ধাত্রী মন্দির
হুগলি জেলার তালদহ গ্রাম। এই গ্রামে রয়েছে চক্রবর্তী পরিবারের বহু পুরোনো জগদ্ধাত্রী (Jagaddhatri Puja) মন্দির। শোভা পায় পাথরের দেবীমূর্তি। দেখার মতো। কার্তিক শুক্লানবমী তিথিতে মায়ের বাৎসরিক পুজোর সময় একদিনেই ত্রৈকালীন পুজো সুসম্পন্ন করা হয়। মন্দিরে মাকে কোনও রকম আমিষ ভোগ দেওয়া হয় না। বলিদানের প্রথা নেই। মন্দিরে প্রত্যহ দুই বেলা, সকাল ও সন্ধ্যায় মায়ের নিত্যসেবা হয়। চক্রবর্তী পরিবারের বর্তমান সদস্যরাই সেবায়েত। মায়ের মন্দিরের মূল গর্ভগৃহের সামনে রয়েছে ছোট নাটমন্দির। ভক্তদের বসার জায়গা। মন্দিরের মূল ফটকের সামনে একদম উপরে লেখা আছে ‘নিত্যানন্দ আশ্রম’। কীভাবে যাবেন? চাঁপাডাঙা যাওয়ার ২৬ নম্বর বাস এই রুটের একমাত্র ভরসা। বনহুগলি বা ডানলপ থেকে এই বাস ধরে রামহাতিতলার গাজার মোড়ে বা দীপার চৌমাথায় নেমে তালদহের অটো ধরতে হয়। কানা নদীর পুলের কাছে নেমে পুল পেরিয়ে একটু হেঁটে মন্দিরে পৌঁছনো যায় সহজেই। এছাড়া রেলপথে হাওড়া থেকে তারকেশ্বর লোকাল ধরে হরিপাল স্টেশনে নেমেও যাওয়া যায়।

 

সোমড়ার জগদ্ধাত্রী মন্দির

সোমড়ার জগদ্ধাত্রী মন্দির
গঙ্গার পশ্চিম তীরবর্তী একটি প্রসিদ্ধ গ্রাম হুগলির সোমড়া। এই গ্রামে আছে জগদ্ধাত্রী মন্দির। আনুমানিক সাড়ে আটশো বছরের প্রচীন। এটাই বাংলার আদি পুজো বলে এলাকাবাসীদের দাবি। দেখা যায় অষ্টধাতুর মূর্তি। বর্তমানে এই পুজো পরিচিত দেওয়ানজি বাড়ির পুজো নামে। মন্দিরে বছরভর পুজো হয়। তবে জগদ্ধাত্রী পুজোর সপ্তমী, অষ্টমী, নবমীতে হয় বিশেষ পুজোর আয়োজন। ইতিহাস বলে, ইংরেজির ১১৭২ সালে মন্দির তৈরি করেছিলেন দেওয়ান রামশঙ্কর রায়। পাল যুগের শেষদিকে বাংলা, বিহার, ওড়িশার দেওয়ান ছিলেন তিনি। মন্দির তৈরি হয় সেই সময়ে। জগদ্ধাত্রী পুজোর (Jagaddhatri Puja) দিন অগণিত ভক্তের সমাগম ঘটে। আসেন দূর দূরান্তের মানুষেরাও। হাওড়া-কাটোয়া শাখার সোমড়া বাজার স্টেশনে নেমে পাঁচ মিনিটের পথ পেরোলেই দেখা মিলবে এই প্রাচীন জগদ্ধাত্রী মন্দিরের।

চ্যাটার্জিহাটের জগদ্ধাত্রী মন্দির

চ্যাটার্জিহাটের জগদ্ধাত্রী মন্দির
হাওড়ার চ্যাটার্জিহাটের শরৎ চ্যাটার্জি রোড। নবান্নের কাছেই। এখানে আছে একটি জগদ্ধাত্রী মন্দির। দেবীর সুবিশাল পাথরের বিগ্রহ দেখা যায়। নিত্যপুজো হয়। জল-বাতাসা দিয়ে যান স্থানীয়রা। জগদ্ধাত্রী পুজোর সময়ে আয়োজিত হয় বিশেষ পুজো। জগদ্ধাত্রীর বিগ্রহ ছাড়াও রয়েছে শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, মা সারদা, স্বামী বিবেকানন্দ, রাধা-কৃষ্ণের যুগল মূর্তি-সহ আরও নানান দেবদেবীর মূর্তি। এছাড়াও আছে জগদ্ধাত্রীর ছবি। পুজোর সময় বহু মানুষ আসেন। বিদ্যাসাগর সেতু পেরিয়ে টোল প্লাজা বা মন্দিরতলা নেমে মন্দিরে পৌঁছনো যায়।

আরও পড়ুন-বিএলও-দের নিয়ে কমিশনের রাজনীতি, স্পষ্ট জবাব ব্রাত্যর

রামরাজাতলার জগদ্ধাত্রী মন্দির
হাওড়া শহরের এক পুরোনো জনপদ রামরাজাতলা। এখানকার ষষ্ঠীতলার চক্রবর্তী পরিবারের জগদ্ধাত্রী পুজো প্রায় ৭০ বছরের পুরনো। প্রচলন করেন করুণা দেবী। আশ্রমের মাতৃমন্দিরে দেখা যায় পাথরের প্রতিমা। নিত্যপুজো হয়। জগদ্ধাত্রী পুজোর নবমীর দিন নিষ্ঠার সঙ্গে আয়োজিত হয় বিশেষ পুজো। আগে কুমারী পুজো হত। পুজো উপলক্ষে বসত গানবাজনার আসর। বদলে গেছে সময়। বদলে গেছে পরিবেশ, পরিস্থিতি। জগদ্ধাত্রী পুজো ছাড়াও এই মন্দিরে অন্নপূর্ণাপুজো, কালীপুজো, বিপদতারিণীর পুজো, মহালয়া, দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো আয়োজিত হয়। জগদ্ধাত্রী পুজোর নবমীর দিন দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ আসেন। প্রসাদ বিতরণ হয়। দক্ষিণ-পূর্ব রেলপথে রামরাজাতলা স্টেশন এবং রামরাজাতলা ৫২ নম্বর বাস স্ট্যান্ডে নেমে পৌঁছনো যায় এই জগদ্ধাত্রী আশ্রম মাতৃমন্দিরে। দ্বিতীয় রেলগেটের খুব কাছেই।

সার্পেন্টাইন লেনের জগদ্ধাত্রী মন্দির

সার্পেন্টাইন লেনের জগদ্ধাত্রী মন্দির
কলকাতার শিয়ালদহ স্টেশনের কাছেই রয়েছে লেবুতলা অঞ্চল। বৌবাজারের ঠিক আগে। এখানকার সার্পেন্টাইন লেনে রয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন জগদ্ধাত্রী মন্দির। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এই মন্দির পরিচিত ঠাকুরবাড়ি নামেই। তিন খিলানের উঁচু বেদি। তার উপরে মন্দির। ছাদ পুরোপুরি সমতল। সামনে ভক্তদের বসার জন্য অলিন্দ এবং উঠোন। উঠোন ঘিরেও আবার মাথা তুলে রয়েছে ঘর। আনুমানিক ১৮৮৮ সালে পূর্ণিমা তিথিতে কেদারনাথ দাস প্রতিষ্ঠা করেন এই মন্দির। পশ্চিমমুখী মন্দিরের গর্ভগৃহে রয়েছে অষ্টধাতুর জগদ্ধাত্রী প্রতিমা। দেবী সিংহের উপর উপবিষ্টা। এই মন্দিরে জগদ্ধাত্রীর নিত্যপুজো হয়। জগদ্ধাত্রী পুজোর (Jagaddhatri Puja) সময় আয়োজিত হয় বিশেষ পুজো। শিয়ালদহ স্টেশনে নেমে পায়ে হেঁটে পৌঁছনো যায়। মেট্রোয় সেন্ট্রাল স্টেশনে নেমেও পৌঁছনো যায়। আছে বাসও।

মনোহরপুকুর রোডের জগদ্ধাত্রী মন্দির

মনোহরপুকুর রোডের জগদ্ধাত্রী মন্দির
কলকাতার শরৎ বোস রোডে রয়েছে মনোহরপুকুর রোড স্টপেজ। কিছুটা দূরেই রয়েছে ত্রিধারা সম্মিলনী ক্লাব। এই ক্লাবের দুর্গাপুজোর কথা সকলেরই জানা। এখানে আছে জগদ্ধাত্রী মন্দির। স্থানীয়রা বলেন, ত্রিধারা জগদ্ধাত্রী বাড়ি। মন্দিরে রয়েছে স্থায়ী দেবী-প্রতিমা। নিত্য পুজো হয়। সেইসঙ্গে বিশেষ দিনে আয়োজিত হয় বিশেষ পুজো, মায়ের সাজবদল। জগদ্ধাত্রী পুজোর দিন মানুষের ঢল নামে। নবমীর দিন প্রসাদ বিতরণ করা হয়। যতীনদাস পার্ক মেট্রোয় নেমে একটু হেঁটে পৌঁছনো যায়।
আছে বাসও।

Jago Bangla

Recent Posts

নিজের কেবিনে একাধিক মহিলার সঙ্গে অশ্লীল আচরণ, সাসপেন্ড পুলিশকর্তা

এক নয়, একাধিক! নিজের দফতরে মহিলাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর শাস্তি পেলেন সেই পুলিশ আধিকারিক। কর্নাটক…

3 hours ago

রাজ্যে বাড়ছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা

প্রতিদিন ১ ডিগ্রি করে বাড়ছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। কলকাতা (Kolkata) থেকে আগামী কয়েকদিনে প্রবল শীতের কনকনানি…

4 hours ago

সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি, নেপথ্যে কোন অঙ্ক?

নয়াদিল্লি : অভূতপূর্ব ঘটনা বিজেপিতে (BJP)। মাত্র ৪৫ বছর বয়সেই বিজেপি সভাপতি পদে বসলেন নীতিন…

4 hours ago

সিআরপিএফ ক্যাম্পে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার নাবালিকা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করল ক্ষুব্ধ তৃণমূল

নয়ডা : ডাবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যে এখন নারী-নিরাপত্তার নামে যে কতবড় প্রহসন চলছে তা আরও…

4 hours ago

‘তোমার ভয় নেই মা আমরা প্রতিবাদ করতে জানি’

দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয় সুপ্রিম কোর্টকে হস্তক্ষেপ করতেই হত। এত সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যেন সহ্যের সব…

4 hours ago

হাড় নিরাময়কারী আঠা

অর্থোপেডিক সার্জারির এক নতুন দিগন্ত। হাড় বা অস্থি, দেহের অন্যতম শক্ত অংশ যা আমাদের শরীরের…

4 hours ago