প্রকৃতি ধ্বংস, বিপন্ন প্রজাতি, খাদের কিনারে সাঁতারু উট

Must read

সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়: সাঁতারু উট। এক বিরল প্রজাতি। প্রকৃতির উপর যত মানুষের খবরদারি বাড়ছে, ততই বিপন্ন হয়ে পড়ছে এরা। উট বললেই আমাদের চোখের সামনে যে চিত্র ফুটে ওঠে তার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এই উটদের জীবনযাত্রা। তারাই বেশ কিছু বছর ধরে মহা সমস্যায় রয়েছে। ম্যানগ্রোভ অরণ্য যত ধ্বংস হচ্ছে, ততই এদের আয়ু এবং সংখ্যা। প্রকৃতির উপর মানুষের চোটপাট বাড়তে থাকায় এখন অস্তিত্বের সংকটে এই প্রজাতি।

আরও পড়ুন-‘মমতার উন্নয়নকে স্বীকারের জন্য ‘ঠগী’ যোগীকে ধন্যবাদ!’ বিজ্ঞাপনকাণ্ডে তোপ ডেরেকের

গুজরাটের কচ্ছের রানে বিরল প্রজাতির এই সাঁতারু উটদের দেখা মেলে। গরম বালি নয়, গলা সমান জলের মধ্যে দিয়ে হেঁটে যেতে এদের দেখা যায়। এই চিত্র ধীরে ধীরে কমে আসছে। বিশেষ প্রজাতির এই উট খাড়াই উট নামে পরিচিত। মূলত খাদ্যের খোঁজে এরা বিপুল জলরাশি সাঁতার কেটে পার হয়। আর সেই খাবারেই পড়েছে টান। গত বছর চার পাঁচেক ধরে এই সমস্যা ক্রমে ব্যাপক আকার ধারন করেছে। যার প্রভাব পড়েছে এই উটেদের উপর।


কিন্তু খাবার খেতে জলের পেরিয়েই বা যেতে হবে কেন? আসলে সাঁতারু উটদের খাবার হল ম্যানগ্রোভ জাতীয় অরণ্যের গাছ। জলে সাঁতরে কেটে এরা দল বেঁধে হাজির হয় ম্যানগ্রোভ অরণ্যের দ্বীপগুলিতে। কচ্ছে যেসব ম্যানগ্রোভ অরণ্যের দ্বীপ রয়েছে সেগুলির উপর পড়েছে মানব সভ্যতার কোপ। তৈরি হচ্ছে বাড়ি। কাটা পড়ছে গাছ। ফলে ক্রমশ কমছে খাড়াই উটদের খাবার। এটাই তাদের বেঁচে থাকাকে দিনের পর দিন কঠিনতর করে তুলেছে। কচ্ছের রাবারি ও জাট গোষ্ঠী মানুষজন খাড়াই উটদের দেখভাল করে। স্বাভাবিকভাবে এরাও খাদ্যের জোগান দিতে পারছে না। ম্যানগ্রোভ অরণ্যই থাকছে না, তো খাবার মিলবে কোথা থেকে? একদিনও জল, খাবার ছাড়া থাকতে পারে না এই প্রজাতির উট। রাবারি, জাটেদের অভিযোগ, সাঁতারু উটদের প্রয়োজনীয় জল এবং ঘাস ফুরিয়ে যাচ্ছে। তাই এই প্রজাতির উটগুলিকে বাঁচানো যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন- ‘ত্রিপুরায় বাড়ছে এনার্জি, আসছে অভিষেক ব্যানার্জি’

আগে এই উটদের গড় আয়ু ছিল প্রায় ৬৫ বছর। তিন গুণ কমে এখন ১৮ থেকে ২০ বছর বাঁচতে পারছে তারা, তাও ধুঁকতে ধুঁকতে। এদের পরিস্থিতি যে কতটা খারাপ তা আরও একটি তথ্যে স্পষ্ট হবে। কচ্ছের মোহাদি গ্রামে কিছু বছর আগেও খারাই উটের সংখ্যা ছিল প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০। তা এখন শ’খানেক এসে ঠেকেছে। জল, খাবার ছাড়া একদিনও থাকতে পারে না। ভারত ছাড়া পাকিস্তানেও এই বিরল প্রজাতির উটেদের দেখা মেলে। সেখানেও তাদের অবস্থা সঙ্গীন।

Latest article