পর্যটন, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাটে বদলেছে জেলা

স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও সম্প্রতি প্রসূতি বিভাগের গুণগতমান যাচাইয়ে বাংলার দুই হাসপাতালের মধ্যে বারুইপুর হাসপাতালের লেবার রুমকে পুরস্কৃত করে কেন্দ্র।

Must read

নাজির হোসেন লস্কর, ডায়মন্ড হারবার: বাম আমলে দক্ষিণবঙ্গের প্রান্তিক জেলা দক্ষিণ ২৪ পরগনার অবস্থান ছিল সবচেয়ে নিচে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে নদীমাতৃক এই জেলা উন্নয়নের দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে গিয়েছে। ইউনেস্কো-স্বীকৃত বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থান সুন্দরবনকে নিয়ে গঠিত এই জেলা তৃণমূল সরকারের আমলে ধাপে ধাপে প্রথম বা দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। জেলার এই উন্নয়ন ও অগ্রগতির নেপথ্যে রয়েছেন হ্যাটট্রিক করা প্রথম মহিলা জেলা সভাধিপতি সামিমা শেখ। ২০০৮ সালে জনপ্রতিনিধি হিসেবে সামিমা জেলার দায়িত্ব নেওয়ার পর পর্যটন, শিল্প, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাট-সহ সমস্ত ক্ষেত্রে উন্নয়ন-কর্মকাণ্ডে জেলার চিত্র বদলে গিয়েছে। মকরসংক্রান্তিতে গঙ্গাসাগর মেলাকে ঘিরে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগম হয়।

আরও পড়ুন-বসছে তিন আদিবাসী নেতার মূর্তি

তাঁদের সব ধরনের পরিষেবা দিয়ে দেশ জুড়ে বিশেষ সুনাম অর্জন করেছে জেলা প্রশাসন। গড়ে উঠেছে বহু পর্যটনক্ষেত্র। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে মহিলাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বনির্ভর করা হয়েছে। যার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর ‘সুন্দরিনী’ সমবায় প্রকল্পে প্রায় ৮ হাজার মহিলাকে স্বনির্ভরতার পথ দেখিয়েছে। ‘সুন্দরিনী’র উৎপাদিত খাদ্যসামগ্রী, জৈবিক দুধ, মিষ্টি গোটা দেশে সুনাম কুড়িয়েছে। বিদেশেও পাড়ি দিয়েছে ‘সুন্দরিনী’ মধু। ব্লকে ব্লকে গড়ে উঠেছে কুটির বা হস্তশিল্প সহায়ক ক্লাস্টার। শিল্পের সম্প্রসারণে সব দফতরকে এক ছাতার তলায় নিয়ে এসে সমস্যা মেটানো হয় সিনার্জি সম্মেলনের মাধ্যমে। স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও সম্প্রতি প্রসূতি বিভাগের গুণগতমান যাচাইয়ে বাংলার দুই হাসপাতালের মধ্যে বারুইপুর হাসপাতালের লেবার রুমকে পুরস্কৃত করে কেন্দ্র। উন্নয়ন প্রসঙ্গে বিস্তারিত জানানোর পাশাপাশি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন জেলা সভাপধিপতি।

আরও পড়ুন-চারদিনের চামুণ্ডা পুজোয় মাতোয়ারা মন্তেশ্বর

তিনি বলেন, ‘‘উন্নয়নের গতি রুখে দিতে চাইছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। বহু প্রকল্পের কাজ মাঝপথেই বন্ধ করে দিতে হচ্ছে। কারণ রাজ্যের প্রাপ্য টাকা দিচ্ছে না কেন্দ্র। ১০০ দিনের কাজের টাকা মানুষ পাচ্ছেন না। আবাস যোজনায় জেলা একাধিকবার পুরস্কৃত হলেও ওই খাতেও টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে মোদি সরকার।’’ সভাধিপতির বক্তব্য, ‘‘ভাঙন জেলার এক বড় সমস্যা। প্রতি বছর চলে বাঁধ দেওয়ার কাজ। বাদাবন রক্ষা করতে বসানো হয় ম্যানগ্রোভ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় নদী-তীরবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষকে ঠাঁই দিতে বানানো হয়েছে একাধিক আশ্রয়কেন্দ্র। গঙ্গাসাগরে সমুদ্রতটের ভাঙন ঠেকাতে ব্যবহার হচ্ছে মুম্বইয়ের মেরিন ড্রাইভের মতো টেট্রাপড।’’ সামিমার দাবি, ‘‘জেলার সার্বিক উন্নয়নই আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে আমাদের হাতিয়ার। উন্নয়নই তৃণমূলের প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে। এই নির্বাচনে আমাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো দ্বিতীয় কোনও রাজনৈতিক দল নেই। ৮৫ আসনের জেলা পরিষদ এবারও নিশ্চিতভাবেই বিরোধীশূন্য হবে।’’

Latest article