ভবানীপুর উপনির্বাচন, রেকর্ড মার্জিনের লক্ষ্যে ব্লু-প্রিন্ট তৈরি তৃণমূলের

Must read

ভবানীপুর উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাজ সাজ রব এখন তৃণমূল কংগ্রেস। প্রার্থী খোদ দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জয় নিশ্চিত সেই ব্যাপারে সন্দেহ নেই। তবে শাসক শিবিরের কাছে এই ভোট শুধু একটা উপনির্বাচন নয়, উল্টে এই ভোট ষড়যন্ত্রের জবাব। এটা যেন আত্মমর্যাদার লড়াই। অশুভ শক্তিকে বিনাশের ডাক।

আরও পড়ুন-আর এক ‘নির্ভয়া’র মৃত্যু, রাতের মুম্বইয়ে নয়া আতঙ্ক

শুধু জয় নয়, নজিরবিহীন মার্জিন চাইছে এবার তৃণমূল কংগ্রেস। তাই নির্বাচন ঘোষণার পর থেকে কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে তৃণমূলস্তরের কর্মীরা। নন্দীগ্রামে কীভাবে ষড়যন্ত্রের বলি হয়েছেন, কর্মিসভাতেই তা তুলে ধরেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। জেতা ম্যাচ কার্যত গায়ের জোরে হারিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এবার জবাব তিনি দিতে চান ভোটবাক্সে। ভবানীপুরের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক। তিনি ভবানীপুরের ঘরের মেয়ে। ২০১১ সালের পরিবর্তনের বছরে উপনির্বাচন ও ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও ভবানীপুর তাঁকে বিপুল সমর্থন জানিয়েছে। এবারও সেটাই হবে। নন্দীগ্রামের ষড়যন্ত্রের জবাব দেবে ভবানীপুর।

আরও পড়ুন- শুভেন্দুকে কেন তলব নয়? সূর্যকান্তর নিশানায় বিজেপি

রেকর্ড মার্জিনের লক্ষ্যে ব্লু-প্রিন্ট তৈরি। ভবানীপুরের ৮ ওয়ার্ডে দ্বিমুখী প্রচার কৌশল নিয়েছে ঘাসফুল শিবির। “ভবানীপুর নিজের মেয়েকে চায়”, তাই ঘরের মেয়ের হয়ে প্রচারে ঝাঁপাচ্ছে তৃণমূলের মহিলা ব্রিগেড। ওয়ার্ড পিছু প্রতিদিন নিয়ম করে নির্দিষ্ট স্ট্রিট কর্নার, সকাল-সন্ধ্যা ডোর-টু-ডোর দলের প্রথমসারির নেতাদের। কোভিড বিধি মেনে পাঁচজন করে দলে ভাগ হয়ে তাঁরা যাবেন মানুষের বাড়ি-বাড়ি। এখনও পর্যন্ত ঠিক রয়েছে প্রতিটি ওয়ার্ডে ৬টি করে স্ট্রিট কর্নার হবে। আটটি ওয়ার্ডে সেক্ষেত্রে সবমিলিয়ে প্রায় ৫০টি ছোট ছোট সভা হবে। এই সভাগুলিতে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ২০ জন তারকা প্রচারক বক্তব্য রাখবেন। আগামী সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ায় একটি কর্মিসভা করছেন তাঁর ভাই তথা দলের ‘জয়হিন্দ বাহিনী’র সভাপতি কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনের নির্দেশ মেনে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শেষ হবে প্রচার পর্ব। যেহেতু ভবানীপুরে বহুভাষী মানুষের বাস, তাই বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি ভাষায় তৈরি হয়েছে লিফলেট।
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরে তৃণমূল প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বড় ব্যবধানে জিতলেও ৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে দুটি ওয়ার্ডে এগিয়ে ছিল বিরোধীরা। তাই ওই এলাকায় বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে, তা প্রতিদিন বসে ছকে নেওয়া হচ্ছে।

ভবানীপুর উপনির্বাচনে নজর গোটা দেশের। তৃণমূলনেত্রী বলেছেন, একদিকে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পত্তি বিক্রি করে দিচ্ছে বিজেপি, অন্যদিকে পেট্রল-ডিজেল, রান্নার গ্যাসের ক্রমাগত দামবৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস অবস্থা সাধারণ মানুষের। কর্মসংস্থান, সার্বিক উন্নয়নে বাংলা যখন দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা অর্জন করছে, তখন বিজেপির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার ‘আচ্ছে দিন’ এনে দিতে পারেনি।

আরও পড়ুন- মিথ্যার ঢাক না পিটিয়ে মমতার থেকে শিখুন, নির্মলাকে তোপ অমিতের

তৃণমূল নেত্রীর আক্ষেপ, তিনি নন্দীগ্রামে লড়াই করতে গিয়েছিলেন, সেটা অপরাধ নয়। সেখানকার সাধারণ মানুষ তাঁকে অনুরোধ করেছিল। নন্দীগ্রামের প্রতি তাঁর একটা আলাদা আবেগ থাকে সবসময়। এবার নন্দীগ্রামের জবাব এখানে দিতে চান ভবানীপুরে। তার জন্য চাই মানুষের সমর্থন। কিন্তু উপনির্বাচনের ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে যেতে অনীহা থাকে। এবার তাই সকল মানুষ যাতে উৎসবের মেজাজে ভোট দেন, সেটাই লক্ষ্য তৃণমূলের। ভবানীপুরের বুকে নতুন ইতিহাস গড়তে শাসক চায় রেকর্ড মার্জিন। কারণ, এ শুধু নিরীহ উপনির্বাচন নয়, ষড়যন্ত্রের জবাব, আত্মমর্যাদার লড়াই।

 

Latest article