বাঁধা হচ্ছে স্টল। কাঠ, প্লাইউডের উপর ঠোকা হচ্ছে পেরেক। কোথাও ছোঁয়ানো হচ্ছে রঙের প্রলেপ। লাগানো হচ্ছে ব্যানার। এইভাবেই ধীরে ধীরে সেজে উঠছে বিধাননগর বইমেলা প্রাঙ্গণ। কারণ, আর ক’টা দিন পরেই, ২২ জানুয়ারি, এখানেই শুরু হবে বাংলার বৃহত্তম বইপার্বণ। ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। উদ্বোধন করবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন এইবছরের ফোকাল থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনার বিশিষ্ট সাহিত্যিক গুস্তাবো কানসোব্রে এবং ভারতে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মারিয়ানো কাউসিনো। এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের কবি, সাহিত্যিক, গুণিজন ও মাননীয় মন্ত্রীরা। চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
আরও পড়ুন-জেতালেন স্মৃতি, জয় ইউপিরও
গত কয়েক বছর ধরেই আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা পৃথিবীর বৃহত্তম পাঠকধন্য বই উৎসব। আয়োজক সংস্থা পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের বইমেলায় এসেছিলেন ২৭ লক্ষ বইপ্রেমী। বই বিক্রির পরিমাণ প্রায় ২৩ কোটি টাকা। এবার বইমেলায় অংশ নেবে গ্রেট ব্রিটেন, আমেরিকা, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, স্পেন, পেরু, কলম্বিয়া, জাপান, থাইল্যান্ড এবং লাতিন আমেরিকার অন্যান্য দেশ। এছাড়া থাকছে ভারতের অন্যান্য রাজ্যের প্রকাশনাও। যেমন দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, তামিলনাডু, গুজরাত, মহারাষ্ট্র, বিহার, অসম, ঝাড়খণ্ড, কর্নাটক, ওড়িশা, ত্রিপুরা ইত্যাদি।
গিল্ডের সভাপতি সুধাংশুশেখর দে এবং সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় সম্প্রতি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তাঁদের কাছে জানা গেছে, এবার মেলায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ১০০০-এর বেশি। সিনিয়র সিটিজেন দিবস ‘চিরতরুণ’ উদ্যাপিত হবে ৩০ জানুয়ারি। বইমেলায় শিশু দিবস উদযাপন হবে ১ ফেব্রুয়ারি। ৯টি তোরণের মধ্যে দুটি হচ্ছে আর্জেন্টিনার স্থাপত্যের আদলে। কিছুদিন আগেই প্রয়াত হয়েছেন, প্রফুল্ল রায় এবং প্রতুল মুখোপাধ্যায়। তাঁদের নামে থাকছে দুটি তোরণ। সাহিত্যিক শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর নামাঙ্কিত একটি তোরণ থাকছে। লিটল ম্যাগাজিন প্যাভিলিয়ন হচ্ছে কবি রাহুল পুরকায়স্থর নামে। জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে শিল্পী ময়ুখ চৌধুরির নামে থাকবে বইমেলার শিশু মণ্ডপ। ভূপেন হাজারিকা এবং সলিল চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ আলোচনাসভা ও সঙ্গীত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদযাপিত হবে যথাক্রমে ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি।
এইবছরই বইমেলা প্রাঙ্গণে মেট্রো রেলের মাধ্যমে হাওড়া ময়দান থেকে এসপ্ল্যানেড, শিয়ালদহ হয়ে সরাসরি পৌঁছনো যাবে। ফলে, আশা করা যায় মেট্রোর মাধ্যমে বিভিন্ন জেলা থেকে আগের তুলনায় অনেক বেশি সংখ্যক মানুষ এবারে বইমেলায় আসবেন। গিল্ডের অনুরোধে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেলার দিনগুলোয় আরও বেশি সংখ্যক মেট্রো চালানোর, রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত মেট্রো চালাবার এবং ছুটির দিনেও এই পরিষেবা চালু রাখার। বইমেলা প্রাঙ্গণে থাকবে মেট্রোর একটি বিশেষ বুথ যেখান থেকে ইউপিআই-এর মাধ্যমে সরাসরি টিকিট কাটা যাবে।
আরও পড়ুন-স্বপ্নটা এখনও বেঁচে, অবসর উড়িয়ে জকো আজ শুরু অস্ট্রেলিয়ান ওপেন
মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স প্রাঃ লিঃ-এর নূর ইসলাম বললেন, হাওড়া ও শিয়ালদহ, দুই বড় স্টেশনের সঙ্গে মেট্রো যোগাযোগ বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে এবার। আশা করি আরও বেশি সংখ্যক বইপ্রেমী মেলায় আসবেন। বেশকিছু নতুন বই প্রকাশ করছি আমরা।
কথা হল সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তিনি জানালেন, কলকাতা বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা। এবারেও সফল হবে। বয়সের কারণে খুব বেশি যেতে পারব না। তবে যাব। বেরবে আমার বই।
সাহিত্যিক অমর মিত্র বললেন, অনেকেই হতাশার কথা বলেন। তবে আমার মনে হয়, পাঠকের সংখ্যা মোটেও কমেনি। বছর বছর প্রচুর নতুন নতুন বই প্রকাশিত হচ্ছে। মানুষ কিনছেন বলেই সেটা সম্ভব হচ্ছে। এবার আমার কয়েকটি বই প্রকাশ পাচ্ছে।
সাহিত্যিক জয়ন্ত দে বললেন, আমার কয়েকটি বই বেরবে এবার। মেলায় যাব। অনেকের সঙ্গে দেখা হবে। এই দিনগুলোর জন্য সারাবছর অপেক্ষায় থাকি।
জানা গেছে, আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার অ্যাপের মাধ্যমে গুগল লোকেশন মারফত মেলার মধ্যে যে কোনও স্টল খুঁজে পাওয়ার সুবিধা থাকবে। এছাড়াও বইমেলা সরাসরি ভার্চুয়ালি দেখা যাবে গিল্ডের সোশ্যাল মিডিয়া পেজ এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। এবারেও ডিজিটাল পার্টনার সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটি। খুব সহজেই কিউ আর কোড স্ক্যান করে মেলার ডিজিটাল ম্যাপ এবং অংশগ্রহণকারীদের তালিকা পাওয়া যাবে। মেলার সব গেটে থাকবে এই কিউ আর কোড। এছাড়াও বরিষ্ঠদের জন্য থাকছে মুদ্রিত গ্রাউন্ড ম্যাপ। এবারের হেলথ্ পার্টনার পিয়ারলেস হসপিটেক্স হসপিটাল ও রিসার্চ সেন্টার লিমিটেড। এক্সক্লুসিভ ব্রডব্যান্ড পার্টনার মেঘবেলা ব্রডব্যান্ড। থাকবে প্রতিদিনের লটারি। ভাগ্যবান বিজেতারা পাবেন বুক গিফট কুপন। বইমেলার অন্যতম আকর্ষণ কলকাতা সাহিত্য উৎসব। অনুষ্ঠিত হবে ২৪ ও ২৫ জানুয়ারি। মেলায় মেলবন্ধন ঘটবে লেখক-পাঠকের। জোরকদমে চলছে শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি। মঞ্চ থেকে চূড়ান্ত ঘণ্টাধ্বনি ছড়িয়ে পড়া এখন সময়ের অপেক্ষা।












