ফুরুন গাঁও

পাহাড়ের কোলে একটি অপরূপ সুন্দর গ্রাম। যেখানে ঘুম থেকে উঠে ঘরের দরজা খুললেই চোখে পড়বে অসংখ্য ময়ূর। এ-ছাড়াও আছে বিভিন্ন ধরনের পাখি। তারা আপন খেয়ালে সবাই ঘুরে-বেড়াচ্ছে চারিদিকে। সত্যিই এক অভাবনীয় দৃশ্য। আর এই দৃশ্যই দেখা যায় কালিম্পংয়ের খুব কাছের একটি অফবিট গ্রামে। গ্রামটির নাম হচ্ছে ফুরুন গাঁও। ফুরুন গাঁও নিয়ে লিখলেন কাকলি পাল বিশ্বাস

Must read

কালিম্পংয়ের ময়ূর গ্রাম ফুরুন গাঁও
কলকাতার গরম মানেই প্যাচ-প্যাচে গরম। আর এ বছর গরমটা যেন যেতেই চাইছে না। স্কুলটা ছুটি পড়তেই ঠিক হল অন্তত দু’দিনের জন্য পাহাড়ের কোনও একটা গ্রামকে নিজের বাসভূমি করে নেওয়া যেতেই পারে। তবে সেটা এমন একটা জায়গা হবে, যেখানে মানুষের কোলাহল থাকবে না। একদম শান্ত নিরিবিলি পাহাড়ি পরিবেশে অবস্থিত হতে হবে গ্রামটিকে। নিজেদের বুদ্ধি যখন কাজ করে না তখন গুগলকে সঙ্গী করতেই হয়। সেইমতো আমরা গুগলে সার্চ করতে শুরু করলাম। আর গুগল আমাদের খোঁজ দিল একটি পাহাড়ি সুন্দর গ্রামের, গ্রামটির নাম ফুরুন গাঁও।

আরও পড়ুন-ব্রডের রেকর্ডের দিনে স্বস্তিতে নেই অস্ট্রেলিয়া

কী অপরূপ শোভা তোমার
অপূর্ব সৌন্দর্য যেন গায়ে মেখে দাঁড়িয়ে আছে ফুরুন গাঁও। চারিদিক সবুজ পাহাড় ঘেরা এই গ্রাম। প্রকৃতি যেন গ্রামটা সৃষ্টি করার সময় সবটুকু উজাড় করে দিয়েছে। সকালবেলা চোখ খুললেই চোখের সামনে পাহাড়ের সারি। আর তার মাঝখান দিয়েই চোখে পড়বে কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ শোভা। নিরিবিলি নির্জন গ্রাম থেকে সেই শোভা যেমন দৃষ্টিনন্দন ঠিক তেমনই আরামদায়ক। এই ফুরুন গাঁও প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে একটি স্বর্গরাজ্য। কালিম্পং জেলার পেডং-এর কাছে অবস্থিত এই গ্রামটি এখনও অবধি হিমালয়ের অফবিট ডেস্টিনেশন হিসাবে চিহ্নিত। এই গ্রামটিতে এখনও সেই ভাবে পর্যটকদের পা পড়েনি আর তাই প্রকৃতির কোলে এই গ্রামটিতে থাকলে স্বর্গীয় অনুভূতি হয়। এই ফুরুন গাঁওয়ের যেকোনও জায়গায় দাঁড়িয়ে চারিদিকে তাকালে চোখে পড়বে পাহাড় আর জঙ্গল, যেন চারদিক থেকে পাহাড়- জঙ্গলে কেউ মুড়িয়ে রেখেছে গ্রামটিকে। রাত্রিবেলা ফুরুন গাঁও থেকে কালিম্পং শহরটাকে দেখতে লাগে অসাধারণ।

আরও পড়ুন-লজ্জা! ছিঃ বিজেপি

হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা
বাস্তব জগৎকে বিদায় জানিয়ে এই স্বপ্নের অফবিট ডেস্টিনেশন ফুরুন গাঁওয়ে দিন দুই কাটানোই যেতে পারে। এই গ্রামটির আরেক নাম হল ময়ূর গ্রাম। পশ্চিমবঙ্গের আর পাঁচটা গ্রামের উঠোনে যেমন হাঁস-মুরগি চরে বেড়ায় ঠিক তেমনই এই ফুরুন গাঁওয়ে দলে দলে ময়ূর ঘুরে বেড়ায়। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে দরজা খুললেই চোখে পড়বে ময়ূরের দল, যারা গ্রামের চারদিকে নিশ্চিন্ত ভাবে ঘুরে বেড়ায়। ফুরুন গাঁওয়ে পনেরো থেকে কুড়ি ঘর বাসিন্দা বাস করে। তারা সবাই ভুটানি। এদের প্রধান পেশা হচ্ছে চাষবাস। পাহাড়ের গায়ে ধাপ কেটে কেটে এরা ধান থেকে শুরু করে গম, ভুট্টা প্রভৃতির চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে। আর এই সমস্ত ফসল খেতে ভোরবেলাতেই এখানে দলে দলে ময়ূর এসে হাজির হয়। ময়ূর ছাড়াও এখানে পার্পেল সানবার্ড তথা নীল টুনি, বার্ন সোয়ালো তথা আবাবিল ইত্যাদি নানা জাতের পাখিও দেখতে পাওয়া যায়। যদি কপালে থাকে তাহলে এর সঙ্গে হরিণেরও দেখা পাওয়া যেতে পারে।

আরও পড়ুন-কেন বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে এফআইআর নয়! প্রশ্ন বিচারপতির

কেন যাবেন ফুরুন গাঁও
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় চার হাজার পাঁচশো ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই কুমারী গ্রাম ফুরুন গাঁওয়ে গেলে সৌন্দর্যের সঙ্গে সঙ্গে দেখা যাবে পাহাড়ের ধাপে ধাপে কীভাবে জৈব চাষ হচ্ছে তার প্রক্রিয়া। এ-ছাড়াও এই ফুরুন গাঁওয়ে আছে রংলি নদী। তিরিশ মিনিট ট্রেক করে পৌঁছে যেতে পারেন এই রংলি নদীর ধারে এবং এই রংলি নদীতে কিছুক্ষণ মাছ ধরার অভিজ্ঞতাও সঞ্চয় করা যেতে পারে।
এই ফুরুন গাঁওকে কেন্দ্র করে দেখে নেওয়া যেতে পারে ঋষিখোলা, লাভা, পেডং, জলসা বাংলো, রংপো ইত্যাদি জায়গা।

আরও পড়ুন-বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন মণিপুর-রাজ্যপাল

জলসা বাংলা
বাংলোটি ব্রিটিশ আমলে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এটি একটি সরকারি রিসর্টে পরিণত হয়েছে। এখান থেকে তিস্তা নদী এবং কাঞ্চনজঙ্ঘার ভিউ অত্যন্ত সুন্দর। এই অঞ্চল সিঙ্কোনা চাষের জন্য বিখ্যাত। ব্রিটিশ আমলে সিঙ্কোনা চাষের উৎপাদন এবং বিপণন যে সমস্ত সাহেবরা দেখাশোনা করতেন তাঁদের থাকার জন্য এই বাংলোটি তৈরি করা হয়েছিল। এই বাংলাটির চারিদিকে বহু প্রাচীন বিশালাকৃতি গাছ দেখতে পাওয়া যায়। এখানে একটি সুন্দর ফুলের বাগান রয়েছে।

আরও পড়ুন-একুশে আবেগ, কর্মীদের মাঝে অভিষেক

লাভা
লাভা হচ্ছে মেঘে ঢাকা, কুয়াশায় মোড়া আর পাইন গাছ দিয়ে ঘেরা একটি গ্রাম। এখানকার সৌন্দর্য অপরূপ। লাভাতে বৌদ্ধ মনেস্ট্রি, চ্যাঙ্গি ঝরনা নিয়ে নেওড়া ভ্যালি ইত্যাদি দর্শনীয় স্থান আছে।
এ-ছাড়াও ফুরুন গাঁও থেকে পেডং, ঋষিখোলা ইত্যাদি যেসব জায়গায় যাওয়া যেতে পারে, সে-সমস্ত জায়গাগুলো সৌন্দর্যের দিক থেকে অসাধারণ।

Latest article