শিম-ভর্তার মেলা
হাওড়া জেলার বহু প্রাচীন মেলা হল শিম-ভর্তার মেলা। অদ্ভুত নাম, তাই না? ব্যাপার হল, এই মেলায় এলেই শিম-আলু ভর্তা খেতেই হয়। তাই এমন নামকরণ। সাঁকরাইল বড় পিরতলা এলাকায় প্রায় আড়াইশো থেকে তিনশো বছর ধরে চলে আসছে এই মেলার রীতি। প্রতি বছর ১ মাঘ থেকে শুরু হয় এই মেলা। গোটা মাস ধরেই চলে। সপ্তাহে দুদিন মেলা বসে। মাঘ মাসের প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার ও শনিবার। মেলাকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। এই মেলায় পাওয়া যায় বাচ্চাদের খেলনা, নানান ধরনের খাবার। হাওড়া-সহ বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ নিজেদের পরিবার পরিজনদের নিয়ে এখানে ঘুরতে আসেন। এখানকার প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী শিম, আলু ভর্তা এবং গরম গরম সাদা ভাত রান্না করে সবাই মিলে দুপুরের আহার সারেন। কলকাতা থেকে ঘণ্টা দেড়েকের পথ। প্রাচীন অথচ নিখাদ গ্রাম্য এক পরিবেশ উপভোগ করা যায়। স্থানীয়দের কথায়, আড়াইশো থেকে তিনশো বছর আগে মাঘ মাসে শিম-আলু ভর্তার এই মেলা শুরু হয়। বিষয়টা খানিকটা চড়ুইভাতি গোছের হলেও, আসলে এটা একটা মেলাই। এমন বহু মানুষ আছেন, যাঁরা বছর বছর এই মেলায় অংশ নেন। শুধুমাত্র ভর্তার টানে ভিড় জমান। উৎসবের মেজাজে কাটে গোটা মাস। স্থানীয়দের আবেগের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে এই লোকমেলা।
আরও পড়ুন-স্বপ্নটা এখনও বেঁচে, অবসর উড়িয়ে জকো আজ শুরু অস্ট্রেলিয়ান ওপেন
মুড়ির মেলা
বাঁকুড়ার কেঞ্জাকুড়ায় বসে মুড়ির মেলা। এখানে সকলে একসঙ্গে বসে মুড়ি খান। প্রতি বছর ৪ মাঘ কেঞ্জাকুড়ার দ্বারকেশ্বর নদের সঞ্জীবনী ঘাটে হয় এই উৎসব। কেঞ্জাকুড়া-সহ আশেপাশের ১৫ থেকে ২০টি গ্রামের মানুষ ছুটে আসেন মুড়ির মেলাতে। শুধু গ্রামের মানুষ নন। তাদের আত্মীয় পরিজনেরাও শামিল হন মুড়ির মেলায়। নানান উপকরণ দিয়ে এক সঙ্গে বসে গল্প করতে করতে মুড়ি খাওয়ার জমাটি আনন্দ চেটেপুটে নেন। মুড়ির মেলায় লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। খাওয়াদাওয়ার পাশাপাশি চলে নিজস্বী তোলা। তারপর সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট। আর তাই মুড়ির মেলায় অন্য জেলা থেকেও আসছেন মানুষজন। লোকমুখে শোনা যায়, সঞ্জীবনী আশ্রমে এক সাধক হরিনাম সংকীর্তন দেখতে আসতেন। আসতেন আশে পাশের গ্রামের মানুষজনও। রাতভর নাম-সংকীর্তন দেখে সকালে দ্বারকেশ্বর নদের পাড়ে বসে মুড়ি খেয়ে বাড়ি ফিরতেন। আর এর থেকেই ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই মুড়ির মেলা। তবে শুধু মুড়ি নয়, মুড়ির সঙ্গে থাকে চপ, সিঙ্গাড়া, বেগুনি, ঘুগনি, শসা, পেঁয়াজ, নারকেল, টম্যাটো, বিভিন্ন ধরনের নাড়ু, জিলিপি, মিঠাই ইত্যাদি।
মাছের মেলা
ব্যান্ডেলের দেবানন্দপুরের কেষ্টপুর। সেখানে বসে মাছের মেলা। চুনোপুটি থেকে ৫০ কিলো পর্যন্ত মাছ বিক্রি হয়। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর অন্যতম শিষ্য রঘুনাথ দাস গোস্বামী। তাঁর বাড়িতেই বসে ৫১৭ বছরের পুরানো মাছের মেলা। এই মেলার জন্য অপেক্ষা থাকে সারা বছরের। সূত্রপাত বহুবছর আগে। স্থানীয় ইতিহাস বলে, জমিদার গোবর্ধন গোস্বামীর ছেলে রঘুনাথ দাস গোস্বামী। রঘুনাথ সংসার ত্যাগ করেন সন্ন্যাস নেবেন বলে। মহাপ্রভু চৈতন্যের পারিষদ নিত্যানন্দের কাছে দীক্ষা নিতে যান পানিহাটিতে। তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৫। তাই তাঁকে দীক্ষা দেননি নিত্যানন্দ। তিনি রঘুনাথের ভক্তির পরীক্ষা নিতে চেয়েছিলেন। তাঁকে বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। দীর্ঘ ৯ মাস পর বাড়ি ফেরেন রঘুনাথ। সেই আনন্দে বাবা গোবর্ধন গোস্বামী গ্রামের মানুষকে খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। গ্রামের মানুষ কাঁচা আমের ঝোল ও ইলিশ মাছ খাওয়ার আবদার করেন। তিনি ভক্তদের বলেন বাড়ির পাশে আম গাছ থেকে আম পেড়ে আনতে এবং পাশের জলাশয়ে জাল ফেলতে। সেই অনুযায়ী জাল ফেলতেই মেলে জোড়া ইলিশ। সেই সময় থেকে প্রতি বছর ভক্তরা রাধা গোবিন্দ মন্দিরে এইদিন পুজো দেওয়ার পাশাপাশি মাছের মেলার আয়োজন করেন। এই মেলা নিয়ে অন্য গল্পও প্রচলিত আছে। কেউ কেউ বলেন, নিত্যানন্দ গোস্বামী রঘুনাথের ওপর খুশি হয়ে তাঁকে কৃষ্ণমূর্তি দান করেন। সেই মূর্তি নিয়ে গ্রামে ফিরে এসে তিনি এক মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। সেই থেকে এই অঞ্চলের নাম কৃষ্ণপুর বা কেষ্টপুর। দিনটি ছিল পয়লা মাঘ। সেই থেকেই মাঘ উত্তরায়ণ মেলা চলে আসছে। দূর-দূরান্ত থেকে বহু মাছ ব্যবসায়ী নদী, পুকুর ছাড়াও বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছের পশরা নিয়ে বসেন। বিক্রি করেন। হুগলি ছাড়াও বর্ধমান, হাওড়া, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া থেকেও বহু মানুষ এই মেলায় আসেন। ৫০০ টাকা থেকে ১৫০০ টাকা কেজি মাছ বিক্রি হয়। শুধু মাছ কিনেই নিয়ে যান না, অনেকেই পাশের আম বাগানে মাছ ভেজে পিকনিক করেন।
ব্যাঘ্ররায়ের মেলা
বাঁকুড়া মশাগ্রাম রেলপথে সোনামুখী থানার অধীনে ধানশিমলা স্টেশন। এই স্টেশনের কাছে ধানশিমলা বিদ্যাভবন স্কুলের পাশে ফাঁকা মাঠ। মাঠের পাশে জঙ্গলে রয়েছে ব্যাঘ্ররায়ের থান। শোনা যায় একসময় এই অঞ্চল ছিল ঘন জঙ্গলে ঢাকা। জঙ্গলে ছিল বাঘের ভয়। বাঘের ভয়কে জয় করতে এলাকার লোকজন শুরু করেছিলেন শ্রীশ্রী বাবা ব্যাঘ্ররায়ের পুজো। বাবা ব্যাঘ্ররায়ের পুজোর বাৎসরিক দিন পয়লা মাঘ। পুজোতে দুটো শূকর বলি দেওয়া হয়। এই পুজোর আয়োজন করেন স্থানীয় বাউরি সম্প্রদায়ের লোকজন। পুজোর দিন কিন্তু মেলা বসে না। এই মেলা বসে মাঘের শেষের দিকে। ২২ মাঘ শুরু হয়ে চলে মাঘসংক্রান্তি পর্যন্ত। মোটামুটি ৮ দিন। আয়োজন করে স্থানীয় তিনটি ক্লাব। মেলা শুরু হয় সংকীর্তন দিয়ে। শেষদিন হয় কাওয়ালি। মেলায় হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষেরা অংশগ্রহণ করেন এবং আনন্দ উপভোগ করেন। মেলায় অন্যান্য দিন পরিবেশিত হয় যাত্রা, অর্কেস্ট্রা, নৃত্য ইত্যাদি। মেলায় আশেপাশের গ্রাম থেকেও লোকজন আসেন। মাঠের চারধারে সারিবদ্ধভাবে দোকান বসে। সন্ধের পর মাঠ আলোয় ঝলমল করে ওঠে। দোকানের মধ্যে থাকে মনিহারি, জিলাপি, ঘুগনি, ফুচকা ইত্যাদি। মাটির মূর্তি দিয়ে নানা পৌরাণিক ও সামাজিক মডেল বিক্রি হয়। বাঁকুড়া জেলায় যা মাটির ছবি বলে পরিচিত। নাগরদোলাও বসে। মেলা উপলক্ষে স্থানীয়দের বাড়িতে আত্মীয় কুটুম আসেন।
আরও পড়ুন-জেতালেন স্মৃতি, জয় ইউপিরও
বলদাবুড়ি মেলা
বাঁকুড়ার সিমলাপাল থানার বিক্রমপুর গ্রাম থেকে সামান্য এগোলে রাস্তার পাশে ঝোপঝাড়ের মধ্যে পড়ে বলদাবুড়ির থান। সিমেন্টের বেদির ওপর দেখা যায় পোড়ামাটির হাতি, ঘোড়া। বলদাবুড়ির বার্ষিক পুজো হয় ৩ মাঘ ও ১০ মাঘ। আগে শুধু ৩ মাঘ পুজো হত। এক বছর ওইদিন প্রবল বৃষ্টিতে ভেসে গিয়েছিল। সেই বছর ১০ মাঘ পুজো হয়। পরের বছর থেকে দুদিন পুজো শুরু হয়। পুজোয় মোরগ বলি, পাঁঠা বলিও হয়। স্থানীয়দের কথায়, বলদাবুড়ির পুজো শুরু হয়েছে ২০০ বছরেরও আগে। আজ যেখানে বলদাবুড়ি থান, সেখানে ছিল গরুর বাথান। তখন এই পথে লোকজন গরু নিয়ে লক্ষ্মীসাগর বা শুনুকপাহাড়ি হাটে যেত। যাওয়ার পথে রাত্রিকালে এখানে বিশ্রাম নিতেন ব্যাপারীরা। এভাবেই গড়ে উঠেছিল গরুবাথান। রাত্রে যাঁরা এই বাথানে থাকতেন, তাঁরা দেখতেন মাঝে মাঝে একদিন এক বুড়ি এসে আবির্ভূতা হচ্ছেন। বুড়ি লোকজনের কাছ থেকে দোক্তা, পান ইত্যাদি চেয়ে খেতেন। আবার হঠাৎ করে অদৃশ্য হয়ে যেতেন। একবার একটি বলদ মারা যায়। সঙ্গে সঙ্গে বুড়িও অদৃশ্য হয়ে যায়। তখন সবার ধারণা হয়, বুড়ি রুষ্ট হওয়ার জন্য বলদটি মারা গেছে। তখন সেখানে বুড়ির উদ্দেশ্যে পুজো শুরু হয়। বলদ মারা গিয়েছিল বলে, সেই বুড়ির নাম হয়ে যায় বলদা বুড়ি। এই জায়গা ছিল সিমলাপাল রাজাদের অধীন। সিমলাপাল রাজারা বাথান থেকে কর আদায় করতেন। বলদা বুড়ির দেখভাল ও পুজো-অর্চনা করতেন স্থানীয় মাহাতোরা। এখন সর্বসাধারণ সর্বজনীনভাবে পুজো এবং মেলার আয়োজন করেন। পুজোর পর মেলা বসে। মোটামুটি পাঁচ ঘণ্টার মেলা। মেলায় প্রচুর লোকজন সমাগম হয়। দোকানপাট বসে পঞ্চাশ থেকে ষাটটা। জিলিপির দোকান এত বেশি থাকে যে, মনে হয় জিলাপির পরব! এছাড়া ঠেলাগাড়িতে নানা খাবার, মনোহারি দ্রব্য থাকে। বসে ফল ও সবজি।
বনবিবির মেলা
বিদ্যাধরী নদীর একটি শাখা পিয়ালী। এই নদীর তীরে অবস্থিত বনবিবির প্রাচীন থান। শিয়ালদহ রেলওয়ে স্টেশন থেকে দক্ষিণ শাখার ক্যানিংগামী ট্রেনে পিয়ালী স্টেশনে নেমে বনবিবির থানে যাওয়া যায়। একটি অশ্বত্থ গাছের গোড়ায় অবস্থিত এই থান। হিন্দু মুসলমান উভয় ধর্মের মানুষেরই দেবী বনবিবি। তাই এই দেবীর পুজো আরাধনা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির একটি আশ্চর্য সুন্দর উদাহরণ। প্রকৃতপক্ষে বনবিবির পুজো কোনও সম্প্রদায় বিশেষের ধর্মীয় উৎসব নয়, যে সমস্ত মানুষ জীবন-জীবিকার জন্য সুন্দরবনের জঙ্গলের উপর একান্তভাবে নির্ভরশীল তাঁরাই দেবীর প্রধান সেবক। বনবিবিকে সাধারণত জঙ্গলের বিপদনাশিনী দেবী রূপে কল্পনা করা হয় কিন্তু দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের কাছে এই দেবী শস্যদাত্রী, পশুপাখি রক্ষক, রোগহারিণী, সম্পদদাত্রী, ভূমিলক্ষ্মী এমনকী শিশুরক্ষাকারিনী রূপেও পূজিতা হন। ভক্তরা অসুখ বিসুখ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য দেবীর থানে মানত করেন এবং রোগমুক্তি ঘটার পর দেবীকে বাতাসা দিয়ে, এমনকি বুক চিরে রক্ত দিয়েও পুজো দেন। সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে জঙ্গলে কাঠের জন্য, মধু আনতে বা মাছ ধরতে যাওয়ার আগে সমস্ত ধর্মের মানুষ বনবিবির আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের ডেরা সুন্দরবনে যাঁদের জীবিকার তাগিদে যেতেই হয় তাঁরা বিশ্বাস করেন, জঙ্গলে ত্রাণকর্ত্রী বনবিবি ছাড়া আর কেউ নেই। প্রত্যেক বছর ১ মাঘ থেকে চাঁপাতলায় বসে বনবিবির মেলা। এই থান প্রায় ২৫০ বছরের প্রাচীন। বনবিবির মেলাও বহু পুরনো। এই মেলার বৈশিষ্ট্য হল ঘুড়ি ওড়ানো। এই দিনে স্থানীয়রা ঘুড়ি ওড়ানোর আনন্দে মেতে ওঠেন। ঘুড়ির প্যাঁচ খেলার টানে বহুদূর থেকে প্রতিযোগী ও দর্শকদের ভিড়ে মেলা প্রাঙ্গণ ভরে ওঠে।
আরও পড়ুন-ইতিহাসের নেতা নন, নেতাজি আজও ঘরের মানুষ
ব্রহ্মদত্যির মেলা
বীরভূমের সিউড়ির ব্রহ্মদত্যির মেলা। প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো। মনস্কামনা পূরণের লক্ষ্যে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসেন বট গাছের তলায় মাটি দিতে। এলাকার মানুষের দাবি, এই ভাবেই হাতে করে মাটি তুলতে তুলতে সেখানে একটি পুকুরের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারিভাবে পুকুরটিকে সংস্কার করা হয় গভীরতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে। এই পুকুরকেই এলাকাবাসী থেকে শুরু করে আগত পুণ্যার্থীদের সকলেই মনস্কামনা পূরণের পুকুর বলেই জানেন। এই পুকুরের ধারেই প্রতি বছর ১ মাঘ থেকে বসে ব্রহ্মদৈত্য মেলা। ভিড় জমান অসংখ্য মানুষ। এখানেই হয় ব্রহ্মদৈত্যর আরাধনা।
উত্তরায়ণ মেলা
নবাবের জেলা মুর্শিদাবাদ। এই জেলার বহরমপুরের চৌরিগাছা অঞ্চলে ১ মাঘ থেকে ভাগীরথীর তীরে বসে কয়েকশো বছরের পুরনো উত্তরায়ণ মেলা। চলে পাঁচ দিন। মন্দির প্রাঙ্গণ জুড়ে মেলায় প্রায় ১০০ টির বেশি দোকান। তার মধ্যে মিষ্টির প্রাধান্য বেশি। প্রতিটি ছানাবড়া ৫ টাকা থেকে ৩০০ টাকার দামের। সঙ্গে রয়েছে বেনারসি রাজভোজ, বাহারি জিলিপি, রকমারি গজা। সারসার খই, মুড়কির দোকানের সারি। লোকমুখে এই মেলা ‘মিষ্টির মেলা’। কেউ বলেন ‘খই মিষ্টির’ মেলা। সম্প্রদায় ভেদে মেলায় আসেন হাজারে হাজারে মানুষ। সিরাজদৌল্লা তখন বাংলার নবাব। তাঁর নির্দেশে নাকি চৌরিগাছা গ্রামে রাস্তা তৈরি হয় গোবিন্দ গুপীনাথ মন্দিরের সামনে দিয়ে ভাগীরথী নদী পর্যন্ত। সেই রাস্তা আজও বর্তমান। এই মন্দির ও মেলা ঘিরে সব চেয়ে বড় জনশ্রুতি হল, চৈত্র গাজনের আগে এক সাধারণ ভক্ত মন্দিরের সামনে এসে দেখেন মন্দিরে পুরোহিত নেই, তাই বহিরাগতদের সেবা হচ্ছে না। সাধারণ পোশাকে থাকা ব্যক্তি এগিয়ে আসেন। শোনা যায় তার নিজের পায়ের মল ও হাতের বালা খুলে দেন মুদি দোকানে। তার বদলে নেন রান্নার প্রয়োজনীয় সামগ্রী। নিজ হাতে রান্না করে উপস্থিত ভক্তদের খাওয়ান। জনশ্রুতি, পরে দেখা যায় মন্দিরের কষ্টি পাথরের মূর্তিতে নেই ওই অলঙ্কার। জানা যায় এই চৌরিগাছা গোবিন্দ গুপীনাথ মন্দির আজিমগঞ্জের বিনোদ আখড়ার শাখা। তাঁরাই এটা প্রতিষ্ঠা করেন। মন্দির কমিটি এই মেলা পরিচালনা করেন।










