অপরাজিতা জোয়ারদার, রায়গঞ্জ: উত্তর দিনাজপুরে জলজ পাখি গণনা শুরু। চোরাশিকার রুখতে ও পরিবেশ রক্ষায় বনদফতরের বিশেষ উদ্যোগ। রায়গঞ্জ বনবিভাগের উদ্যোগে জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে দু’দিন ব্যাপী জলজ পাখি গণনার কাজ। শনিবার সকাল থেকেই রাধিকাপুর, কালিয়াগঞ্জ, রায়গঞ্জ, হেমতাবাদ ও ইটাহারের বিভিন্ন দিঘি, বিল ও জলাশয়গুলিতে বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশপ্রেমীদের ভিড় চোখে পড়ে।
আরও পড়ুন-কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ বিজেপি নেতা
পাশাপাশি এই পরিযায়ী পাখিরা যাতে নিরাপদে থাকতে পারে, তার জন্য বনদপ্তর নিরন্তর নজরদারি ও সচেতনতা প্রচার চালাচ্ছে। গ্রে লেগ গুজ, এশিয়ান ওপেন বিল স্টর্ক, সরাল, ব্ল্যাক হেডেড আইবিস, পিন্টেল, ইগ্রেট, ছোট ও বড় পানকৌরি , বালিহাঁস, ল্যাপউইং , ডুব ডুবি, কাদাখোঁচা, খঞ্জনা, পার্পেল হেরনদের ভিড়ে মুখরিত জেলার জলাশয়গুলি। পাখি গণনার শুরুতে বিশেষজ্ঞদের কপালে কিছুটা চিন্তার ভাঁজ দেখা দিয়েছে। উত্তর দিনাজপুর পিপল ফর অ্যানিমেলসের সম্পাদক গৌতম তান্তিয়া উভয়েই জানিয়েছেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই জলজ পাখিদের ভূমিকা অপরিসীম। তাই চোরাশিকারিদের হাত থেকে এদের বাঁচাতে স্থানীয় মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। রায়গঞ্জের বিভাগীয় বন আধিকারিক ভূপেন বিশ্বকর্মা জানান, শীতকালে প্রজনন ও খাদ্যের সন্ধানে এই পাখিরা আমাদের এখানে আসে। এই অতিথিদের নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। চোরাশিকারিদের রুখতে বনদপ্তরের পক্ষ থেকে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে এবং নিয়মিত টহলদারি চালানো হচ্ছে। পরিযায়ী পাখিরা বাস্তুতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এরা দূর-দূরান্ত থেকে এসে প্রকৃতিকে সমৃদ্ধ করে। এই নিরীহ পাখিদের শিকার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। রবিবারও চলবে গণনা। ২০২২ সাল থেকে জলজ পাখি গননার কাজ শুরু হয়েছে রায়গঞ্জে। প্রায় ২০ থেকে ২৫ ধরনের পাখি দেখতে পাওয়া যায়। রায়গঞ্জ মহকুমায় তিনটি পার্টে এই গণনার কাজ শুরু হল। দুদিন ধরে চলবে এই প্রক্রিয়া। পশুপ্রেমী সংগঠনের সম্পাদক গৌতম তান্তিয়া বলেন, জলজ পাখি পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

