”আমরা তিন মাসের মধ্যেই নিয়োগ করে দেব”, রায় উল্লেখ করে জানান মুখ্যমন্ত্রী

বৃহস্পতিবার দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু।

Must read

বৃহস্পতিবার দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। ওই বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থও উপস্থিত ছিলেন। এরপর সাংবাদিক বৈঠকে এসে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজ সুপ্রিম কোর্টের রায় আমরা বিস্তারিত পড়েছি। রায়টি আমরা পুরোটা পড়েছি। বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমাদের পূর্ণ সম্মান রয়েছে। কোনও বিচারপতির বিরুদ্ধে আমাদের কোনও অভিযোগ নেই। বিচার ব্যবস্থাকে সম্মান করি, তবে এই রায় মেনে নিতে পারছি না।” সাংবাদিক বৈঠক থেকে এদিন সিপিএমের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সহ বিরোধীদের নিশানা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন-ট্রেনের ধাক্কায় হাতিমৃত্যু আটকাতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার করে চাপড়ামারি জঙ্গলে বসল নতুন যন্ত্র

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বিরোধীদের কটাক্ষ করেই বলেন, “সবাই তো আর অযোগ্য নয়। দু’চারজনের জন্য এতগুলো চাকরি বাতিল করা হল। বিকাশবাবুর জন্য তো এটা হল। ওকে তো নোবেল দেওয়া উচিত। ভাবছি, আমরা রেকমেন্ড করব কিনা! এতগুলো মানুষের চাকরি যাওয়ার পরে বিজেপির মন্ত্রী সুকান্তবাবু বলছেন, আমি ফেসবুকে তাঁর উক্তি দেখেছি। অযোগ্যদের জন্য যোগ্যদের চাকরি গিয়েছে, এর জন্য নাকি আমরা দায়ী। আপনারা যখন প্রথমে কেস করলেন, একবারও ভাবলেন না কারা যোগ্য, কারা অযোগ্য? সরকারকেও ভাবতে দিলেন না। যাঁদের বাতিল করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ১১৬১০ জন নবম-দশম শ্রেণিতে পড়াতেন। ৫৫৯৬ জন একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াতেন। বাকিরা অন্য ক্লাসে। আপনারা জানেন, নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। এটি উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার ‘গেটওয়ে’। তাঁদের মধ্যে অনেকে মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকের খাতা দেখছেন। যদি তর্কের খাতিরে ধরে নেওয়া হয়, ২৬ হাজারের চাকরি বাদ দিয়ে দেওয়া হয়, তা হলে স্কুল পড়াবে কে!”

আরও পড়ুন-মোদীরাজ্যে ট্রেন থেকে ছোড়া জলের বোতল লেগে মৃত কিশোর

মুখ্যমন্ত্রী এদিন রায়ের প্রসঙ্গ তুলে জানান, ”যাঁরা ইতিমধ্যে চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের টাকা দিতে হবে না। তিন মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ার শুরুর নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ওরা বলেছে তিন মাসের মধ্যে প্রসেস করতে, আমরা তা করে দেব। শিক্ষামন্ত্রীকে ইতিমধ্যে বলেছি, এসএসসিকে আমাদের ভাবনা জানাতে। এসএসসি স্বশাসিত সংস্থা। ওরা যেমন ভাল বুঝবে, নিজেদের মতো করে করবে। তবে আমরা চাই এটা তাড়াতাড়ি হয়ে যাক। আদালতের রায় যেমন আমাদের বিরুদ্ধে গিয়েছে, তেমনই রায় আমাদের দু’টো পথও দিয়েছে। রায় মেনেই আমরা সেটা করব। ২০১৬ সালে কারা কারা মন্ত্রী ছিলেন, আমরা রেকর্ড খুঁজে বার করব। কোনও একটা জেলার কথা তো আমরা জানিই।”

আরও পড়ুন-জামনগরে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ভেঙে টুকরো হয়ে গেল এয়ার ফোর্সের ‘জাগুয়ার’ ফাইটার জেট

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, “আত্মরক্ষার জন্যেও তো সুযোগ দেওয়া উচিত। এতগুলো শিক্ষকের ভবিষ্যৎ! ভুলে যাবেন না, এরা সবাই স্কুলের শিক্ষক। শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধসিয়ে দেওয়া কি বিজেপির টার্গেট? এই মামলায় তো তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীকে জেলে রেখে দেওয়া হয়েছে, অনেক দিন হয়ে গেল! এক জনের অপরাধে কত জনের শাস্তি হয়? আমি একটা রাজনৈতিক কথা বলছি। মধ্যপ্রদেশে ৫০ এর ওপর লোককে মেরে ফেলা হয়েছে। কী শাস্তি হয়েছে। তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নিই, এর মধ্যে ২-৪ জন রয়েছে। আর এসএসসি তো স্বশাসিত সংস্থা। আমরা এর মধ্যে ইনটারফেয়ার করি না!” এদিন বিচারপতির বাড়ি থেকে টাকা উদ্ধারের ঘটনা প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিচারপতিকে যদি বদলি করা হয়, তাহলে এক্ষেত্রেও শিক্ষকদের চাকরি না খেয়ে বাতিল করা যেত। এভাবে কয়েকলক্ষ পরিবারকে অচল করে দিল। এই পরিবারগুলোর কোনও অঘটন ঘটলে তার দায়ভার সিপিএম-বিজেপিকে নিতে হবে। চাকরিহারাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য যদি বিজেপি আমাকে গ্রেফতারও করে তাহলেও রাজি আছি। ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান।”

Latest article