Featured

কলমটা এখনও আছে

সুখেন্দু হীরা
গোপাল বড় সুবোধ বালক। তার বাপ-মা যখন যা বলেন, সে তাই করে। যা পায় তাই খায়, যা পায় তাই পরে। ভাল খাব, ভাল পরব বলে উৎপাত করে না। গোপাল তার ছোট বোনকে খুব ভালবাসে। সে কখন ও কারও সঙ্গে ঝগড়া করে না। গোপাল পড়ার সময় পড়াশোনা, আর খেলার সময় বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা করে। এজন্য সবাই তাকে ভালবাসে।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রণীত বর্ণপরিচয় প্রথম ভাগে বর্ণিত গোপালের মতোই ভাল ছেলে আমাদের এই গোপাল। স্কুলের শিক্ষকরা তাকে খুব পছন্দ করে। শিক্ষক মহাশয়রা সকলেই একমত গোপালের মেধা আছে। অনেকের অভিমত, গ্রামের স্কুলে না পড়িয়ে ওকে যদি রামপুরহাট শহরে পড়ানো যায় তাহলে খুব ভাল হয়। গোপালের যা বুদ্ধিমত্তা, তাতে সে জীবনে অনেক উন্নতি করবে।
আরও পড়ুন-পদ্ম গোখরো
শিক্ষক মহাশয় ও অন্যদের মতামত নিয়ে গোপালের বাবা পরিতোষ মণ্ডল সিদ্ধান্ত নেয় ছেলেকে রামপুরহাটে পড়াবে। পরিতোষবাবু ঠিক করলেন রামপুরহাটে বাসাবাড়ি ভাড়া নেবেন, সপরিবারে সেখানেই থাকবেন। ছোট মেয়েকেও রামপুরহাট গার্লস স্কুলে ভর্তি করে দেবেন। তাহলে ছেলে-মেয়ের শিক্ষার ব্যাপারে কোনও অবহেলা থাকবে না।
পরিতোষবাবুর পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব ভাল নয়। পরিতোষ বাবু ‘প্রাণীবন্ধু’র কাজ করেন। প্রাণীবন্ধুরা সরকারি দোকান থেকে ষাঁড়ের শুক্রাণু কিনে গ্রামে ঘুরে ঘুরে গাভীদের কৃত্রিম প্রজনন ঘটান। বুধিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনেই পরিতোষবাবুর কাজকর্ম। গোপালের মা সুলেখা ‘আশাকর্মী’। ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে কষ্ট স্বীকার করতে তাঁরা স্বামী-স্ত্রী পিছপা হলেন না।
রামপুরহাট শহরের উপকণ্ঠে কালীসারা পাড়াতে ঘর ভাড়া নেন পরিতোষবাবু। কালীসারার বাসা বাড়ি থেকে স্কুল ২ কিলোমিটার মতো। এছাড়া সাইকেল চালিয়ে গোপাল কোচিং-এ পড়তে যায়। কোচিং থেকে সাধারণত সাড়ে ন’টা নাগাদ ফিরে আসে। তারপর স্নান করে খেয়ে স্কুল যায়। পরিতোষবাবু সকালেই কাজে বেরিয়ে যান। পরিতোষ বাবুর স্ত্রী সুলেখা সকালে রান্না করে রেখে কাজে বেরিয়ে যান। গোপাল নিজে ভাত বেড়ে খেয়ে স্কুল চলে যায়।
একদিন সকালে গোপাল যথারীতি সাইকেল চালিয়ে কোচিংয়ে গেল। সুলেখাদেবী রান্না সেরে কাজে গেলেন। সুলেখাদেবী বাড়ি ফিরে এসে দেখেন গোপাল ভাত খায়নি। সুলেখাদেবী ভাবলেন গোপাল হয়তো ভাত না খেয়েই স্কুলে গেছে। স্কুল থেকে ফেরার সময় পেরিয়ে গেলেও গোপাল বাড়ি ফেরে না। সুলেখাদেবী চিন্তিত হলেন। গ্রামের বাড়িতে খোঁজ নিলেন, না সেখানেও গোপাল যায়নি। ভাবলেন হয়তো কোনও বন্ধুর বাড়িতে গেছে। সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা নাগাদ সুলেখাদেবীর মোবাইলে গোপালের ফোন আসে।
উৎকণ্ঠিত সুলেখাদেবী জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তুই কোথায় আছিস?’
—‘মা আমি এখন মল্লারপুরে আছি। আমাকে দুটো লোক অজ্ঞান করে গাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। গণপুর জঙ্গলে নামিয়ে দিয়েছে। আমি সাইকেল চালিয়ে মল্লারপুর পর্যন্ত এসেছি। আর পারছি না। আমাকে নিয়ে যাও।’
এই কথা শোনামাত্রই সুলেখাদেবী স্বামীকে ফোন করেন। পরিতোষবাবু একটু দূরের গ্রামে ‘কল অ্যাটেন্ড’ করতে গেছেন। আতঙ্কিত সুলেখাদেবী ভাই ও বোনপোকে নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। দেখেন মল্লারপুর বাজারে একটি ওষুধের দোকানে উদভ্রান্তের মতো গোপাল দাঁড়িয়ে আছে।
কারা গোপালকে কিডন্যাপ করল, কেনই বা করল? করল যদি আবার ছেড়ে দিল কেন? গোপালের বাড়ির লোক কিছুই বুঝতে পারল না। গোপাল আর রামপুরহাটে থাকতে চাইছে না। বারবার বলছে ‘বাবা আমাকে কেউ যেন ফলো করছে’। যখন স্কুল থেকে ফিরি তখন আমার সাইকেলের পিছনে একটা লোক প্রায় মোটর সাইকেলে আমাদের এই পাড়া পর্যন্ত আসে।
শুনে  পরিতোষবাবু আরও ভয় পেয়ে যান। ঠিক করলেন, নিজেই সাইকেলে করে গোপালকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে আসবেন।
একদিন এরকম গোপালকে নিয়ে তিনি রামপুরহাটের স্কুলে এসেছেন। ক্লাস শেষ হলে ফেরত নিয়ে যাবেন বলে অপেক্ষা করছেন। এখন সময় একটি মোটরসাইকেলে করে দুজন ব্যক্তি এলেন। একজন বাইকে বসেই রইলেন। আর একজন নেমে সোজা গোপালদের ক্লাস রুমের দিকে এগিয়ে গেলেন। ক্লাস রুমে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এই তোদের কখন ছুটি হবে রে?’
পরিতোষবাবুর বুকটা ধক করে উঠল। তাহলে তো গোপাল ঠিক বলছে, ওর পেছনে মোটরসাইকেল নিয়ে কেউ ফলো করে। আর তো গোপালকে রামপুরহাটে পাঠানো যাবে না। লেখাপড়া মাথায় থাক। আমার মতো গাইগরুকে বীজ দিয়ে খাবে। শুনেছি আরব দেশে ছেলেদের পাচার করে দেয়। মুম্বইয়ে হাত-পা ভেঙে খোঁড়া করে ভিক্ষা করায়। এমনিতেই গোপালের একটা হাতে খুঁত আছে। এ জন্যই হয়তো ওর ওপর লোভ। ওকে দিয়ে সহজে ভিক্ষা করাতে পারবে।
গোপালের ডান হাত সামান্য বিকল। বুড়ো আঙুলটা পুষ্ট নয়। অন্য আঙুলে পেন আটকে লেখে। একটানা লিখতে পারে না। পাঁচ মিনিট লিখে একটু বিশ্রাম নেয়। এতেও তাকে লেখাপড়ায় আটকানো যায় না। কিন্তু চুলোয় যাক লেখাপড়া। আমরা গ্রামেই ফিরে যাব। আবার বুধিগ্রাম হাইস্কুলে হাতে পায়ে ধরে ভর্তি করে দেব। যেটুকু শিক্ষা হয়, ওখান থেকেই হবে।
পরদিনই পরিতোষবাবু সপরিবারে গ্রামে ফিরে গেলেন। গ্রামের লোকেরা জিজ্ঞাসা করলেন, কী এমন হল? পরিতোষবাবু সভয়ে জানালেন ছেলে অপহরণের কাহিনি। এক কান, দু কান থেকে পাঁচ কান হল। স্থানীয় এক রাজনৈতিক ব্যক্তির কানেও সেকথা গিয়ে পৌঁছায়। তিনি জানতেন গোপাল পড়াশোনায় খুব ভাল; শান্ত, শিষ্ট, ধীর। তিনি আগ্রহী হয়ে পরিতোষবাবুর সঙ্গে কথা বলেন। অপহরণের ঘটনা শুনে বললেন এটা তো একটা অপরাধ। তার ওপর এখনও গোপালের পিছনে অনুসরণ করছে। এর একটা বিহিত হওয়া দরকার।
তিনি রামপুরহাটের ‘মহকুমা পুলিশ আধিকারিক’কে ফোন করে বিষয়টি জানালেন। মহকুমা আধিকারিক পরদিন অফিসে আসতে বললেন সবাইকে। সব শুনে এসডিপিও রামপুরহাট সাহেব গোপালকে বললেন, ‘তুমি একবার সেদিনের ঘটনাটা বলো তো!’
গোপাল বলতে থাকে, ‘আমি কোচিং থেকে বাড়ি ফিরছিলাম। সাড়ে নটা নাগাদ। ভাঁড়শালা মোড়ের কাছে একটা লোক আমায় সিগারেট কিনে দিতে বলে। আমি বললাম, পারব না। অমনি লোকটা আমার মুখে কাপড় বেঁধে একটা খালি লরির পিছনে তুলে দিল। আমার সাইকেলটাও গাড়িতে তুলে  নিল। তারপর আমার নাকে কী একটা ধরতেই আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। কিছুক্ষণ পর আমার যখন জ্ঞান ফিরল, তখন একজন আমার হাতের বুড়োআঙুলটা নাড়িয়ে বলছে, এই বাচ্চাটা নয়, একে ছেড়ে দে। তখন আমাকে গণপুর জঙ্গলে নামিয়ে দিল। সাইকেলটাও দিয়ে দিল। আমি সাইকেল চালিয়ে মল্লারপুর পর্যন্ত এলাম। আমার পকেটে এক টাকা ছিল। তাই দিয়ে একটা ওষুধের দোকানে গিয়ে ফোন করি মাকে। মা এসে আমাকে নিয়ে যায়।’
সবশুনে এসডিপিও সাহেবের মনে কয়েকটা ভাবনার উদয় হল। দিনের আলোয় শহরের বুকে মুখে কাপড় চেপে অপহরণের ঘটনা সিনেমাতেও দেখা যায় না। তার ওপর গোপালকে যখন ছেড়ে দিল, সাইকেলটাও ফেরত দিল। এত দয়ালু অপহরণকারী! হতেও পারে ছুঁচো মেরে হাত গন্ধ করতে চায়নি। অতীতের অভিজ্ঞতায় এরকম কোনও অপহরণ হতে দেখেননি তিনি। হলেও সেটা মুক্তিপণের জন্য। আর পাচারের জন্য হলে ছেড়ে দেওয়ার কোনও গল্প থাকত না।
একটু ভেবে সাহেব বললেন, ‘গোপাল চলো তো জায়গাগুলো আমায় একটু দেখাবে।’
ভাঁড়শালা মোড় বেশ জমজমাট জায়গা। মোড়ে যে জায়গাটা গোপাল দেখাল, সেটি মোটামুটি ফাঁকা। সেটি ঠিক ভাঁড়শালা মোড় নয়, সামান্য দক্ষিণে সরে। তবুও দিন-দুপুরে জলজ্যান্ত ছেলেকে সাইকেল-সহ তোলা মুশকিল।
মল্লারপুরে ওষুধের দোকানে গেলেন সবাই। ওষুধের দোকানদার বললেন, ‘আমায় তো একটাকা দেয়নি। বাচ্চা ছেলে দেখে ফোন করতে দিয়েছিলাম।’ গণপুর জঙ্গলের জায়গাটিও দেখাল গোপাল। দেখানোর মধ্যে বিশেষ গরমিল নেই। খটকা শুধু একটা জায়গায়। মোটিভ! কেন অপহরণ করল? কেন এখনও পিছু নিচ্ছে?
জায়গাগুলি দেখে অফিসে না গিয়ে সাহেব সবাইকে নিয়ে বাংলোয় এলেন। বাংলো অফিসের সোফায় বসে গোপালের সঙ্গে গল্প জুড়লেন সাহেব। পড়াশুনার গল্প, বন্ধুদের গল্প, ছেলেবেলার দুষ্টুমির গল্প, স্কুলের গল্প, স্কুল যাওয়ার পথে গাছের ফল চুরি করার গল্প, মাস্টার মশাইদের বিরক্ত করার গল্প। সাহেবের দুষ্টুমির গল্প শুনে গোপাল হেসে কুটিপুটি।
হঠাৎ গোপাল বলে ওঠে, ‘আচ্ছা আপনার এই বাড়িটাতে থাকা যায় না?’
সাহেবের  কানে কথাটা খট করে লাগে। সাহেব বলেন, ‘কেন তোমাদের বাড়িটা ভাল নয়?’
‘আমাদের গ্রামের বাড়িটা ভাল। কিন্তু এখানে ভাড়া বাড়িটা ভাল না।’
‘তা হলে তো তোমার এখনকার স্কুলটাও অতটা ভাল নয়, বন্ধুবান্ধব নেই, মাস্টারমশাইরা ভালবাসে না।’
‘হ্যাঁ আগের স্কুলটাই ভাল ছিল।’
‘কিন্তু তুমি তো ভাল কাজ করোনি!’
‘কী?’
‘তুমি সত্যি কথা বলোনি। তোমায় তো কেউ কিডন্যাপ করেনি! তোমার সেদিন স্কুল যেতে ভাল লাগছিল না। তুমি সাইকেল চালিয়ে মল্লারপুরের দিকে চলে গিয়েছিলে।’
গোপাল সাহেবের চোখ থেকে চোখ নামিয়ে বলে, ‘হ্যাঁ।’
গোপালের নতুন বাসা বাড়িতে একদম মন টিকত না। মন পড়ে থাকত গ্রামের বাড়িতে। শহরের উপকণ্ঠে এই বাসা বাড়িটা ছিল মাটির। বাড়িটা ওর মায়ের মামা বাড়ি। মামারা নতুন বাড়ি করে উঠে গেলে মাত্র ২০০ টাকার বিনিময়ে থাকতে দিয়েছিল। মাটি ভেঙে ভেঙে পড়ত। বাবা, মা কাজে বেরিয়ে গেলে অচেনা লোকেরা এসে উঁকি মারত। নতুন স্কুলের পড়া বুঝতে অসুবিধা হচ্ছিল। তার ওপর মা একদিন বলল, তোকে এখানেও ফার্স্ট হয়ে দেখাতে হবে। গ্রামের স্কুলে সে ফার্স্ট হত, এখানে সে ফার্স্ট যদি না হতে পারে, তাহলে খুব লজ্জার ব্যাপার হবে। গ্রাম থেকে এসেছিল বলে কেউ বিশেষ কথা বলত না ওর সঙ্গে। দু-একবার বাবাকে বলেছে গ্রামের স্কুলটা ভাল ছিল। বাবা বলতেন ‘বাঁশ বনে খটাস রাজা’ হয়ে লাভ নেই। এখানের স্কুলে ফার্স্ট হতে পারলে তো বুঝব তোর কত দম!
সেদিন স্কুলে ইংরেজির টেস্ট ছিল। পড়া ভাল তৈরি হয়নি। গোপাল ভাবল পালিয়ে গেলেই তো হয়। কত ছেলে যে পালিয়ে গিয়ে অনেক টাকা রোজগার করে ঘরে ফেরে। কোচিং থেকে সেদিন আর বাড়িতে না ফিরে সোজা সিউড়ির দিকে যেতে থাকে। সিউড়ি হয়ে দুর্গাপুর। মল্লারপুর ছাড়িয়ে যখন গণপুর জঙ্গলে ঢুকেছে তখন ওর গা-ছমছম করতে শুরু করে। সাইকেল চালিয়ে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে গেলে যদি জন্তু জানোয়ার আক্রমণ করে। তার থেকে বাড়ি চলে যাওয়া ভাল। মল্লারপুর এসে আর সাইকেল চালাতে পারছে না। পা ব্যথা করছে। একটা ওষুধের দোকানে গিয়ে বলে, বাড়িতে একটা ফোন করব। এদিকে সাইকেল চালিয়ে ঘুরতে এসেছিলাম। সাইকেল চালিয়ে ঘরে ফিরতে পারছি না। পায়ে ব্যথা করছে। দোকানদার দয়াপরবশ হয়ে ফোন করতে দেয়।
সাহেব বলেন, ‘তুমি দ্বিতীয় মিথ্যা কথা এটা বলেছ, তুমি এক টাকা দিয়ে ফোন করেছ! আর তৃতীয় মিথ্যা কথা বলেছ, তোমার পিছনে মোটরসাইকেল নিয়ে কেউ ফলো করত।’
গোপাল নিশ্চুপ থাকে।
সাহেব আবার বলেন, ‘দেখো গোপাল নতুন স্কুলে তোমার কিছুদিনের মধ্যে বন্ধু হয়ে যাবে। সবে তো তিন মাস হয়েছে। তুমি অঙ্কে খুব ভাল। ক’দিনের মধ্যে দেখবে, তোমায় শিক্ষকরা চিনে যাবে। চিনে গেলে মাস্টারমশাইরা তোমায় ভালবাসবে। আর তোমার বাবাকে বলব, আর একটা ভাল বাড়ি ভাড়া নিতে। আর আমি তো আছি। তোমার যেদিন ভাল লাগবে না, তুমি সেদিন আমার কাছে চলে আসবে, এই বাড়িতে এসে থাকবে। তোমার শুধু এখন একটাই কাজ,মন দিয়ে পড়াশোনা করা।’
এই বলে সাহেব গোপালের হাতে একটা কলম তুলে দিয়ে বলেন, ‘আমার কথাটা কিন্তু মনে রেখো।’
কিছুদিন পরেই  এসডিপিও সাহেব ওখান থেকে প্রোমোশন পেয়ে অন্যত্র চলে যান। কর্মসূত্রে সংস্পর্শে আসা হাজার লোকের ভিড়ে গোপাল ও তার পরিবার হারিয়ে যায়। অনেকদিন বাদে একটা অচেনা নম্বর থেকে সাহেবের কাছে ফোন আসে। ফোনের ওপার থেকে বলে, ‘স্যার আমি গোপালের বাবা পরিতোষ বলছি।’
‘কে গোপাল?’
‘স্যার আমি রামপুরহাট ধল্লা থেকে বলছি। আমার ছেলেকে নিয়ে আপনার কাছে গিয়েছিলাম। ছেলে বলেছিল কিডন্যাপ হয়েছে। আপনি ওকে একটা পেন দিয়েছিলেন।’
সাহেবের স্মৃতির অতল থেকে গোপাল, তার বাবা, স্কুল পালানো, ইত্যাদি বিষয়গুলো ভেসে ওঠে। সাহেব বলেন, ‘হ্যাঁ হ্যাঁ মনে পড়েছে!’
‘স্যার আপনি তখন নম্বর দিয়েছিলেন, বলেছিলেন কোনও সমস্যা হলে ফোন করতে।’
সাহেব ভাবলেন আবার কী সমস্যা হল? সাহেব বললেন, ‘হ্যাঁ বলুন কী হয়েছে।’
‘স্যার গোপাল নেট কোয়ালিফাই করেছে।’
‘বাঃ খুব ভাল খবর।’
‘স্যার গোপাল এখন ইন্ডিয়ান অয়েলে চাকরি পেয়েছে। খুব শিগগির জয়েন করবে।’
‘বাঃ এ তো আরও আনন্দের খবর। গোপাল এত বড় হয়ে গেল। আমার তো মনে হচ্ছে এই সেদিনের কথা।’
‘স্যার আপনি যে পেনটা দিয়েছিলেন, সেই পেনটা এখনও গোপালের কাছে আছে।’
প্রায় এক যুগ বাদে সাহেবের চোখে কেমন করে যেন জল চলে এল।
[সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত। শুধু চরিত্রগুলোর নাম পরিবর্তন করা হয়েছে]
অঙ্কন : শংকর বসাক
Jago Bangla

Share
Published by
Jago Bangla

Recent Posts

জানুয়ারিতেই দ্বিতীয় দফায় ইন্টারভিউ, বিজ্ঞপ্তি পর্ষদের

প্রতিবেদন: ১৩,৪২১ শূন্যপদের জন্য দ্বিতীয় দফার ইন্টারভিউর দিন ঘোষণা করল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ (West Bengal…

27 minutes ago

‘অনুমোদন’ পোর্টালের জাতীয় স্বীকৃতি, ডিজিটাল পরিকাঠামোয় পুরস্কৃত রাজ্য সরকার

রাজ্য সরকারের ডিজিটাল পরিষেবা উদ্যোগ আরও একবার জাতীয় স্বীকৃতি পেল। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘অনুমোদন’ (Anumodan) নামে…

47 minutes ago

রাজ্যের কৃষি গবেষণায় বড় সাফল্য, উচ্ছ্বসিত মুখ্যমন্ত্রী

রাজ্যের কৃষি গবেষণায় বড় সাফল্যের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। মঙ্গলবার নিজের…

2 hours ago

আরও একধাপ এগোলেন! ভ্যান্স-রুবিওকে সঙ্গে নিয়ে গ্রিনল্যান্ড দখল ট্রাম্পের

গ্রিনল্যান্ড (Greenland_Donald Trump) দখলে মরিয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার একধাপ এগিয়ে মঙ্গলবার ট্রাম্প তাঁর…

5 hours ago

নিজের কেবিনে একাধিক মহিলার সঙ্গে অশ্লীল আচরণ, সাসপেন্ড পুলিশকর্তা

এক নয়, একাধিক! নিজের দফতরে মহিলাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর শাস্তি পেলেন সেই পুলিশ আধিকারিক। কর্নাটক…

8 hours ago

রাজ্যে বাড়ছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা

প্রতিদিন ১ ডিগ্রি করে বাড়ছে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। কলকাতা (Kolkata) থেকে আগামী কয়েকদিনে প্রবল শীতের কনকনানি…

8 hours ago