Featured

শিশুদিবস ও কিছু কথা

কে কী বলল! কান দিও না। তুমি তো জান, তুমি কী? এই কথা সবসময় বলতেন চাচা নেহরু। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু। ছোটদের অতিপ্রিয় ‘চাচা নেহরু’। ছোট্ট একটি চারাগাছ সচেতনতায়, যত্নে একদিন মহীরুহ হয়ে ওঠে। তখন সেই মহীরুহই হয়ে ওঠে এই সমাজের মেরুদণ্ড।

আরও পড়ুন-বঙ্গের মাতৃকা শক্তি কালী

সমাজের, মানুষের উপকারে তার অবদান হয় অপরিসীম। একটি শিশুও ঠিক তাই। চাচা নেহরু মনে করতেন শিশুরাই দেশের ভবিষ্যৎ, আগামীর আলো। শিশুরাই একদিন এই সমাজের কান্ডারি হবে। তাই তাদের যত্ন নেওয়া, তাদের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আগে ১৯৫৪ সালের ২০ নভেম্বর দিনটিকে শিশুদিবস হিসাবে ঘোষণা করেছিল রাষ্ট্রসংঘ। সেইমতোই ভারতে দিনটি উদযাপিত হত। ১৯৬৪ সালের ২৭ মে জওহরলাল নেহরুর মৃত্যুর পর শিশুদের তাঁর প্রতি অগাধ ভালবাসার কথা মনে রেখে সর্বসম্মতিক্রমে ১৪ নভেম্বর জওহরলাল নেহরুর জন্মদিনটি শিশুদিবস হিসেবে পালিত হয়।

আরও পড়ুন-তারাদের ভাইফোঁটা

এই দিনটি পালনের উদ্দেশ্য, শিশু সুরক্ষা, শিশুর অধিকার ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়িয়ে তোলা। শুধু সঠিক শিক্ষা নয়, বেড়ে ওঠার জন্য যাতে তারা উপযুক্ত পরিবেশ, খাদ্য, পুষ্টি পায় সেই বিষয়টি নিশ্চিত করা। জীবনের অধিকার, সুরক্ষার অধিকার, অংশগ্রহণের অধিকার এবং বিকাশের অধিকার— শিশু অধিকারকে চারটি মূল ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। এই দিনটি এই অধিকারগুলোকে সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে ধাপে ধাপে এগিয়ে চলে।

আরও পড়ুন-দিনের কবিতা

অনেক দেশেই ১ জুন, শিশুদিবস হিসেবে পালন করা হয়। মার্কিন মুলুকে জুনের দ্বিতীয় রবিবার পালন করা হয় শিশুদিবস। আবার পাকিস্তানে শিশুদিবস হল ১ জুলাই। চিনে শিশুদিবস উদযাপিত হয় ৪ এপ্রিল। অন্যদিকে ব্রিটেনে শিশুদিবস পালন করা হয় ৩০ অগাস্ট, জাপানে ৫ মে, পশ্চিম জার্মানিতে ২০ সেপ্টেম্বর। তবে সব দেশেই শিশুদিবস পালেন উদ্দেশ্য একটাই, দেশের শিশুদের অধিকার ও তাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি।

আরও পড়ুন-সারা বছর ধরেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার

শিশুদিবস তো প্রতিবছর আসে। স্কুল থেকে শুরু করে নানা সমাজসেবী সংগঠন, রাজ্য তথা গোটা দেশ এই দিনটি পালন করে। শুধু তাই নয়, প্রতিটি বাবা-মা ব্যক্তিগত ভাবেও এই দিনটি সেলিব্রেট করেন তাঁদের শিশুসন্তানের জন্য। কিন্তু সত্যি কি এই দিনটির কোনও সার্থকতা রয়েছে? হাল আমলে আমাদের সমাজে শিশুদের সার্বিক চিত্রটা ঠিক কী? আমরা কি পারছি আমাদের সন্তানদের সুস্থ মন ও মানসিকতায় বড় করে তুলতে। তাঁদের নির্ভরযোগ্য ভবিষ্যৎ দিতে। তাদের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যকে সুরক্ষিত রাখতে। আজকের শিশুর সামাজিক অবস্থান, চাহিদা, সমস্যা, বাবা-মায়ের ত্রুটি-বিচ্যুতি, কোনটা আসলেই পজিটিভ পেরেন্টিং, কোনটা নয় সেই নিয়ে পেরেন্টিং কনসালট্যান্ট পায়েল ঘোষ জানালেন কমিউনিকেশন বাড়াতে হবে

আরও পড়ুন-বঞ্চনার জবাব দেবে বাংলা, বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চে শপথ, কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ, ধরা পড়ল একই দৃশ্য

এখন শৈশব বলে বোধহয় আর কিছু হয় না। জন্মেই ইঁদুরদৌড়। সামাজিক পট পরিবর্তনের, উগ্র আধুনিকতার, জেট গতির শিকার আজকের শিশু। যত দ্রুত শৈশব শুরু হচ্ছে ঠিক তত দ্রুতই শেষ হচ্ছে। মোটামুটি দু’বছর বয়স থেকেই স্কুলে পাঠাবার তাগিদ তৈরি হয়ে যায় বাবা-মায়েদের মধ্যে। কারণ তাঁরা চান তাঁদের বাচ্চা ইনভলভ হয়ে থাকুক সারাক্ষণ। আজকের শিশুর সামাজিক পট পরিবর্তনের অন্যতম কারণ ইন্টারনেট থাকা এবং না থাকা। এই জায়গাটাতে আমূল বদল এসেছে প্রত্যেকটি পরিবারের মধ্যে। ছোটবেলা থেকে স্কুলে যাওয়া— এটা দিয়ে যদি শুরু করা যায় তাহলে দেখা যাবে আগে একটি শিশু স্কুলে ভর্তি হত ছ’বছর বয়সে অর্থাৎ ক্লাস ওয়ানে। তার আগে বাড়িতেই হইহই করে ভাইবোনদের মাঝে তাদের শৈশব কাটত। তখন যৌথ পরিবার বেশি ছিল, ফলে অনেকের সান্নিধ্যে বড় হত ছোটরা। এখন অণু পরিবার। তার মধ্যে অনেক বাবা-মা-ই ওয়র্কিং।

আরও পড়ুন-বঞ্চনার জবাব দেবে বাংলা, বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চে শপথ, কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ, ধরা পড়ল একই দৃশ্য

বাড়িতে নিজের শিশুটিকে কেয়ার গিভারের কাছে রেখে সারাদিনের জন্য চলে যাওয়ার এই জায়গাটা তাঁদের কাছে চিন্তার, ফলে সেই ভাবনা থেকেই ধীরে ধীরে আর্লি স্কুলে ভর্তি করার কনসেপ্টটা এসেছে। বাবা-মায়ের মানসিকতা সেক্ষেত্রে এটাই যে তাঁদের অনুপস্থিতিতে সন্তানকে একটা স্ট্রাকচারড এনভায়রনমেন্টে রাখা, সেখানে একটা ঘেরাটোপে সেই শিশু সময়মতো পড়ছে, খাচ্ছে, খেলাধুলো করছে। যদিও এটা খুব নেগেটিভ পরিবর্তন নয়। আগে যৌথ পরিবারে থাকা একটি শিশু যে সুবিধাগুলো পেত স্কুলে থেকে সেটাই পাচ্ছে উপরন্তু সমবয়সিদের সঙ্গে মেলামেশা করতে পারছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, বিভিন্ন অ্যাক্টিভিটিতে অংশ নিচ্ছে।
এতে ওদের সার্বিক উন্নতি হচ্ছে কিন্তু সমস্যা তৈরি হচ্ছে অন্য জায়গায়, যখন তারা বড় স্কুলে ভর্তি হচ্ছে।

আরও পড়ুন-গাজায় ১০ মিনিটে এক শিশুর মৃত্যু, জানাল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

প্রতিটি বাবা-মা চাইছেন তাঁদের ছেলেমেয়ে ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে ভর্তি হোক। তাঁরা ভর্তি করে দিচ্ছেন ঠিকই কিন্তু বেশিরভাগ বাবা-মা তাদের পড়াতে কমফোর্টেবল নন, ফলে তখন ছোট্ট বয়স থেকে প্রাইভেট টিউটর ছাড়া উপায় নেই। আগেকার দিনে বাবা-মা, দাদু, দিদা এঁরাই অনেকদিন পর্যন্ত বাড়ির ছেলেপুলেদের পড়াতেন। ফলে ছোট থেকেই শিশুটির সঙ্গে একটা অন্যরকম কানেকশন তৈরি হত। এখন সেই সংযোগটা আর গড়ে উঠছে না। বরং তারা স্কুলের টিচারদের সঙ্গে অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করছে। এখানে ভাবতে হবে যে পড়ানোর মাধ্যমটা জরুরি নয় অন্তত প্রাথমিক পর্যায়ে। জরুরি যোগসূত্র তৈরি করা তাই অন্তত প্রাইমারি স্কুল লেভেল পর্যন্ত এমন মাধ্যমে পড়ানো উচিত যাতে বাবা-মা বেশ কিছুদিন পর্যন্ত পড়াশুনোর বিষয় সরাসরি দায়িত্ব নিতে পারেন। এতে বাচ্চার সঙ্গে তাঁদের সরাসরি কানেকশন তৈরি হবে। কোথায় তার অসুবিধে হচ্ছে, কী বুঝতে পারছে বা পারছে না সেটা বাবা-মা বুঝতে পারবেন।

আরও পড়ুন-মণ্ডপ-প্রতিমা থেকে আলোকসজ্জা বারাসতের কালীপুজোয় জোর টক্কর

গ্যাজেটে অ্যাডিকশন নয়
অধিকাংশ বাচ্চা গ্যাজেটে অ্যাডিক্টেড এবং বেশির ভাগ বাবা-মা প্রথমদিকে নিজেদের ব্যস্ততা, কাজকর্মের চাপে ওদের হাতে গ্যাজেট তুলে দেন। কারণ শর্টকাট সমাধানের পথটাই সবাই ধরার চেষ্টা করেন। এর সঙ্গে বাবা-মা নিজেরাও গ্যাজেট অ্যাডিক্টেড। বড়রা এন্টারটেনমেন্ট অ্যাডিক্টেড ফলে ছোটরা এটাই শিখছে। ওরাও মনে করছে এটাই জীবন। বাচ্চারা খেলতে যেতে চাইছেও না কারণ ইউটিউব দেখা, গেম খেলায় তারা আসক্ত। গেম খেলতে গিয়ে বা ইউটিউব দেখতে গিয়ে বড়দের অজান্তে অনেক ভুল কনটেন্টও দেখে ফেলছে। এমন অনেক শব্দ শিখে যাচ্ছে এবং তার প্রয়োগ করছে যেটা একেবারেই ভুল বা অনুচিত। ফলে ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে শৈশবের সারল্য কখন যে অস্তমিত হচ্ছে বাবা-মা এর বিন্দুবিসর্গ টের পাচ্ছেন না। যখন জানতে পারলেন তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। তখন রুট খুঁজতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে সেই শিকড় অনেক গভীরে। কাজেই মা-বাবার মনিটরিংটা খুব জরুরি। এই অ্যাডিকশন বন্ধ করতে হবে শুরু থেকেই। নিজের স্বার্থে বাচ্চার হাতে মোবাইল তুলে দেব না এটা ভাবতে হবে। তা না হলে শৈশবটা আর শৈশব থাকবে না খুব জটিল হয়ে যাবে।

আরও পড়ুন-মিটার ছাড়া মিলবে না জলের সংযোগ, সিদ্ধান্ত কলকাতা পুরসভার

সাধারণ হতে শেখানো
আরও একটা বড় সমস্যা হল বাবা-মায়ের মধ্যে শো-অফ বিষয়টা অনেক বেড়ে গেছে। শিশুকে বাহ্যিক আড়ম্বর, ক্ষমতার প্রদর্শন করে ফেলছে তারা ছোট থেকেই। ব্র্যান্ডেড পোশাক পরানো, ব্র্যান্ডেড রেস্তোরাঁয় খাওয়ানো— এই ধরনের বিষয় অর্থাৎ কনজিউমারিজমের শেষ পর্যায় চলে গেছে। শিশুটির বাবা-মা-ই হয়তো তাদের শৈশবে ভাবতেও পারতেন না যে জন্মদিন রেস্তোরাঁয় বসে পালন করা হবে। আগে সবার জন্মদিন বাড়িতেই আয়োজন হত। হইহই করে তা পালন করা হত। এখন শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ব্র্যান্ডেড রেস্তোরাঁয় গিয়ে জন্মদিন করছেন বাবা-মা শুধু বন্ধুদের ডেকে। পরিবার নেই। আর্টিফিশিয়াল বিষয়টাও প্রকট। আজকালকার বাচ্চারা তাঁদের কাজিনদের নাম পর্যন্ত মনে রাখতে পারে না। বন্ধুবান্ধবদের নামটুকুই মনে রাখে। এর ফলে একদিন যখন ওরা বড় হবে আসবে বিপদ। তখন পরিবারের কাউকে তো পাশে পাবেই না এবং যে বন্ধুগুলোকে নিয়ে এতদিন বড় হয়েছে তাদেরও পাবে না। খুব একা হয়ে পড়বে। তখন ডিপ্রেশনের শিকার হবে তারা। দুর্ভাগ্যের, বাঙালি কালচারেই নিউক্লিয়ার পরিবার বেশি। বাবা, কাকা, জ্যাঠা, ভাই, বোন— এই বৃহত্তর পরিবার নিয়ে থাকার প্রবণতা এবং ট্রাডিশনটাও বাঙালিদের মধ্যেই কমে যাচ্ছে দিনে দিনে। কাজেই বাচ্চাকে সাধারণ হতে শেখানোটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন-বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরমে অনুপমের বিরুদ্ধে পোস্টার

ইঁদুরদৌড়ে শামিল না করা
এর পাশাপাশি অপর একটা বড় সমস্যা হল বাচ্চার পড়াশুনো। নম্বর নিয়ে ইঁদুরদৌড়, স্যোশাল কম্পারিজম। ভারতবর্ষের যা পপুলেশন তাতে ইঁদুরদৌড় থাকবেই। কিন্তু আমরা শুধুমাত্র এন্ড রেজাল্টের ওপর ভিত্তি করেই বাচ্চাদের প্রশংসা এবং তাদের সমালোচনা করি। যেটা খুব ভুল। এর পরিবর্তে যদি আমরা পদ্ধতিগত ভাবে ভাবনা-চিন্তা করি। ওদের পড়াশুনো কীভাবে আরও উন্নত হবে। কী করলে ওদের জ্ঞান অর্জন সম্পূর্ণ হবে— তাহলে হয়তো বেশি ভাল হবে।

আরও পড়ুন-তারাক্ষ্যাপা বামাক্ষ্যাপা

অপেক্ষা করা ও ‍‘না’ শুনতে শেখা
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হল শিশুদের আমরা অপেক্ষা করাতে বা না বলতে ভুলে গেছি। আমরা সবসময় তাঁদের ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করি। তুমি আজকে দারুণ নম্বর পেয়েছ, তাহলে তুমি একটা চকোলেট বা গিফট পাবে। ভাল পড়াশুনো করলে জিনিস পাব— পড়াশুনো ভাল করতে হবে আমার ব্রেনকে সুস্থ রাখার জন্য, এই প্রধান লজিকটা ওর মাথার মধ্যে ঢুকল না। এই যে একটা সমীকরণ, কোনও সমীকরণ ভাল নয়। সেই জায়গাতেই আমরা বারবার নিয়ে যাচ্ছি। গুণগত সময় দিতে পারছি না অথচ কাঁড়ি কাঁড়ি জিনিস দিয়ে তাদের মেটিরিয়্যালিস্টিক করে ফেলছি। বস্তুভিত্তিক কথোপকথন হচ্ছে ছোটদের। বাবা-মা এবং শিশুর সিম্পল জীবনযাত্রাটাই ভুলে যাচ্ছি ধীরে ধীরে।

আরও পড়ুন-এথিক্স কমিটি তো আসলে সালিশি সভা তোপ মহুয়ার

পরিবারকেন্দ্রিকতা
একটা ব্যালান্সড লাইফ দরকার। অতিরিক্ত অপচয় না করা এবং না করতে শেখানো। একটা জামার প্রয়োজন হলে শিশুটির জন্য একটাই কেনা। রেস্তোরাঁয় খেতে যাওয়া এখন রোজকার ঘটনা। সপ্তাহান্ত মানেই কোথাও চলে যাওয়া, খাওয়াদাওয়া— এই যে বাবা-মায়েদের কনস্ট্যান্ট একটা বহির্মুখী মনোভাব সেটা শিশুদেরও পরিবারের প্রতি টান কমিয়ে দিচ্ছে। একসঙ্গে থাকা, রান্না করা, খাওয়া, পারিবারিক গেট টুগেদার, পরিবারকেন্দ্রিকতা— এগুলোর ফলে পরিবারের প্রতি একটা আকর্ষণ তৈরি হবে। তা না হলে একটা সময় শিশুটি আত্মকেন্দ্রিক ও স্বার্থপর হয়ে উঠবে। যেটা তাদের ভবিষ্যতের পক্ষে ক্ষতিকর।

আরও পড়ুন-ডাল লেকে হাউসবোটে আগুন, অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু ৩ বাংলাদেশি পর্যটকের

সংযমী হতে শেখানো
জুভেনাইল ক্রাইম বা নেশা— এগুলো একাকীত্ব এবং মোবাইল স্ক্রিনে সারাদিন ধরে যে গেমগুলো খেলছে তার মধ্যে থেকেই তৈরি হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ধংসাত্মক মোবাইলে গেম খেলে তারা। মাঠে খেলাধুলো করে না। এরপর বাড়িতে এখন নিউক্লিয়ার ফ্যামিলিতে বাবা-মা তাঁদের দাম্পত্যজীবনে ভাষার সংযম রাখেন না। যাঁর যে ভাষা প্রয়োজন সব ব্যবহার করে ফেলছেন, মাত্রাজ্ঞান নেই। এর কারণ সিনিয়র অভিভাবকেরা এখন বেশিরভাগ বাড়িতে নেই। এই অসংযমের জীবন বাচ্চা দেখে বড় হচ্ছে ফলে, তার জীবনটাও অসংযমী হয়ে যাচ্ছে। ফলে একটা বছর আঠারোর ছেলের স্পেসের দরকার। তাদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের নেশা করার প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। এইভাবে জীবনটা জটিল মনস্তত্ত্বের দিকে যাচ্ছে। তাদের যাঁরা রোল মডেল তাঁদেরই সংযমী জীবন নয়, ফলে শিশুরাও সংযম শিখছে না। এক্ষেত্রে জরুরি আরও বেশি একে অপরের সঙ্গে এবং পরিবারের সঙ্গে জুড়ে থাকা। এতে শিশুটিও সরল, সংযমী জীবনযাপন করতে শিখবে।

Jago Bangla

Share
Published by
Jago Bangla

Recent Posts

রাজ্যের কৃষি গবেষণায় বড় সাফল্য, উচ্ছ্বসিত মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্যের কৃষি গবেষণায় বড় সাফল্যের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। মঙ্গলবার নিজের…

25 minutes ago

আরও একধাপ এগোলেন! ভ্যান্স-রুবিওকে সঙ্গে নিয়ে গ্রিনল্যান্ড দখল ট্রাম্পের

গ্রিনল্যান্ড (Greenland_Donald Trump) দখলে মরিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার একধাপ এগিয়ে মঙ্গলবার ট্রাম্প তাঁর…

3 hours ago

নিজের কেবিনে একাধিক মহিলার সঙ্গে অশ্লীল আচরণ, সাসপেন্ড পুলিশকর্তা

এক নয়, একাধিক! নিজের দফতরে মহিলাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর শাস্তি পেলেন সেই পুলিশ আধিকারিক। কর্নাটক…

6 hours ago

রাজ্যে বাড়ছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা

প্রতিদিন ১ ডিগ্রি করে বাড়ছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। কলকাতা (Kolkata) থেকে আগামী কয়েকদিনে প্রবল শীতের কনকনানি…

6 hours ago

সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি, নেপথ্যে কোন অঙ্ক?

নয়াদিল্লি : অভূতপূর্ব ঘটনা বিজেপিতে (BJP)। মাত্র ৪৫ বছর বয়সেই বিজেপি সভাপতি পদে বসলেন নীতিন…

6 hours ago

সিআরপিএফ ক্যাম্পে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার নাবালিকা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করল ক্ষুব্ধ তৃণমূল

নয়ডা : ডাবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যে এখন নারী-নিরাপত্তার নামে যে কতবড় প্রহসন চলছে তা আরও…

7 hours ago