ঘরেই বাড়ুক গাছ

অন্দরসজ্জা থেকে বাতাস পরিশুদ্ধীকরণ বা দূষণমুক্তি— সবেতেই এগিয়ে ইনডোর প্ল্যান্ট। এই প্রচণ্ড গরমে আর্দ্রতা কমিয়ে ঘর শীতল করতেও ইনডোর প্ল্যান্টের জুড়ি নেই। ব্যস্ত জীবনে সবুজায়নের সেরা উপায়। আসবাব যেমনই হোক, ঘরের এক কোণে একটি গাছ মুহূর্তে পাল্টে দেবে লুক। লিখছেন শর্মিষ্ঠা ঘোষ চক্রবর্তী

Must read

বাড়ির সৌন্দর্যায়ন এবং সবুজায়নের সেরা উপায় অন্দরগাছ। ব্যস্ত-জীবনে সবুজের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। অন্দরগাছ শুধু বাড়ির শোভা বাড়ায় না অভ্যন্তরীণ দূষণ বা ইনডোর, পলিউশন থেকেও বাড়িকে সুরক্ষিত রাখে। কিছু কিছু গাছ আছে যেগুলো বাড়িতে রাখলে ঘরের অভ্যন্তরীণ দূষণমুক্ত হয়। আবার, এমন অনেক গাছ রয়েছে যা ছোট হোক বা বড়— পুরো বাড়ির বাতাসকে করে পরিশুদ্ধ করে। এই প্রচণ্ড গরমে আর্দ্রতা মোচন করে ফলে ঘরের উত্তাপ কমে ফলে ঠান্ডা থাকে বাড়ি। আবার এমন অনেক প্ল্যান্ট রয়েছে যেগুলো সারা ঘরে পজিটিভ ভাইব্রেশন ছড়িয়ে রাখে। ইনডোর প্ল্যান্ট, কিচেন গার্ডেন এগুলো ভীষণ ইন থিং। হোম ডেকরেশনের অঙ্গ। ঘুম থেকে উঠে চোখ আর মন সবুজে ভরে থাকে এইসব ইনডোর প্ল্যান্টের কারণে।

আরও পড়ুন-জবাব দিচ্ছে জনস্রোত, প্ররোচনা-গন্ডগোলে জড়াবেন না

গাছ দিয়ে অন্দরসাজের আগে প্রথমেই জানতে হবে কী কী গাছ শুধু বাড়ির ভিতরেই রাখা যায় অর্থাৎ কোন গাছের সূর্যের আলোর তেমন প্রয়োজন হয় না। তার মধ্যে উল্লেখ্য হল পিস লিলি, বাম্বু প্লাম, মানিপ্ল্যান্ট।
আগলোনিমা, পিঙ্ক বিউটি, ব্রোমেলিয়াড, ফিলোডেনড্রন, স্নেক প্লান্ট, পাইলিয়া, ইংলিশ আইভি, অ্যারাবিকা কফি প্ল্যান্ট, স্ট্রং অফ পার্লস, ক্যাকটি, জেড প্ল্যান্ট, আন্থুরিয়াম প্ল্যান্ট, সানস্যাভেরিয়া, ড্রাসিনা— শেষ হবে না তালিকা। এরা কিন্তু শুধু সৌন্দর্যবৃদ্ধিই করে না আরও অনেক দায়িত্ব পালন করে।
বাগান করার শখ হলেও অনেকেই বাগান করতে পারেন না জায়গার এবং সময়ের অভাবে। তাই ছোট পরিসরের ফ্ল্যাটের ভিতরে অনেকেই গাছ রাখছেন অর্থাৎ ইনডোর প্ল্যান্টে সাজিয়ে তুলছেন ঘর।

আরও পড়ুন-নন্দীগ্রামে বিজেপির তিনবারের প্রার্থী, তৃণমূলে যোগ দিয়ে গদ্দারকে তোপ

দৃষ্টিসুখের শুরু হোক ঘরের দরজা দিয়ে। সেখানে একটা গাছ রাখতে পারেন একটু মাপে বড় প্ল্যান্ট হলে দেখতে ভাল লাগবে। পাতাবাহার, অর্কিড, এরিকা পাম— এই ধরনের গাছ দরজার পাশে বা লিভিং রুমের কর্নারের জন্য বেশ ভাল।
এখন জানালার কার্নিশে অনেকে আগে থাকতেই টব রাখার প্রবিশন করে রাখেন। পরপর সারি বেঁধে ছোট্ট ছোট্ট সেরামিকের পটের মধ্যে মূল টবশুদ্ধু গাছ বসিয়ে ডেকরেশন করতে পারেন। লম্বা বড় জানলার ভিতরে দিকে চওড়া বসার স্পেস ইনডোর প্ল্যান্টের জন্য আদর্শ। ওই জায়গাগুলোতে অল্প রোদে বাঁচে এমন প্ল্যান্ট রাখা যেতে পারে।
প্ল্যান্ট দিয়ে যখনই ঘর সাজানোর কথা ভাবছেন, একমাপের গাছ বাছাই করবেন না এতে ইউনিফর্ম লাগবে দেখতে। তার পরিবর্তে সাইজ ছোট-বড়-মাঝারি এমন ভাবে বাছুন যাতে অনেক বেশি অর্গানিক লুক আসবে।

আরও পড়ুন-দিনের কবিতা

যে-গাছগুলি বেছে নেবেন তাদের লুকটা যেন আলাদা হয়। বিশেষ করে পাতার শেপ আলাদা আলাদা হলে বৈচিত্র আসবে অর্থাৎ এক রকমের গাছ বা এক-দেখতে পাতাবাহার গাছ রাখবেন না।
ইনডোর প্ল্যান্টের কালারও একটা বড় ফ্যাক্টর। পাতাবাহার গাছের পাতার রঙে খুব বৈচিত্র থাকে সেই রং দেখে দেওয়ালের রঙের সঙ্গে কনট্রাস্ট করে সাজাতে পারেন। কোনও একটা দেওয়ালে একটা উডেন প্ল্যান্ট র‍্যাক রাখা যেতে পারে। রুমের সঙ্গে অ্যাটাচড ব্যালকনিতে শেড করা অংশে হ্যাঙ্গিং ইনডোর প্ল্যান্ট রাখলে সুন্দর লাগবে।
ইনডোর প্ল্যান্ট দিয়ে মুহূর্তে ঘরকে এলিগ্যান্ট লুক দেওয়ার সবচেয়ে জরুরি উপকরণ পট। অর্থাৎ যে পটের মধ্যে গাছগুলো থাকবে। এখন পটের বহু বৈচিত্র। হ্যান্ডমেড ডেকরেটিভ পট, সেরামিক, গ্লাস, উডেন বা রট আয়রনের বিভিন্ন পট কিনে তার মধ্যে টব-সমেত গাছ রাখলে অনেক কম পরিশ্রমে হবে কাজ সারা।

আরও পড়ুন-বিরাট-রাহানের ব্যাটে বেঁচে স্বপ্ন

অনেকে বাস্তু মেনেও ঘরে ইনডোর প্ল্যান্ট রাখেন। বাস্তুর জন্য যেসব ইনডোর প্ল্যান্ট সুপরিচিত সেগুলো হল লাকি বাম্বু প্ল্যান্ট, স্নেক প্ল্যান্ট, রাবার প্ল্যান্ট, জেড, অ্যালোভেরা এবং পিস লিলি। অ্যালোভেরা এবং স্নেক প্ল্যান্ট শোয়ার ঘরে জন্য উপযোগী।
এইসব রোজকার যত্নের মূল উপকরণ হল জল, কারণ গাছের ময়েশ্চারাইজেশন দরকার। তবে মাটি অতিরিক্ত ভেজা বা শুকনো যেন না হয় তাহলে গাছ বৃদ্ধিতে বাধা পাবে। গাছ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। পটের জলের ড্রেনেজ সিস্টেম ভাল রাখা দরকার। যাতে গাছের গোড়ায় জল না জমে আবার জল লিক করে ঘরের হাল খারাপ না হয়। পটের নিচে জল নিকাশি ফুটো ঠিকঠাক আছে কি না দেখে নিয়ে তলায় একটা করে কানা উঁচু সেরামিক প্লেট রেখে দেওয়া যেতে পারে।

আরও পড়ুন-মুখ্যমন্ত্রীর মানবিক মুখ দেখে অভিভূত স্বামীহারা সুলতানা

গাছ রাখার আলাদা স্ট্যান্ড কিনে তার মধ্যে রাখা যেতে পারে ইনডোর প্ল্যান্টগুলি। মূলত ঘরের কোণাগুলোতে প্ল্যান্ট রেখে কোজি লুক দেওয়া যেতে পারে। লিভিং রুমে ইনডোর প্ল্যান্ট রাখতে হলে ওপেন শেলভে রাখুন। দেখতে অনেকটা বিস্তৃত লাগবে।
লিভিং রুমের কোনও একটা কর্নারে শেল্ফের উপরে এমন একটা প্লান্ট রাখুন যার স্ট্রিংগুলো নিচের দিকে নামবে। কফি টেবলের উপর একটা ছোট্ট ইনডোর প্ল্যান্ট রাখা যেতে পারে।
বাড়িতে অব্যবহার্য বারকার্ট থাকলে সেটাকে ইনডোর প্ল্যান্ট-স্ট্যান্ড করে নিতে পারেন। দরকারে সেই স্ট্যান্ড সরিয়ে প্রতিটা রুমেই রাখা যেতে পারে এতে ঘরের সাজে একটু রদবদল আসবে।
স্পাইডার প্ল্যান্ট খুব সুন্দর লাগে ঘরে রাখলে। মুহূর্তে চেহারা পাল্টে যায় ঘরের।

আরও পড়ুন-শিশু দত্তকে সতর্কতা

সানসাভেরিয়া ইদানীং ইন্টিরিয়র ডেকরেশনের বাজারে খুব জনপ্রিয়। Mother-in-Law’s Tounge নামেও পরিচিত। খুবই হার্ডি গাছ। এক সপ্তাহ জল দিতে ভুলে গেলেও কোনও সমস্যা নেই। আর বেশ অন্যরকম দেখতে।
মনস্টেরা বড় বড় পাতার এই গাছ এখন ইন্টিরিয়র ডিজাইনারদের প্রথম পছন্দ। মনস্টেরা বড় হতে একটু সময় লাগে কিন্তু বড় হলে তার আসল রূপ বোঝা যায়। মুহূর্তে বাড়িয়ে তোলে ঘরের সৌন্দর্য।
জারবেরা ডেইজি সৌন্দর্য বাড়াতে অনবদ্য। এর বিপুল পরিমাণ অক্সিজেন উৎপাদন ক্ষমতা এবং বাতাস থেকে দূষিতকণা দূর করার ক্ষমতা অপরিসীম। তবে এর জন্য শীতকাল ছাড়া সারা বছরই পর্যাপ্ত সূর্যরশ্মি প্রয়োজন হয়। ভাল করে জল দিতে হয়। বেডরুম এই গাছ রাখার আদর্শ জায়গা।
মানি প্ল্যান্ট বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে খুব কার্যকরী। ঘরে মানি প্ল্যান্ট থাকলে ঘরে ইতিবাচক শক্তির উদ্ভব হয়। হাতে টাকাকড়ি আসে। ঘরের বাতাসে থাকা বিষাক্ত পদার্থ শোষণ করে ফেলে। দূষণ রোধ করে পজিটিভ এনার্জি দেয়। সৌন্দর্যও বাড়ায়। এ ছাড়া চাইনিজ এভারগ্রিন, এরিকা পাম, স্নেক প্ল্যান্ট— এরা দূষণ-রোধে অনবদ্য।

আরও পড়ুন-আলকারেজের জন্য মন খারাপ জকোর

কিচেনে সবজি ফলিয়ে আজকাল অবাক করে দিচ্ছেন অনেকে। বহু নামী বলিউডি তারকারা বাড়িতে কিচেন গার্ডেন তৈরি করেছেন। কিচেন গার্ডেন বানাতে হলে মাথায় রাখতে হবে, যত ছোট জায়গাতেই সবজি লাগান না কেন, সেখানে যেন পর্যাপ্ত রোদ পৌঁছয়। জলনিকাশি ব্যবস্থাও ভাল থাকতে হবে। শাক-সবজিতে কীটনাশক ছড়ানোর ফলে মানবজাতির যে ক্ষতি হচ্ছে প্রতিনিয়ত তার জেরে অনেকেরই এই অরগানিক সবজি ভরসা। কিচেন গার্ডেনে করা যেতে পারে টমেটো, পেঁয়াজকলি, লেটুস, লঙ্কা, ধনেপাতা, উচ্ছে, বেগুন, আলু ইত্যাদি দিয়ে।

 

Latest article