বঙ্গ

২১শে জুলাই উপলক্ষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একচিলতে বাড়ি দেখতে মানুষের ভিড়

সোমনাথ বিশ্বাস: ব্রিগেড হোক কিংবা ধর্মতলা, যেকোনও রাজনৈতিক দলের মেগা সমাবেশ দেখতে মানুষের ভিড় উপচে পড়ে। এবারের একুশের জনসুনামি অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের।

কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ কিংবা জলপাইগুড়ি থেকে জঙ্গলমহল, আগত কর্মী-সমর্থকরা “রথ দেখা কলা বেচা” করে থাকেন। অর্থাৎ, দূরের জেলাগুলি থেকে সপরিবারে আসা মানুষজন মূল সমাবেশের বাইরে তিলোত্তমারকে ঘুরে দেখার সুযোগ মিস করেন না। কেউ যান চিড়িয়াখানা তো কেউ আবার ভিক্টোরিয়া, যাদুঘর!

আরও পড়ুন-সোনিয়াকে জেরা

এবার অবশ্য সেই দৃশ্য কিছুটা কম পড়েছে চোখে। কিন্তু এবার দেখা গেল এক অন্য চিত্র। কালীঘাটে হাজার হাজার মানুষের ঢল। কালী মা নয়, বরং চ্যাটার্জি স্ট্রিটে স্বয়ং মমতাময়ী মায়ের “মন্দির” দেখতেই ভিড় জমিয়েছিলেন তাঁরা। অর্থাৎ, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রীর একচিলতে বাড়ি দেখতে উৎসুক তাঁর ভক্ত, অনুগামী দূর-দুরন্ত থেকে আসা তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা।

আরও পড়ুন-ভোর থেকেই তিলোত্তমা “দখল” নিল গোপাল ভাঁড় থেকে চার্লি চ্যাপলিন

কেউ এসেছেন বর্ধমান বর্ধমান থেকে তো কেউ জলপাইগুড়ি। ওদিকে ধর্মতলায় তখন শুরু হয়ে গিয়েছে সভা। তখন প্রবল বৃষ্টি। সেই বৃষ্টি মাথায় করেই একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে বক্তৃতা রাখছেন তৃণমূলের নেতা-নেত্রীরা। প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে যেমন লক্ষ লক্ষ মানুষ সভায় ভাষণ শুনছেন, ঠিক একইভাবে কালীঘাটে নেত্রীর বাড়ির সামনে প্রাকৃতিক বিপর্যয় উপেক্ষা করেও নেত্রীর বাড়ির সামনে উপচে পড়া ভিড়। তখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ধর্মতলার উদ্দেশ্যে রওনা দেননি।

আরও পড়ুন-মধ্যপ্রদেশ পুরভোট বড় ধাক্কা বিজেপির

একুশের সমাবেশে আসা মানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষণ শোনা তো বটেই বাড়তি লাভ যদি তাঁর বাড়িটা দেখা যায়। সেই উদ্দেশেই জেলা থেকে আসা মানুষজন সকাল থেকেই ভিড় জমালেন কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির কাছে। তাঁরা একবার তৃণমূল নেত্রীর ঘর দেখতে চান। কিন্তু নিরাপত্তার দিকটি বিবেচনা করে প্রশাসন ও মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির পাহারায় থাকা দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ অধিকারিকরা বাধা হয়েছিলেন তাঁদের সামনে। পরে অবশ্য ৮ থেকে ১০জন করে মানুষকে খেপে খেপে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি দেখার সুযোগ করে দেয় পুলিশ।

আরও পড়ুন-সংসদে তৃণমূলের প্রশ্ন ও কেন্দ্রের জবাব

সুদূর বাঁকুড়া থেকে এসেছেন চায়না সরকার, শিবানী বিশ্বাস, নেত্রীর বাড়ি দেখে “থ” তাঁরা। এতবড় মাপের একজন মানুষ এত ছোট ঘরে থাকে শুনেছিলেন, কিন্তু এবার যে তাঁরা স্বচক্ষে দেখলেন। বললেন, “আমরা গরিব মানুষ। কিন্তু এত ছোট বাড়িতে আমরাও থাকি না। আর এখানে কিনা দিদির মতো সাক্ষাৎ একজন ভগবান থাকেন। আমরা দুঃখ পেয়েছি। ওনার আর একটু ভালো বাড়িতে থাকা দরকার। এখন উনি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। তাই একটু ভালো বাড়িতে উনি থাকুন, আমরা সকলে সেটাই চাইছি। একুশের সমাবেশকে কেন্দ্র করে যেন তীর্থক্ষেত্র হয়ে ওঠে কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি।

Jago Bangla

Recent Posts

আরও একধাপ এগোলেন! ভ্যান্স-রুবিওকে সঙ্গে নিয়ে গ্রিনল্যান্ড দখল ট্রাম্পের

গ্রিনল্যান্ড (Greenland_Donald Trump) দখলে মরিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার একধাপ এগিয়ে মঙ্গলবার ট্রাম্প তাঁর…

2 hours ago

নিজের কেবিনে একাধিক মহিলার সঙ্গে অশ্লীল আচরণ, সাসপেন্ড পুলিশকর্তা

এক নয়, একাধিক! নিজের দফতরে মহিলাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর শাস্তি পেলেন সেই পুলিশ আধিকারিক। কর্নাটক…

5 hours ago

রাজ্যে বাড়ছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা

প্রতিদিন ১ ডিগ্রি করে বাড়ছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। কলকাতা (Kolkata) থেকে আগামী কয়েকদিনে প্রবল শীতের কনকনানি…

6 hours ago

সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি, নেপথ্যে কোন অঙ্ক?

নয়াদিল্লি : অভূতপূর্ব ঘটনা বিজেপিতে (BJP)। মাত্র ৪৫ বছর বয়সেই বিজেপি সভাপতি পদে বসলেন নীতিন…

6 hours ago

সিআরপিএফ ক্যাম্পে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার নাবালিকা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করল ক্ষুব্ধ তৃণমূল

নয়ডা : ডাবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যে এখন নারী-নিরাপত্তার নামে যে কতবড় প্রহসন চলছে তা আরও…

6 hours ago

‘তোমার ভয় নেই মা আমরা প্রতিবাদ করতে জানি’

দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয় সুপ্রিম কোর্টকে হস্তক্ষেপ করতেই হত। এত সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যেন সহ্যের সব…

6 hours ago