ইয়ং, মিচেলের ব্যাটে সমতায় সিরিজ

উইল ইয়ং যখন ৮৭ করে ফিরে গেলেন, মনে হচ্ছিল এবার ভারত ম্যাচে ফিরলে ফিরতেও পারে। ৩৮ ওভারে নিউজিল্যান্ড তখন ২০৮/৩।

Must read

রাজকোট, ১৪ জানুয়ারি : উইল ইয়ং যখন ৮৭ করে ফিরে গেলেন, মনে হচ্ছিল এবার ভারত ম্যাচে ফিরলে ফিরতেও পারে। ৩৮ ওভারে নিউজিল্যান্ড তখন ২০৮/৩। তার আগে ১৬২ রানের পার্টনারশিপ হয়ে গিয়েছে ইয়ং ও ড্যারেল মিচেলের মধ্যে। শেষমেশ এই মিচেলের হাত ধরেই রাজকোটে নিউজিল্যান্ড শুধু ৭ উইকেটে জেতেনি, সিরিজও ১-১ সমতায় ফিরিয়ে আনল।

আরও পড়ুন-কাল মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস, উদ্বোধন সার্কিট বেঞ্চেরও

ভারতকে পেলেই বিধ্বংসী চেহারা নেয় মিচেলের ব্যাট। এদিন শুধু ১১৭ বলে ১৩১ নট আউট থাকলেন না, ভারতীয় বোলিংকে কার্যত নির্বিষ করে ছাড়লেন। তা না হলে ৪৬ রানের মধ্যে ২ উইকেট পড়ে গিয়েছিল নিউজিল্যান্ডের। এখান থেকে ম্যাচের চেহারা ঘুরিয়ে দেন মিচেল। অবশ্য ইয়ংকেও কৃতিত্ব দিতে হবে। বলা দরকার শুভমনের দলের খারাপ ফিল্ডিংয়ের কথাও। শেষে ৩২ রানে নট আউট থেকে যান গ্লেন ফিলিপস। ক্যাচ পড়া আর পায়ের তলা দিয়ে বল গলানো পাল্লা দিয়ে চলেছে। রোহিত, জাদেজার মতো সেফ ফিল্ডারদের যদি এই হাল হয় তাহলে জয় আসবে কী করে! এই হারে একজনের সেঞ্চুরি মাটি হল। কেএল রাহুল। টপ অর্ডার যখন লাইন দিয়ে ফিরল, তখন তিনি ৯২ বলের ইনিংসে লড়াই চালিয়ে যান। কিন্তু বোলাররা এদিন দল ও তাঁকে একসঙ্গে ডুবিয়েছে।
রোহিত আর শুভমন মিলে ৭০ রান তুলে ফেলার পর মনে হচ্ছিল ভারত বরোদা মাচের মতোই ব্যাট করবে। ওখানে তিনশো তাড়া করে তুলে দিয়েছিলেন বিরাট ও শ্রেয়স। কিন্তু চার উইকেট চলে গেল ৪৮ রানের মধ্যে। রাজকোটের উইকেট পাটাই। কিন্তু মাঝেমধ্যে স্লো হয়েছে। কিন্তু খেলার মতো ছিল না। তবু পরপর ফিরে গেলেন রোহিত (২৪), শুভমন (৫৬), বিরাট (২৩) ও শ্রেয়স (৮)। বিরাট বাদে প্রথম তিন উইকেটই গেল ব্যাটারদের হঠকারিতায়। বোলারদের বিশেষ কিছু করতে হয়নি।

আরও পড়ুন-চক্রান্ত করে বৈধ ভোটারদের হয়রানি, প্রতিবাদে গর্জে উঠল তৃণমূল কংগ্রেস

আসলে অ্যাভেঞ্চার-প্রেমী ভারতীয় ব্যাটারদের জন্য ইনিংস প্রথম দিকে জমেনি। পরে রাহুল অপরাজিত ১১২ করে পরিস্থিতি সামলেছেন। সেট হয়েও রোহিত আগের ম্যাচের মতো এখানে দুম করে আউট হয়ে গেলেন। বিরাট কোহলি যে ইনসাইড আউট শটে ঝুড়ি ঝুড়ি রান তোলেন, সেটাই বুধবার করতে গিয়েছিলেন হিটম্যান। সাধারণত তিনি বোলারের মাথার উপর দিয়ে বা মিড অফের উপরে পুরো শক্তিতে উঁচু শট খেলেন। কিন্তু এদিন ক্লার্কের বলে ইনসাইড আউট খেলায় উঁচু ক্যাচ চলে গেল কভার আর এক্সট্রা কভারের মাঝে। পুরো শক্তি ছিল না। তা না হলে রোহিতের শট বাউন্ডারির বাইরেই যেত।
শুভমন ৪৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি করলেন। কিন্তু এই রান আরও দূরে নিয়ে যেতে পারেননি। কাইল জেমিসনের শর্ট বলে শর্ট আর্ম পুল মারতে গিয়ে উইকেট দিয়ে যান ৫৬ রানে। এই শর্ট বল নিয়ে সমস্যা লেগেই আছে অধিনায়কের। এরপর বিরাট ও শ্রেয়স যখন ইনিংস মেরামতির চেষ্টা চালাচ্ছিলেন, তখনই শ্রেয়স ক্লার্কের বলে ক্যাচ দিয়ে গেলেন ব্রেসওয়েলের হাতে। বিরাট আগের দিনের মতোই রোহিতের আউটের পর তুমুল হর্ষধনির মধ্যে নেমেছিলেন। কিন্তু ক্লার্কের বলের বাউন্স ধরতে পারেননি। বল তাঁর ব্যাটে লেগে উইকেট ভেঙে দেয়।
ক্রিশ্চিয়ান ক্লার্ক তেমন পরিচিত মুখ নন। অনেকেই এই সিরিজে নেই বলে সুযোগ পেয়েছেন। সুযোগটা ভাল কাজে লাগালেন টপ অর্ডারে রোহিত, বিরাট, শ্রেয়সের উইকেট নিয়ে। বিরাট আউট হওয়ার পর রাহুল ও জাদেজা মিলে ৭৩ রানের পার্টনারশিপ গড়েছিলেন। কিন্তু জাদেজা যখন ২৭ রান করে মোটামুটি দাঁড়িয়ে গিয়েছেন, তখন ব্রেসওয়েলকে উইকেট দিয়ে যান। উইকেট মাঝেমধ্যে যে বাউন্সের যে সমস্যা, তার আরেকটা উদাহরণ এটা। উল্টোদিকে রাহুল অবশ্য ২২ গজে অচঞ্চল থেকে থাকা যান।

আরও পড়ুন-চক্রান্ত করে বৈধ ভোটারদের হয়রানি, প্রতিবাদে গর্জে উঠল তৃণমূল কংগ্রেস

এদিন টসে হেরে ভারতকে আগে ব্যাট করতে হল। কিন্তু শুভমন বললেন, আমরা জিতলে আগে ব্যাটই করতাম। অর্শদীপকে আবার বাইরে রাখা হল। প্রসিধ কৃষ্ণ কোথায় তাঁর থেকে ভাল করলেন কে জানে! তাছাড়া এই উইকেটের পরের দিকে স্লো হয়ে আসার ইতিহাস আছে। তবু জাদেজা ও কুলদীপের পাশে বাড়তি স্পিনার খেলানোর ঝুঁকি নেননি শুভমনরা। তবে টপ অর্ডারে দ্রুতচার উইকেট চলে যাওয়ার পরও ভারত যে ২৮৪-৭ পর্যন্ত গেল, সেটা রাহুলের জন্য। তিনি একদিনের ক্রিকেটে আট নম্বর সেঞ্চুরি পেলেন ফুলক্সকে ছক্কা মেরে। শেষপর্যন্ত রাহুল নট আউট থেকে যান ১১২ রানে। ৯২ বলে ১১টি চার ও ১টি ছক্কা। ৫৬ রানে ৩ উইকেট ক্লার্কের।

Latest article