বসন্তে লাগুক উষ্ণ ছোঁয়া

বসন্তের আনাগোনায় ছোট্ট উইক এন্ড ট্রিপ হোক বা বন্ধুদের সঙ্গে ডে আউট অথবা ক্রুজে চড়ে জলবিহার— চাই শরীর-মনের স্ফূর্তি, ফুরফুরে অনুভূতি। ব্রিদেবল ফেব্রিক, ডিজাইন, কালার এবং কাটসের মিশেলে ফাটাফাটি হোক এই স্প্রিং সামার। কারণ দিন হোক বা রাত, কমফোর্টটাই আসল। ২০২৪-এর স্প্রিং-সামার কালেকশন নিয়ে হাজির হয়ে গেছেন কলকাতার নামী ডিজাইনাররা। দেশ এবং বিদেশে চলছে ফ্যাশন উইকও। তাঁদের সেই এক্সক্লুসিভ স্প্রিং সামার কালেকশন নিয়ে জানালেন শর্মিষ্ঠা ঘোষ চক্রবর্তী

Must read

বসন্তের মধ্যগগনে গ্রীষ্মের হালকা ছোঁয়া। এখন না-শীত, না- গরম। শীতে জবুথবু ব্যাপার আর নেই অথচ ভোরবেলা মনে হচ্ছে গায়ে একটা চাদর থাকলে ভাল হয়। কোনও কোনও দিন সকালের পর থেকে আবহাওয়া বেশ ফুরফুরে বাতাসে জুড়িয়ে যাচ্ছে মন। অর্থাৎ সোজা কথায় এখন স্প্রিং সামার। এই সিজন মানেই গরমের কষ্ট নেই, খোলামেলা বসন্ত। আর্দি কালার, নরমসরম কাপড়ে বিস্তর আরাম। রেগুলার ওয়্যার হোক বা অকেশনাল বসন্ত এবং আসন্ন গ্রীষ্মের কথা ভেবে মন খুলে ডিজাইনার কালেকশন তৈরি করছেন কলকাতার নামী ডিজাইনাররা। ফুলেল প্রিন্ট থেকে সলিড কালার। কাফতান ড্রেস থেকে শর্ট ড্রেস, লং ড্রেস, কো অর্ড সেট, টিউনিক, শার্ট প্যান্টস, পাজামা কুর্তা, প্রি ড্রেপ শাড়ি, তাঁদের স্প্রিং সামার কালেকশনে (Spring Summer Collection) রয়েছে হরেক কিছু। সেই নিয়েই আজকের বসন্তের ফ্যাশন।

প্রণয় বৈদ্য
দুবাইয়ে আমার এ-বছরের প্রথম স্প্রিং সামার কালেকশন (Spring Summer Collection) লঞ্চ হল। চারভাগে ভাগ হয়েছে আমার কালেকশন। আমি ইন্ডিয়ান ইয়ার্ন বা সুতো যেমন কটন ইয়ার্ন, মালবেরি ইয়ার্ন যেগুলো মুর্শিদাবাদ থেকে আসে, পিওর সিলভার এবং গোল্ডেন জরি, কপার জরি সুতোর ইদানীং খুব চড়া দাম হয়ে গেছে তাই সেগুলো উইভার্সরা কিনে কাজটা করতে পারেন না। সেই সুতোগুলো আমরা ম্যানুফ্যাকচার করাচ্ছি পুরো ভারত জুড়ে এবং তাঁতিদের সেই সুতো দিচ্ছি। এর ফলে দারুণ দারুণ কালেকশন (Spring Summer Collection) আনতে পারছি। পুরো টিস্যু কালেকশন করেছি। টিস্যুতে ব্রাইট কালারস রেখেছি। কারণ স্প্রিং সামার হোক বা সামার, এখন সবসসময় অকেশন তাই হেভি পোশাক ব্রাইট কালারের চাহিদা রয়েছে। শাড়িতে করেছি টিস্যু বাই টিস্যু এবং টিস্যুর ওপর ফ্রেঞ্চ ওয়াল পেপার। ফ্রান্সের পুরনো ওয়াল প্রিন্ট করা হয়েছে শাড়িতে। শিকারগা থিমেও আর ফরেস্ট থিমেও কাজ করছি। যেখানে জীবজন্তু হয়ে উঠেছে ডিজাইন। উইমেনস রেডি টু ওয়্যারের শার্ট আর প্যান্টসের কো-অর্ডিনেটর সেট বা যাকে বলে কো-অর্ড সেট করছি। সামার ডুপিয়ান সিল্ক আর লিনেনের মিক্স করে তৈরি হয়েছে এই কো-অর্ড সেট। সিল্কের লুকও দিচ্ছে সঙ্গে লিনেনের কমফর্টও রয়েছে। আর রিসর্ট কালেকশন লঞ্চ করেছি স্প্রিং সামারে। এটা সামারেরও খুব ইন হবে। এই কালেকশনটা পুরোপুরি কটনে তৈরি। কটনগুলো আসছে কেরলের কালিকট থেকে। প্রিন্টগুলো হচ্ছে সাঙ্গানের থেকে মূলত স্ক্রিন প্রিন্ট এবং ব্লক প্রিন্ট। এতে রয়েছে কাফতান, শর্ট ড্রেস, কো-অর্ড সেট, টপ এবং শার্ট। প্রিন্টগুলো সাফারি ইন্সপায়ারড অর্থাৎ জীবজন্তু প্রিন্ট, ফ্লোরাল প্রিন্ট এবং বোটানিক্যাল প্রিন্ট অর্থাৎ লতাপাতা ইত্যাদি। কালার প্যালেটে রয়েছে হোয়াইট, আইভরি, লাইট ইয়েলো, ব্লু থেকে শুরু করে ব্রাইটার শেড পর্যন্ত। সকালে হালকা আর রাতে উজ্জ্বল।

অনুশ্রী মালহোত্রা
বেসিক্যালি একজন সাস্টেনেবল ডিজাইনার হিসেবে আমি পুরোপুরি খাদি কটন নিয়েই কাজ করছি। এখন একটু বেশি কাজ করছি লাইটার ফেব্রিকের ওপর। যেমন মসলিনের ওপর কাজ করছি যেটা স্প্রিং সামার সিজনের জন্য খুব ফুরফুরে আরামদায়ক হবে। অরগ্যানিক কোরা ফেব্রিকের ওপর কাজ করছি যেগুলো ব্লিচ করা হয়নি মানে একেবারে র- ফর্মের ফেব্রিক। এই ধরনের কাপড়ের ওপর হ্যান্ড এমব্রয়ডারি করছি। নতুন একটা টেকনিক করছি যাকে বলে ইকো প্রিন্ট। এটা হচ্ছে প্রকৃতি থেকে যেসব ফুল নষ্ট হচ্ছে যেমন মন্দিরে প্রচুর ফুল নষ্ট হয় ফেলে দেওয়া হয় এই ফুল পাতার ইনপ্রিন্ট করছি। এইসব ফুল পাতা দিয়েই প্রিন্ট হচ্ছে পোশাকে। কালেকশনে এই ধরনের ফ্লোরাল প্রিন্টের কো-অর্ড সেট রয়েছে, লাইট ওয়েটে অ্যাসিমেট্রিকাল ড্রেস রয়েছে প্রত্যেকটাই স্প্রিং সামারের (Spring Summer Collection) উপযোগী ব্রিদেবল ফেব্রিকে তৈরি। অরগ্যানিক কোরার ওপরেও ইকো প্রিন্টেড ফেব্রিকের ওপর করছি। ধনেখালির ওপরেও হ্যান্ড এমব্রয়ডারির কাজ করছি। কালার প্যালেটে পিঙ্ক, ব্রাইট ইয়েলো, লাইট ব্লু, পিচ, আইভরি এগুলোই থাকছে। এ-ছাড়া লং কুর্তা, দোপাট্টা ও করছি অরগ্যানিক র-ফেব্রিকে আর ইকো প্রিন্টের ওপর। মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করে নেওয়া যাবে যেগুলো।

অভিষেক দত্ত
এ-বছর আমার স্প্রিং সামার কালেকশনের (Spring Summer Collection) থিম হল মেটামরফোসিস অফ বাটারফ্লাই। তাই রঙের খেলা থাকবে এই কালেকশনে। পেস্টাল শেড থেকে ব্রাইট শেডের দিকে যাবে। পেস্টাল কালার প্যালেটে মিন্ট গ্রিন, কোরাল পিঙ্ক, মিন্ট গ্রিন তারপর ওটাই ব্রাইটার নোটসের দিকে চলে যায়। ব্রাইটার শেডে রয়েছে ট্যাঞ্জেরিন অরেঞ্জ, অ্যাকোয়া ব্লু, সানফ্লাওয়ার ইয়েলো। কাফতান, কাফতান টপ এই বছর ইন স্প্রিং সামারে বিশেষ করে রিসর্টওয়্যার খুব ইন। কেপ জ্যাকেট বা শর্ট ক্রপ কেপ, জাম্পস্যুট, প্যান্টস্যুট, ড্রেস রয়েছে প্রত্যেকটা আউটফিটেই হ্যান্ড এমব্রয়ডারি, সিকোয়েন্স, কাট ওয়ার্ক, টেক্সচারড ফিনিশ, প্রিন্ট সবই রয়েছে। মেনস ওয়্যারে শার্ট কুর্তা, বাম্বার, এসিমেট্রিকাল শার্টস, সামার জ্যাকেট রয়েছে। ছেলেদের পোশাকের মেটিরিয়ালে লিনেন, মুদল বা কটন স্যাটিন, টিউন বা নেট ব্যবহার করছি, হিপ প্লিটিং স্টাইলে করেছি। প্রি স্টিচড শাড়ি এখন ইন। স্প্রিং সামার অনুযায়ী কালার প্যালেট রেখেছি। ক্রপ টপ বা করসেটের সঙ্গে পরছে এই শাড়ি। পুরো কালেকশনটাই ইয়ং জেনারেশনের কথা ভেবে করা। স্প্রিং সামারে নেট দোপাট্টা বা স্কার্ফ করেছি যেটা খুব ইন।

আরও পড়ুন-আগের থেকে ভাল আছেন মুখ্যমন্ত্রী, তবে প্রবল ব্যথা

কোমল সুদ
স্প্রিং সামার কালেকশনে গ্লোবালই যে কালারটা খুব ইন সেটা হল পিচ অর্থাৎ লাইটার টোন। আমিও ভারতীয় স্কিন টোনের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে কুল কালার করেছি আমার কালেকশনে। ইজি ব্রিজি কালেকশন। লাক্সুরিয়শ ফ্লুইড কাটের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। খুব রেগুলার ওয়্যার নয়, খানিকটা অকেশন ওয়্যার, লাইট পার্টি ওয়্যার এগুলোই আমার কালেকশনে বেশি থাকে। ফেব্রিকে রেখেছি ক্রেপ, নেট, টিস্যু, লাইট জর্জেট, ফাইন স্যাটিন। কাটসের ওপর জোর দিয়েছি, প্যানেল ওয়র্ক করেছি। লং ড্রেস, লং টিউনিক। প্রি ড্রেপ শাড়ি তৈরি করেছি সব সলিড কালার এবং এমব্রয়ডারির কম্বিনেশনে। সঙ্গে স্টেমেন্ট ব্রোচ বসিয়েছি, কিছু কিছুতে স্টোন বসিয়েছি। এই শাড়ির সঙ্গে পেটিকোট অ্যাটাচড থাকছে যাকে বলছি ওয়ান পিস শাড়ি। শাড়িতেও স্যাটিন, ক্রেপ, লাইট ওয়েট জর্জেট মেটিরিয়িল ব্যবহার করেছি যেগুলো ইজি টু ওয়্যার। আমি আমার স্প্রিং সামার কালেকশনে হ্যান্ডলুম কটনও রয়েছে আমার কালেকশনে। এক-একটা ড্রেসে অনেক ঘের যেটা খুব হালকা, আরামাদায়ক কিন্তু আসলে বেশ কমপ্লিকেটেড ভাবে তৈরি। ড্রেপিং-এর ওপর জোর দিয়েছি।

পারমিতা ব্যানার্জি
এই সময় অফ হোয়াইট কালারের চাহিদা খুব বেশি থাকে তাই আমার প্রথম স্প্রিং সামার কালেকশনের কালার প্যালেটে বেশিরভাগই থাকে হোয়াইট এবং আইভরি। পুরোটাই হাতেবোনা হয়। যে সব ফেব্রিক ব্যবহার করেছি তার মধ্যে কটন মসলিন রয়েছে। একশো কাউন্টের সুতো দিয়ে করা সেই কাপড়ে গোল্ড বা জরি বুনিয়েছি। আইভরি গোল্ড স্ট্রাইপ কালেকশন, আইভরি সিলভার কালেকশন। আমার পোশাকগুলো মূলত ইন্দো ওয়েস্টার্ন। মেনলি তাতে রয়েছে শর্ট ড্রেস, স্লিভলেস শর্ট ড্রেস বা লং ড্রেস উইথ পাজামা। আইভরি উইথ গোল্ডের পাজামাও করেছি। শর্ট ড্রেসগুলো পুরোটাই আইভরি হোয়াইট সঙ্গে কনট্রাস্টে স্ট্রাইপ রেখেছি একটুআধটু। মিড থাই লেংন্থ ড্রেস করেছি। বিগত চার-পাঁচ বছর ধরে সাদা আর আইভরির কালেকশন করছি। সাদার সঙ্গে কনট্রাস্ট স্ট্রাইপ ডিজাইন করেও পোশাক তৈরি করছি। গরমের মুখোমুখি আমার শঙ্খ-পদ্ম কালেকশন লঞ্চ হচ্ছে। এগুলো প্রায় একশো- দেড়শো বছরের পুরনো জাকার্ড মোটিফ। হ্যান্ড স্পান খাদির ওপর হচ্ছে এই শাড়ি যেগুলো খুব হালকা, আরামদায়ক। ব্রিদেবল ফেব্রিক। রঙের মধ্যে রয়েছে বেশিরভাগ পেস্টাল শেড।

চন্দনি বাসু
স্প্রিং সামার কালেকশন মানে কিন্তু এক অর্থে গরমকেও গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ হালকা হালকা গরম পড়তে শুরু করেছে। এই সময়টার কথা ভেবে আমি এনেছি অ্যান্টিফাইট কালেকশন এটা একটা সিঙ্গল পিস ড্রেস, বা ঢোলা টপ সঙ্গে লুজ পাজামা, এবং স্কার্টসও রয়েছে। খুব ব্রিদেবল ফেব্রিক পুরোটাই হ্যান্ডলুম কটন। কালার প্যালেট খুব হালকা নরম। যেমন সাদা, পিচ, ডাস্ট পিঙ্ক, লাইট ইয়েলো, ব্লু। সবটাই গরমকে মনে রেখেই। ডিজাইন বলতে সলিড কালারের ওপর জামদানি ওয়র্ক আর অরণ্যর নিজস্ব ব্লক প্রিন্ট রয়েছে আমার কালেকশনে। আর শাড়ি সবটাই পিওর কটন হ্যান্ডলুম আর হ্যান্ড উভেন বা হাতে বোনা। সেগুলোও ব্লক প্রিন্ট এবং জামদানির মধ্যেই ঘোরাফেরা করবে। শাড়ি কালারও সবটাই পেস্টাল শেড। কনট্রাস্টে কিছু ব্রাইট শেড রেখেছি তবে পুরোটাই খুব সুদিং। এই সময়ের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে।

 

ইরানি মিত্র
আমি যে ঋতুতেই পোশাক ডিজাইন করি না কেন বয়স অনুযায়ী তৈরি করি। যা হালকা, স্বচ্ছন্দ এবং স্টাইলিশ হবে। রঙের ক্ষেত্রে শুধু পেস্টাল শেড না অনেক ব্রাইট কালারও রেখেছি। যেমন ইয়েলো, পিঙ্ক, অরেঞ্জ কিছু ফ্লুরোসেন্ট কালারও রয়েছে। পেস্টাল শেডে রয়েছে লাইট ল্যাভেন্ডার, অফহোয়াইট, লাইট ব্লু, লাইট পিঙ্ক। এছাড়া নানা ধরনের শর্ট ড্রেস রয়েছে। লেহেঙ্গা স্টাইল শর্ট ড্রেস ডিজাইন করেছি। যেগুলো এই সময়ের ইভনিং পার্টিওয়্যার হিসেবে খুব চলনসই। শর্ট ড্রেস কিন্তু এফেক্টটা লেহেঙ্গার মতো। লং ড্রেস আর লং স্কার্ট করেছি। ভারী কাজ নয় ফেব্রিকের উপর টেক্সচারড ফর্ম করে করা হয়েছে। সবগুলোই বেশ লাইট ওয়েট। শর্ট প্যান্টস, ট্রাউজার করেছি। এগুলোর সঙ্গে মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করে পরে ফেলা যাবে যে কোন জ্যাকেট, ক্রপ টপ ইত্যাদি। শাড়ি মূলত নেট আর হ্যান্ডলুমের কম্বিনেশন করে করেছি। প্রি স্টিচড শাড়ি করেছি। প্রতিটা শাড়ি খুব হালকা। পেস্টাল শেড থেকে ব্রাইট দুধরণের কালার প্যালেটই রেখেছি। পার্টি ওয়্যার শাড়ি করেছি এই সময় দিনে বা রাতে যে স্প্রিং সামার পার্টি বা সামার পার্টি হয় সেই সব অকেশনের জন্য অরগ্যাঞ্জার ওপর করেছি। হ্যান্ডলুম, ইক্কত কাপড়ও ব্যবহার করেছি। অবসোলিট প্রিন্টগুলোকে আবার ফিরিয়ে এনেছি যেগুলোর বেশিরভাগ টেক্সচারড প্রিন্ট। ছেলেদের পোশাকে রয়েছে লং কুর্তা।বেশিরভাগ পেস্টাল শেড একটু রিভিলিং স্টাইলে বানিয়েছি।

সায়ন্তন সরকার
আমি পশ্চিমবঙ্গের যে পিওর খাদি সেই খাদি সুতোতেই কাজ করছি। তার মধ্যেই নানান ভেরিয়েশন থাকছে যেমন স্ট্রাইপ, চেকসে ডিজাইন থাকছে, প্লেন সলিড কালারের ওপর ভাইব্রান্ট কালারের কনট্রাস্ট থাকছে। আবার অনেক পেস্টাল শেডসও রয়েছে। যেমন পিচ, পিঙ্ক, ল্যাভেন্ডার ইত্যাদি। এ-বছর দুটো জায়গায় এখনও পর্যন্ত স্প্রিং সামার কালেকশন লঞ্চ করেছিলাম একটা বাংলাদেশে, একটা দিল্লিতে। খুব ফেমিনিন কালেকশন সেগুলো। প্যান্ট স্যুটস বেশি করেছি। তাছাড়া মাল্টিলেয়ারড প্যান্টস, ড্রেপ প্যান্টস, স্কার্ট সাইজড প্যান্টস ডিজাইন করেছি আর জ্যাকেটের মধ্যে ওভারসাইজড ব্লেজারস, বলেরোস সবই হালকা এই সময়ের কথা ভেবেই করা হয়েছে। এ-ছাড়াও এই কালেকশনে রয়েছে ট্রেঞ্চ ড্রেসেসও। ছেলেদের জন্য ওভারসাইজড লং জ্যাকেট উইথ হারেম প্যান্টস, ধোতি ট্রাউজার, কোরিয়ান ফ্লেয়ারড প্যান্টস রয়েছে। স্প্রিং সামারে এ-বছর জ্যাকেটস এবং প্যান্টসেরই বেশি কালেকশন রয়েছে আমার। কালার প্যালেট দুটো রেখেছি একটা বোহেমিয়ান বা জিপসি টাইপস ইন্দো আফ্রিকান কালার যেটা যেমন মাস্টারড, ডার্ক অরেঞ্জ, ডার্ক ব্লু আর একটা করেছি একটু ভিক্টোরিয়ান স্টাইলের এমব্রয়ডারি করা সেগুলো সব পেস্টাল শেডসের ওপর যেমন লাইট পিচ, লাইট পেস্তা, অফ হোয়াইট, হোয়াইটের ওপর রেখেছি।

অভিষেক রায়
আমার স্প্রিং সামার কালেকশনে রয়েছে শার্ট স্টাইল কুর্তা এগুলো একটু ব্রাইট কালারের কারণ সামনে বসন্ত, উৎসব। সেই সময়ের কথা মনে রেখে। এর সঙ্গে টিম আপ করেছি সালোয়ার খুব ঢিলেঢালা আর বেগমপুরি হ্যান্ডলুম জ্যাকেট। মেটিরিয়াল সব হাতেবোনা কাপড়ের সঙ্গে সলিড কালারের কম্বিনেশনে। কারণ ফ্লোরাল প্রিন্টটা ইদানীং খুব বেশি হয়ে গেছে স্প্রিং সামার বা সামারে। তাই একটু ব্রেক দিতে চেয়েছি। পুরুষের পোশাকে মলমল কুর্তাও করছি।
এ-ছাড়া রয়েছে কটন হ্যান্ডলুম শাড়ি। এই কালেকশনে বেশিরভাগটাই করেছি কটন চান্দেরির ওপর করা। যাঁরা রেগুলার ওয়্যার হিসেবে এক্সক্লুসিভ কিছুই পরতে চান তাঁদের জন্য। ব্র্যান্ডের নাম রেখেছি ‘টিয়া পাখি’। এতে ধনেখালি, টাঙ্গাইল, জামদানিও থাকবে। কালার প্যালেটে থাকবে পেস্টাল এবং ব্রাইটার শেডসও। রয়েছে লাইট ওয়েট ড্রেসেস এবং টিউনিকস। যেগুলো সব সিঙ্গল পিস। ওগুলো যে যার ইচ্ছেমতো কো-অর্ডিনেট করে পরতে পারবে সেট হিসেবে পরার কোনও দরকার পড়বে না। জিনস বা ট্রাউজারের সঙ্গে মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করে যেমন পরা যাবে তেমনই সিঙ্গল ড্রেস হিসেবেও পরা যাবে।

Latest article