বামপন্থী ছাত্রদের ক্যাম্পাসে গুন্ডামি, আক্রান্ত টিএমসিপি নেতা-কর্মীরা, মুখ্যমন্ত্রীর ওপরই ভরসা মৃতের পরিবারের

সংগঠনের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, বিধায়ক দেবাশিস কুমার-সহ আরও অনেকে।

Must read

প্রতিবেদন : আপনাদের পাশে আছেন মুখ্যমন্ত্রী। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে নৈরাজ্য চলছে। অবিলম্বে এসব বন্ধ করতে হবে। মৃত ছাত্রের পুরো পরিবার বিধ্বস্ত। তাঁরা এখন শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিশ্বাস করছেন। এদিন রানাঘাটে মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে এ কথা বলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। এদিনই ওই ঘটনার প্রতিবাদে যাদবপুরের ৮বি বাসন্ট্যান্ডে ধরনা-বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদ।

আরও পড়ুন-লুঠপাট, হুমকি পদ্ম নেতার, ভয়ে ঘরছাড়া মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের

ধরনার পর ডেপুটেশন দিতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি মিলিত ভাবে তাঁদের বাধা দেয়। টিএমসিপি সমর্থকদের মারধর করে। রাজন্যা হালদার ও সুশান্ত প্রামাণিক গুরুতর আহত হয়ে আপাতত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের ঘরের ছেলের এই মর্মান্তিক পরিণতির প্রতিবাদে এদিন বগুলার বাসিন্দারা যাদবপুরে মিছিল করেন।

আরও পড়ুন-ছাত্রীহেনস্থার তদন্তে পুলিশ আসতেই ভয় পেয়ে আটকাতে বর্ষামঙ্গল বন্ধ করে ধর্না শুরু উপাচার্যর

বুধবার দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তৃণমূলের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল পৌঁছে যায় রানাঘাটে মৃত ছাত্রের বাড়িতে। প্রতিনিধি দলে ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু, সাংসদ ডাঃ কাকলি ঘোষদস্তিদার, নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী ডাঃ শশী পাঁজা, মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ও যুবনেত্রী সায়নী ঘোষ। তাঁদের দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মৃতের বাবা-মা। প্রায় ঘণ্টাখানেক তাঁরা পরিবারের সঙ্গে কাটান। মৃতের বাবা, মা, ভাই ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেন। বাইরে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছে, তাঁরা বিধ্বস্ত। ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমরাও আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলাম। যারা দোষী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় আরও ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিরা কেউ ছাড়া পাবে না। তিনি আরও বলেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে নৈরাজ্য চলছে। অনেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে নিজেকে হনু ভাবছে। এসব বন্ধ করতে হবে। আর একজন, বিজেপির নির্দেশে রাজভবন থেকে কলকাঠি নেড়ে সবকিছু কুক্ষিগত করতে চাইছেন। রামপ্রসাদবাবু, স্বপ্নাদেবীদের মতো আজকে যাঁরা ছেলেকে হারালেন তাঁদের দিকে তাকিয়ে অন্তত যেটুকু মানবিকতা অবশিষ্ট আছে সেটুকু ফিরিয়ে আনুন। কাকলি ঘোষদস্তিদার বলেন, সন্তানহারা বাবা-মাকে বলার কিছু নেই। তাঁদের দাবি শাস্তির। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি দেখছেন। সুবিচার নিশ্চয়ই পাবেন।

আরও পড়ুন-রাজ্যের নির্দেশ মানে না যাদবপুর, বললেন মন্ত্রী

এদিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে এদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেপুটেশন দিতে যান সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তাঁরা ডেপুটেশন দিতে গেলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসে তাঁদের ঢুকতে বাধা দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি। তারপরই মারমুখী হয়ে ওঠে বামপন্থী ছাত্ররা। টিএমসিপি নেতা, কর্মীদের মারধর করে তারা। তাদের গুন্ডামির শিকার হন টিএমসিপি নেত্রী রাজন্যা হালদার। তাঁর জামা ছিঁড়ে দেওয়া হয়। তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন।

আরও পড়ুন-উত্তর থেকে দক্ষিণ, জেলা পরিষদে তৃণমূলের বোর্ড গঠনে উচ্ছ্বাস, মালদহে নারীশক্তির জয়

এছাড়াও আহত হন সুশান্ত প্রামাণিক। পরে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছাত্র-মৃত্যুর ঘটনায় এদিন যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ডে ধরনা-বিক্ষোভ দেখায় টিএমসিপি। ধরনা-মঞ্চ থেকে হস্টেলে সিসিটিভি বসানো, বামপন্থী ছাত্রদের গুন্ডামি বন্ধ করার আওয়াজ ওঠে। সংগঠনের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, বিধায়ক দেবাশিস কুমার-সহ আরও অনেকে।

Latest article